নিজ উদ্যোগে সারাদেশে দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে বিএনপি

কভিড-১৯ সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এরই মধ্যে সরকার অবশ্য শর্তসাপেক্ষে লকডাউন খুলে দিয়েছিল। সীমিতভাবে চলতে শুরু করেছিল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম। তবে গতকাল থেকে রাজধানীতে এবং বৃহস্পতিবার থেকে দেশের রেড এলার্ট ঘোষিত অঞ্চল গুলোতে আবার লক ডাউন করা হচ্ছে। তবে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে প্রায় তিন মাস ধরে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “চলমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য লকডাউন খোলা হবে না।

তবে আমরা কিন্তু বসে নেই। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকেই নিজ নিজ সাধ্যমতো প্রায় দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছি আমরা। ভার্চুয়ালের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি মানুষের কাছে। দিবসভিত্তিক কর্মকান্ডও চলছে আমাদের। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীও আমরা পালন করেছি।

তবে সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে চরম ভুল করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। এতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। “

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব এখন নিরুপায়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কে কখন আক্রান্ত হয় বলা যায় না। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। দলীয় ফোরামে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের দেশেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। তাই সময় আরও বাড়ানো হতে পারে।”

জানা যায়, জনসমাগম এড়িয়ে দলীয় সভা-সমাবেশ স্থগিতের পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় কোনো শোডাউন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ২২ মার্চ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- “দেশব্যাপী বিএনপির সব পর্যায়ের চলমান কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ” এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করেন জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাফর আলী মিয়া। এক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহান্দার আলী জাহানের অনুমোদনও নেননি তিনি। পরে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রে অভিযোগ করলে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিএনপির হাইকমান্ড।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে সবকিছু করছেন
করোনার শুরুতেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। নেতা-কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে রয়েছে। হয়তো আমরা সাংগঠনিক কাজের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ, কমিটি গঠন করছি না। কিন্তু জনগণের পাশে থাকাও সাংগঠনিক কাজের অংশ।”