নিস্তব্ধ পৃথিবী, এক সোনালী সকালের অপেক্ষায়

শাকির হোসাইন সরকারঃ

ঘরের কোণায় বন্দী হাজারো স্বপ্ন। আনমনে বসে ভাবছি মুক্ত বিহঙ্গের মতো কাটানো দিনগুলো। ওইতো সেদিন পুরো পৃথিবী ছিলো আমার জন্য অবাধ বিচরণ কেন্দ্র। একটুখানি কালো ধোঁয়ার আবির্ভাব যেন আমাকে আচ্ছাদিত করে খাঁচায় বন্দী করে ফেললো। আপনি বলুন, মুক্ত বাতাসে ডানা ঝাপটানো আমি কি করে পিঞ্জরে আবদ্ধ রই? যে আমার অভ্যাস হলো কুরে কুরে খাবার খাওয়া,সেই আমি কি করে প্রস্তুত করা আহার করি? সবুজ বৃক্ষের ডালে বসে মনের আনন্দে প্রেমের গান করা যার স্বভাব, সে কি করে বন্দী খাঁচায় বিরহের গান গায়? গাছের ডালে বাসা বাঁধা যার স্বভাব, সিংহাসন তার কাছে বড্ড বেমানান। বস্ত্রহীনতাই যার পছন্দ, রেশমি কাপড় তার কাছে বিলাসিতা। শুন্যতা যার অলংকার, স্বর্ণ তার কাছে মূল্যহীন।

করোনা নামক অনুজীবটি যেন আমাদেরকে এমনই একটা পরিস্থিতিতে ফেলেছে। মানুষের সহজাত আচরণকে প্রভাবিত করেই চলেছে। সারা বিশ্ব যেন আজ একটি খাঁচায় বন্দী। অমাবস্যার সুদীর্ঘ এক কালরাত যেন ছেয়ে নিয়েছে বিশ্বটাকে। পৃথিবীটা আজ অঝোরে কাঁদছে অজানা এক আতঙ্কে। এই অমবস্যায় বুঝি বিলীন হয়ে যায় মনুষ্য জাতির অস্তিত্ব! “ঘরই থাকুন” স্লোগানে মুখরিত পুরো বিশ্ব। তবে ঘরে থাকা যে সবার কাছে এত সহজ নয়। দৈনিক রোজগারে যার পেটে আহার যায় তার কাছে অন্যহীন লকডাউন এক মৃত্যুরোগের নাম। আপনি জানেন? এমন অনেক মানুষ আছে যাদেরকে “ঘরেই থাকুন” স্লোগানটি শোনাতে আমার লজ্জা হয়। বলতেও পারিনি কখনও সচেতনতার নামে এই স্লোগানটি। সল্প ত্রানে এই পরিবারগুলোর আর কটা দিনই বা চলে! ক্ষুধা নিবারনের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় তারা হয়তো ভুলেই যায় এই মহামারীর কথা।

আকাশে মেঘ থাকলে বৃষ্টি হয় এটা সত্য তবে এই মেঘের উপস্থিতি কতক্ষণ? এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষা মাত্র। অমাবস্যার রাতের অন্ধকার সত্য তবে এর স্থায়িত্ব কতক্ষণ? একটা ঝলমলে পূর্নিমার চাঁদের অপেক্ষা মাত্র। করোনা নামক আতঙ্কের যৌবনেও একদিন ভাটা পরবে ইনশাআল্লাহ। আমরা পাবো এক সোনালী সকাল। সেই সোনালী সকালের অপেক্ষায় রইলাম।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।