বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

শফিক আহমেদ ভূইয়া / ৫২৪ শেয়ার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০, ২:১৩ অপরাহ্ণ

0Shares

আওয়ামী লীগ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে পুরানো এবং সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল, যে দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে এ দলটিই সর্বোচ্চ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, আর স্বাধীনতার মহান সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়।

এটি যেমনি দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয়, তেমনি আওয়ামী লীগের জন্যও ইতিহাস হয়ে রইলো, কিন্তু আশঙ্কা এবং ভীতির বিষয় হচ্ছে, দলের এই সুবর্ণ সুসময়ে ব্যক্তিপর্যায়ে যেমন অনেক সুযোগসন্ধানী এবং সুবিধাবাদীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে দলটিতে, তেমনি দলের বা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে অসংখ্য ভুঁইফোঁড় সংগঠনের জন্ম হয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের সংখ্যা হবে শতাধিক!
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেসব সংগঠনের কোনো বৈধতা নেই, সমগ্র বাংলাদেশে এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠন আছে অনেক।
অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সহযোগী সংগঠন হচ্ছে মাত্র (৯) নয়টি।

এর বাইরে অন্য যা কিছু হবে সবই ধান্দাবাজি ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এদের কাজই হচ্ছে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, তদবির করা ও বিভিন্নভাবে সুবিধা নেয়া। অথচ দল বিরোধী দলে থাকাকালীন বা দলের দুঃসময়ে এদের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া ছিলো দুষ্কর।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সহযোগী সংগঠন হচ্ছে নয়টি। যা দলের গঠনতন্ত্রের ২৫-এর (২) ধারাতে ‘সহযোগী সংগঠন’ শিরোনামে উল্লেখ রয়েছে। সে (০৯) নয়টি সংগঠন হচ্ছে–

(গঠনতন্ত্রের ধারায় ক্রমানুসারে

০১. বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ
০২. বাংলাদেশ কৃষক লীগ
০৩. বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
০৪. আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ
০৫. আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ
০৬. বাংলাদেশ তাঁতীলীগ
০৭. বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ

আর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন (০২) দুটি তাদের স্ব-স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে।

০৮. জাতীয় শ্রমিক লীগ
০৯. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের উক্ত ২৫-এর ২ ধারাতে এভাবেই উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু সারাদেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলাতে ভূঁইফোড় সংগঠন খোলে লাখ লাখ টাকার অর্থ বানিজ্য করে যাচ্ছে একটি চক্র।

যেসব সংগঠনের নামে কমিটি বানিজ্য করা হয় : আওয়ামী তরুণ লীগ, রিক্সা শ্রমিক লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মোটর শ্রমিক লীগ, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী ওলামা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, পরিবহন শ্রমিক লীগ, অটোরিক্সা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ ইত্যাদি।

এসব সংগঠনের নেতৃত্বে যাদের দেখা যায়, তাদের পরিবারের বর্তমান বা পূর্বপুরুষদের কেউ আওয়ামী লীগ করেছে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
তারপরও এখন যারা এসব সংগঠন করছে, তাদেরকেও যদি বিগতদিনে দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যেতো তাতেও হয়তো কারো তেমন কোনো আপত্তি থাকতো না।
কিন্তু দেখা গেলো যে, এদের কারো ১৯৯৬ সালে আবার কারো ২০০৯ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এরা চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও তদবির বাণিজ্য করে থাকে।

অনেকে সরকারি জমি দখল এবং অবৈধ ব্যবসা বেশ রমরমাভাবে করছেন।
এসব দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এরা প্রশাসন থেকে সুবিধা এবং আনুকূল্য পেয়ে থাকে।
দেখা গেছে যে, মাঠপর্যায়ে এরাই সাধারণ মানুষের উপর নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন এবং হয়রানি করে থাকে।

এদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে চিন্হিত করে এর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া বলে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক সভাপতি মন্ডলির সদস্য জানান, ভুঁইফোড় সংগঠনগোলোর হওয়ার মূল কারন ছাত্রলীগ সহ অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর ইউনিয়ন-উপজেলায় দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়াতে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে নয়টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে, এর বাইরে অন্য কোনো ভুঁইফোঁড় সংগঠনকে যেনো দলের কেহ প্রশ্রয় না দেয়।

0Shares


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর