বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন: চলছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার প্রতিযোগিতা

প্রতিবেদকের নাম / ৭ শেয়ার
প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

0Shares

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন: চলছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার প্রতিযোগিতা

গাজীপুর জার্নাল ডেস্কঃ

    ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পোস্টার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। 

এ নির্বাচনি এলাকার রাস্তা-ঘাট, উল্লেখযোগ্য মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ছেয়ে গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ আর সমর্থকদের ‘অমুক ভাইকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই’ পোস্টারে।

এর পাশাপাশি সমানতালে যে-যার জায়গা থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন তদবির-লবিং। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রচারণা শুরু হয়েছে এ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রয়াণের দিন থেকেই।

যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে যেমন কোনও তৎপরতা শুরু হয়নি, তেমনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও নেই কোনও ভাবনা-চিন্তা। কিন্তু জোরসে চলছে মনোনয়ন প্রার্থীদের ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের কোনও তৎপরতা নেই, নেই কোনও আলোচনা। এ নিয়ে দলীয় ফোরামে বা অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও কোনও কথা হয়নি এখন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এর কোনও আলামত নেই। দলের কোনও পর্যায়ে এ নিয়ে কথা হয়নি।’

দেখা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়েও নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৫ আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

একই সঙ্গে বড় বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিসহ সব স্থান পোস্টারের দখলে। আর এর বাইরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ নিজ পছন্দের সম্ভাব্য নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সমর্থকরা।

ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকায় দেখা গেছে, এই আসনে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল মনোনয়ন চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। সাঁটিয়েছেন ব্যানারও।

জাতির জনক ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবির পাশাপাশি তার ছবি শোভা পাচ্ছে এসব পোস্টার-ব্যানারে।

সজল গণমাধ্যমকে জানান, তার বাবার শূন্যস্থানে তিনি কাজ করতে আগ্রহী। দলে অবদান, ত্যাগ ও এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে দল এ আসনে প্রার্থী মনোনীত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, দলের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই।’

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না। তার কর্মী ও সমর্থকরা ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়েছেন।

তারা পোস্টারে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে হারুনর রশিদ মুন্না ভাইকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।’

ঢাকা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি। তার পক্ষে মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানায় পোস্টার টাঙিয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা।

‘কামরুল হাসান রিপন ভালো লোক/ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে জয়ের মালা তারই হোক’ শীর্ষক ব্যানার-ফেস্টুনেও ছেয়ে আছে এই এলাকার রাজপথ।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান হাজী আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও যাত্রাবাড়ীর আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাকিব ভূঁইয়া।

ইতোমধ্যে ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকার অলিগলি ছাড়িয়ে রাজপথের দুইধারে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে তার সমর্থকদের সাঁটানো নির্বাচনি পোস্টার।

এছাড়া ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ।

মাসুদের কর্মী-সমর্থকরা তার মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়ে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ ভাইকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই।’

এছাড়া একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মুন।

এলাকার অলিগলিসহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের ছোট ভাইয়ের মেয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি।

ইতোমধ্যে তার কর্মী-সমর্থকরা পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে মাতুয়াইলের কৃতী সন্তান নেহরীন মোস্তফা দিশি আপাকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কোনও আসন শূন্য হলে সেটাতে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা নানা মাধ্যমে তা প্রকাশ করবে, সেটাই স্বাভাবিক।

তবে, নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে বা তফসিল ঘোষণা করার পরই দল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানায় এবং সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে এবারও নিশ্চয় সেই প্রক্রিয়া-ই অনুসরণ করা হবে।’

গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রয়াণে এ নির্বাচনি আসনটি খালি হয়। পরে গত ২০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-৫ ও পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া করোনাকালে অনুষ্ঠিত অন্যান্য উপনির্বাচনের মতো সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনও পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আলমগীর।

কিন্তু এখনও এসব আসনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও নির্বাচনী মাঠে সরোব ও সক্রিয় অসংখ্য সম্ভাব্য প্রার্থিরা।

0Shares


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর