Categories
আমার কৃষক

দেশে ‘লাম্পি’ রোগের প্রাদুর্ভাব, আতঙ্কে কৃষক ‘লাম্পি’

নিজস্ব প্রতিবেদক :
একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। রোগটি মারাত্মক ছোঁয়াচে। এ কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে।
নেত্রকোনার ফলে স্থানীয় কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। নেত্রকোনা ছাড়াও দেশের ভিবিন্ন জায়গা রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যে।

স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘লাম্পি’ একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। রোগটি মারাত্মক ছোঁয়াচে। এ কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সময়মতো ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সেরে উঠবে। আগে কখনও এমন প্রাদুর্ভাব দেখা না দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা প্রথমে রোগটি চিনতে পারেনি। পরে আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রোগটি শনাক্ত করেন।
খরমুহরি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন, রামপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং সামছু মিয়া তাদের আক্রান্ত গরুর লক্ষণ বর্ণনা করে জানান, প্রথমে গরু জ্বরে আক্রান্ত হয়। জ্বরের সঙ্গে মুখ এবং নাক দিয়ে লালা আসে। শরীরের চামড়ায় গুটি বা পি- আকৃতির ক্ষত ধারণ করে এবং লোম উঠতে থাকে। ক্ষতগুলো ক্রমশ মুখ এবং পাসহ শরীরের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।এ সময় আক্রান্ত গরু মুখে কোনো খাবার নিতে চায় না। এক পর্যায়ে গরুগুলো মারাত্মক দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

ছিলিমপুর গ্রামের বিপুল মিয়া জানান, তার খামারের অন্তত ১০টি গরুর এমন লক্ষণ দেখা দিয়েছে। কেন্দুয়ার পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়ও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

কান্দিউড়া গ্রামের আক্কাছ মিয়া ও নোয়াদিয়া গ্রামের জুলহাস মিয়া জানান, তাদের নিজের গরুসহ গ্রাম দু’টির আরও অনেকের গরু বিরল এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমদিকে অনেকে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে গরুকে খাইয়েছেন। এতে অনেকের দুই-তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচও হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তী সময়ে তারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ করেন।

কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খুরশিদ দেলোয়ার লাম্পি রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা স্বীকার করে বলেন, এটি মূলত ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। এক প্রকার পক্স ভাইরাস বা এলএসডি ভাইরাসের সংক্রমণে গবাদিপশুতে এ রোগ দেখা দেয়; যা এক গরু থেকে আরেক গরুতে দ্রুত ছড়িয়ে পরে।

রোগের লক্ষণ : এল এস ডি আক্রান্ত গরু শুরু থেকে যে লক্ষণ প্রকাশ করে যা আক্রান্তের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে দেখা যায় :

১. জ্বর : আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাবার রুচি কমে যায়।

২. লালাক্ষরণ : জ্বরের সাথে সাথে মুখ দিয়ে এবং নাক দিয়ে লালা বের হয়।পা ফুলে যায়। সামনের দু “পায়‌ের মাঝ স্থান পান‌ি জমে যায়।

৩. শরীরের বিভিন্ন জায়গা চামড়া পিন্ড আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্ট হয়। ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষত শরীরের অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়ে।

৪. ক্ষত মুখের মধ্যে , পায়ে এবং অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫. ক্ষত স্থান থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীর‌ে ক‌োথায় ফুল‌ে যায় যা ফেট‌ে টুকরা মাংশের মত ব‌ের হয়‌ে ক্ষত হয় , পুঁজ কষান‌ি বের হয়।

৬. পাকস্থলী অথবা মুখের ভিতরে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে গরু পানি পানে অনীহা প্রকাশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ কমে যায়।

কিভাবে ছড়ায় : লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে রোগটি অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম গুলো হচ্ছে :

১. মশা ও মাছি : এই রোগের ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসাবে মশা মাছিকে দায়ী করা হয়। অন্যান্য কিট পতঙ্গের মাধ্যমেও ভাইরাসটি আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২. লালা : আক্রান্ত গরুর লালা খাবারের মাধ্যমে অথবা খামারে কাজ করা মানুষের কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়াতে পারে।

৩. দুধ : যেহেতু আক্রান্ত গভীর দুধে এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে তাই আক্রান্ত গভীর দুধ খেয়ে বাছুর দুধ খেয়ে আক্রান্ত হতে পারে।

৪. সিরিঞ্জ : আক্রান্ত গরুতে ব্যবহার করা সিরিঞ্জ থেকে এই ভাইরাস বাহিত হতে পারে।

৫. রক্ষণাবেক্ষণকারী : খামারে কাজ করা মানুষের পোশাকের মাধ্যমে আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৬. আক্রান্ত গরুর সিমেন : ভাইরাস আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন এই রোগের অন্যতম বাহন কারণ আক্রান্ত গরুর সিমেনেও এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে।
৭. শুধু মাত্র গরু মহিষ আক্রান্ত হয়, মানুষ হয় না।

প্রতিকার : যেকোন রোগের চিকিতসার চেয়ে প্রতিকার সব সময় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

১. আক্রান্ত গরুকে নিয়মিত এল এস ডি ভ্যাকসিন দেয়া। আমাদের দেশে ইতিপূর্বে রোগটির প্রাদুর্ভাব কম দেখা গেছে তাই এই রোগের ভ্যাকসিন সহজলভ্য নয়।

২. খামারের ভিতরের এবং আসে পাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যেন মশা মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৩. আক্রান্ত খামারে যাতায়ত বন্ধ করা এবং আক্রান্ত খামার থেকে আনা কোন সামগ্রী ব্যবহার না করা।

৪. আক্রান্ত গরুকে শেড থেকে আলাদা স্থানে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা মশা মাছি কামড়াতে না পারে। কারণ আক্রান্ত গরুকে কামড়ানো মশা মাছি সুষ্ঠ গরুকে কামড়ালে এই রোগের সংকরণ হতে পারে।

৫. আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খেতে না দিয়ে ফেলে দিয়ে মাটি চাপা দেয়া।

৬. আক্রান্ত গরুর পরিচর্যা শেষে একই পোশাকে সুষ্ঠ গরুর মধ্যে প্রবেশ না করা।

৭. আক্রান্ত গরুর খাবার বা ব্যবহার্য কোনো জিনিস সুষ্ঠ গরুর কাছে না আনা।

৮. ক্ষত স্থান টিনচার আয়োডিন মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার রাখা।

চিকিৎসা : এল এস ডি আক্রান্তের লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিতসার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিনই কৃষকরা আক্রান্ত গরু নিয়ে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে আসছেন। আক্রান্ত গরুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

Categories
আমার কৃষক জাতীয়

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পাবে ১০ লাখ,প্রান্তিক কৃষক ৭৫ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে টাকার প্রবাহ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য একক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।

যেসব সদস্যের এককভাবে ঋণ নেয়ার সক্ষমতা নেই, তাদের গ্রুপভিত্তিক ঋণ দেয়া হবে। কমপক্ষে ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে তাদের দেয়া হবে তিন লাখ টাকা ঋণ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এককভাবে পাবে ১০ লাখ টাকার ঋণ। ৫ সদস্যের গ্রুপ হলে দেয়া হবে ৩০ লাখ টাকা।

নিম্নআয়ের পেশাজীবী, প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে এ ঋণ দেয়া হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে এ তহবিল গঠন করেছে।

এ তহবিল থেকে মাঠপর্যায়ের ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হবে। এ জন্য ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) একটি নীতিমালা তৈরি করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঋণ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

ওই তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে ১ শতাংশ সুদে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণ করবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে। এর বিপরীতে অন্য কোনো চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালক ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন বলেন, করোনার প্রভাবে মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যদের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।

তাদের সংকট মোকাবেলায় যেমন নতুন ঋণ দেয়া হচ্ছে, তেমনি সদস্যরা চাইলে তাদের জমানো আমানতও তুলে নিতে পারছেন। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিলের বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাঠপর্যায়ে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়া হবে। এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ঋণের চাহিদা বেশি হলে তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হবে।

এমআরএ সূত্র জানায়, তহবিল থেকে যে কোনো ব্যক্তি বা উদ্যোক্তা ঋণ নিতে পারবেন। গ্রুপের বেশি সদস্য হলে বাড়তি ঋণ দেয়া যাবে। যে কোনো ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যে কোনো একটি প্যাকেজের আওতায় ঋণ নিতে পারবেন।

এনজিওগুলো যে তহবিল পাবে তার ৭৫ শতাংশ দিতে হবে এককভাবে ব্যক্তি ক্ষুদ্রঋণ খাতে। বাকি ২৫ শতাংশ দিতে হবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড হবে তিন মাস। ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যায়ে হবে ২ বছর।

দেশে এমআরএ নিবন্ধিত ৬৭ হাজার ৩৯০টি ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা প্রায় ৪ কোটি দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই নারী। মাঠপর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের স্থিতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। সদস্যদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ২৭ হাজার কোটি টাকা।

Categories
আমার কৃষক দেশ

প্রেমিকার জন্য ‘নকশীকাঁথা’ ক্ষেত সাজিয়েছেন কৃষক কাদির

মানসিক ভাবনা আর ভালোবাসার নিদর্শনের রূপ মাঠে ফুটিয়ে তুলেছেন সৃষ্টিশীল মনের অধিকারী কৃষক আব্দুল কাদির (৪০)। ৩৫ শতক জমিতে শৈল্পিক বুননে ফসলের মাঠকে করে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন। প্রতিদিন শত শত মানুষ কৃষক কাদিরের ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন।

এই কৃষকের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াখলাবলা গ্রামে। তিনি হাজী তারা মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র। সরেজমিন মাঠে গিয়ে কৃষক কাদিরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তার গ্রামে একটি ’বন্ধুমহল’ ডিজিটাল ক্লাব আছে। তিনি সেই ক্লাবের উপদেষ্টা সদস্য। ক্লাবের সদস্যরা তার কাছে ডিজিটাল পদ্ধতির কিছু করে দেখানোর জন্য আবদার করে। ক্লাবের সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করতে লাগলেন কি করা যায়। হঠাৎ তার মাথায় এলো স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া রবি শস্য সরিষার প্রদর্শনী প্লটে চিত্রকলার আলোকে বীজ বপন করে কিছু নতুনত্ব সৃষ্টি করা যায় কি না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাবের সদস্যদের সহায়তায় ৩৫শতক জমিতে হাল চাষ করে জমির বুকে চিত্রাংকন করেন। তারপর চিত্ররেখার মাঝে বারী-১৫ জাতের সরিষা বীজ বপন করেন। জমিতে সেই বীজ গজানোর পর পুরো ক্ষেত যেন জীবন্ত ছবির রূপ ধারণ করে। ‘বন্ধুমহল’ ক্লাবের সদস্যরা ক্ষেতের নাম দিয়েছেন ‘নকশী কাঁথার মাঠ’। ফসলের এই কারুকার্যময় চিত্ররূপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ ক্ষেতের পাশে ভিড় করছেন।

ক্ষেত ঘুরে দেখা যায় দুপাশে রয়েছে দুটি নৌকা, জাতীয় ফুল শাপলা, চার কোণে চারটি লাভ চিহ্ন এবং ক্ষেতের মধ্যখানে একটি বড় লাভ চিহ্ন। যার ভিতরে রয়েছে কৃষক আব্দুল কাদিরের নাম। জমিতে এই নান্দনিক ছবি আঁকার পেছনে যুক্তি কি? জানতে চাইলে কাদির বলেন, ‘নৌকা আমি ভালোবাসি। নৌকা হলো আমার প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ও গণমানুষের প্রতীক। শাপলা হলো আমাদের জাতীয় ফুল। ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই শাপলা আঁকা।

ক্ষেতের চার কোণে ও মধ্য ভাগে লাভ চিহ্ন আঁকার ব্যপারে জিজ্ঞাস করা হলে কাদির হেসে বলেন, ‘এর পেছনে একটি মজার গল্প রয়েছে। গল্পটি হলো কিশোর বয়সে উপজেলার সোহাগী গ্রামের এক কিশোরীর প্রেমে পড়েছিলাম। তখন সেই প্রেমের সেতু বন্ধন রচিত হয়েছিল চিঠির মাধ্যমে। প্রেমিকা আমাকে যখন চিঠি লিখতো তখন চিঠির চার কোণে চারটি এবং মাঝখানে একটি বড় লাভ চিহ্ন এঁকে দিতো। লাভ চিহ্নের ভেতরে লেখা থাকতো প্রেমিকার ও আমার নাম। কিশোর বয়সের সেই লাভ চিহ্নকে ফসলের জমিতে ফুঁটিয়ে তুলে ভালোবাসার প্রতি সম্মান দেখালাম।

আমার প্রেমিকার নাম মকসুদা বেগম। ভালোবেসে তাকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছি। আমাদের সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মাকসুদা আমার কাছে মমতাজের মত। সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ পৃথিবী বিখ্যাত সুরম্য তাজমহল তৈরী করেছিলেন। আমি গরীব, আমার সামর্থ্য নেই, কিন্তু আমার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই। তাই তাজমহল বানাতে না পারলেও জমিতে সেই লাভ চিহ্নের নকশা এঁকে প্রেমের নিদর্শন হিসেবে প্রেয়সীকে লেখা চিঠির মতোই নিজের জমিতে প্রেমপত্র এঁকেছি।

কৃষক আব্দুল কাদির আরও জানান, ‘জমিতে দৃষ্টিনন্দন ফসল ফলানোর পর মানুষের কৌতূহল দেখে ক্লাবের সদস্যরাও আমার ক্ষেতের আদলে তারাও ফসল আবাদের প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। গ্রামের যুবকরা বাজে নেশা ছেড়ে যদি কৃষিকাজে মনোযোগী হয়ে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয় তাহলেই আমার প্রয়াস স্বার্থক হবে বলে মনে করি। এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার বলেন, কৃষক আবদুল কাদির মানসিক ভাবনার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন নিজের ফসলের মাঠে। তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।’সূত্র: ইত্তেফাক

Categories
আমার কৃষক সারা দেশ

আমন ধানের বাম্পার ফলন : দামে হতাশ কৃষক

হেমন্তের মৃদু বাতাসে সোনালি শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠে নতুন ফসলের ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে পাকা আমন ধান। চলতি মৌসুমের ধান ঘরে তুলতে কাটা-মাড়াইয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণীরা। ক’দিন পরেই নতুন ধানে ভরে উঠবে তাদের গোলা।

এবছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঠের প্রায় ৯০ ভাগ আমন ধান পেকে গেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটার কাজও। তবে, আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে কৃষকদের মনে।

মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজীহাট এলাকার একাধিক কৃষক বলেন, এবছর আমনের ফলন অনেক ভালো। এখন ফসল ঘরে তোলার ব্যস্ততা। তবে, ধানের দাম নিয়ে আমরা চরম হতাশ। প্রতিবছর সরকার ঘোষণা দেয় ধান বেশি দামে কিনবে। কিন্তু, ধান কাটার পর সেই দাম আর পাওয়া যায় না। বাজারে আমাদের কম দামেই ধান বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া, অনেক কৃষক সরাসরি সরকারকে ধান দিতেও পারে না।

তারা বলেন, ধান লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে নয় থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু, বাজারে ধানের মূল্য ৬শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৭শ’ টাকা মণ। প্রতি বিঘা জমিতে যদি ১৮ মণ ধান হয়, তাহলে সেই ধান বেচে আমরা পাবো মাত্র ১২ হাজার টাকা।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, এবছর জেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষ হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো।

গত ৯ নভেম্বর নওগাঁর নিয়ামতপুরে আসেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সেসময় ধানক্ষেত পরিদর্শন করে তিনি জানান, এর মধ্যে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে না হয়, তাহলে আমনের বাম্পার ফলন ঘরে উঠবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলে লাভবান করতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৬ টাকা কেজি দরে ২০ নভেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে সরাসরি প্রকৃত চাষিদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে, চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে এবার আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি মেট্রিক টন। বাম্পার ফলন হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিক খেয়াল রেখেই সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের পাশাপাশি সরকারিভাবে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ৫০ লাখ মেট্রিক টন আতপ চালও সংগ্রহ করা হবে।

সরকারি গুদামে ধান-চাল সরবরাহে কোনোভাবেই মধ্যস্বত্বভোগী, দালালচক্র কিংবা দলীয় নেতা স্থান পাবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরাসরি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে কৃষকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

Categories
আমার কৃষক সারা দেশ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইঁদুরে সাবাড় করলো আমন ধান

আসাদুজ্জামান সরকার, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি মৌসুমে আমন ধান ক্ষেতের চারাগাছ কেটে সাবাড় করছে ইঁদুর। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখলেও তা ক্রমেই ফিকে হতে যাচ্ছে। ইঁদুর নিধনের জন্য জমিতে ফাঁদ কিংবা খ্ুঁটির মাথায় পলিথিন টাঙ্গিয়ে দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফসী ও স্থানীয় জাতের ধান চাষেবাদের প্রায় ৬৪ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে হাইব্রিড জাতের ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭’শ ৭৯ মেট্রিক টন ধান, উফসী জাতের ১৮ হাজার ৬’শ ৮০ হেক্টর জমিতে ৫২ হজার ৬’শ ৭৮ মেট্রিক টন ধান ও স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ২’শ ৪৮ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৫’শ ৬১ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আজ শনিবার পৌর এলাকার পশ্চিম শিববাড়ী, রাজারাম ক্ষেত্রী, পূর্ব নাওডাঙ্গা, নারিকেল বাড়ী সন্ন্যাসী তলা, বকুল তলা, পান্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত মালতিবাড়ি, মিনা বাজার, সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে ইঁদুর আক্রমন করেছে। অনেকের জমির বেশির ভাগ চারাগাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।

জমির মাঝখানে ধান গাছ কেটে স্তুপ করে রেখেছে। পান্ডুল ইউনিয়নের সিদ্ধাত মালতিবাড়ি গ্রামের কালিপদ বর্মণ (৫০) বলেন, “আইতত টিন ডাঙ্গেয়া, ফটকা ফুটিয়েও কোন কাম হবার নাগছে না। ৪০ শতক জমির ধান বোধায় মোর ছুঁচের প্যাটত যায়”। ওই গ্রামের নিধির চন্দ্র(৫৫) বলেন, ৬০ শতক জমির বেশিরভাগ চারা গাছ ছুঁচো(ইঁদুর) কেটে সাবাড় করেছে। একজনকে ৩০০ টাকা দিয়ে ৬ টি ইঁদুর মারছি, ওই লোক আরো ৫শত টাকা চেয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে বাঁশ দিয়ে নিজেই ফাঁদ তৈরি করছি ।

উলিপুর পৌরসভার নারিকেল বাড়ি এলাকার মাঈদুল ইসলাম বলেন, জমিতে বাঁশের খুটির মাথায় পলিথিন ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে কাঁক তাড়–য়া বানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। বিশাল আকৃতির এ ইঁদুরকে কোন কিছু দিয়েও কাজ হচ্ছে না। একই কথা জানালেন রাজারাম ক্ষেত্রী গ্রামের শুভাশীষ চন্দ্র বর্মন নন্দ। একই অবস্থা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্মিলিত ভাবে কৃষকদের ইঁদুর নিধন কিংবা জিংক ফসফাইড নামক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

Categories
আমার কৃষক সারা দেশ

পঞ্চগড়ে বাদাম চাষে কৃষকরা খুশি, ন্যায্য মূল্যের আশা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড়ের মাটি ভৌগলিক কারনে উঁচু বেলে দোআশ মাটি। এ মাটি বাদাম চাষের জন্য উৎকৃষ্ট মাটি। জেলার সব কটি উপজেলায় পর্যাপ্ত বাদাম চাষ হয়েছে।

বাদাম চাষে ঝুঁকি কম আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাদাম চাষীরা বাদামের ক্ষেত থেকে প্রচুর পরিমানে বাদাম ঘরজাত করতে পারবে। শুধু শঙ্খা দাম নিয়ে। বাদাম চাষীরা
বলেছে এমনিতে এবার ধানের দাম পায় নি যদি বাদামের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য না পায় তবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে তারা।

একবিঘা বাদাম চাষে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক সহ প্রায় ৮/১০ হাজার টাকা
খরচ পরে। ভালো ফলন হবে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মন বাদাম উৎপাদিত হয়।
বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের বাদাম চাাষী হরি মোহন, জগদীশ, হোসেন আলী বলেন চলতি বছর ইরি বোরো ধানের দাম পাইনি। বাদামের ন্যায্য দাম পেলে ধান চাষের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবে।


জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবীদ মোঃ আবু হানিফ বলেন এবছর জেলায় ৯,৮০০হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ঢাকা ০১,বিনা বাদাম, বারী বাদাম ৩ ও ৪ জাতের বাদাম চাষ হয়েছে যা গত বছর ছিলো ৬,৫০০ হেক্টর।

এ বছর প্রায় ৩,৩০০ হেক্টর জমিতে বেশী বাদাম চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ নানা ধরনের পরামর্শ মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের সহায়তা করে আসছেন। বাদামের চাষ ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা দাম ভালো পেলে বাদাম চাষ আগামীতে বৃদ্ধি পাবে বলে জানালেন কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ও বাদাম চাষিরা।


প্রযুক্তিগত ধারনা, ঋন সুবিধা সহ উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাত ও সংরক্ষন নিশ্চিত করতে পারলে এ জেলার উৎপাদিত বাদাম গ্রামীন এই জনপদের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে ।

Categories
আমার কৃষক

কৃষি জমির আগাছা পরিষ্কার করবে রোবট হাঁস!

কৃষি জমিতে হাঁসের বিচরণ প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু কখনো কী ভেবেছেন কেন এসব জায়গায় হাঁস বেশি দেখা যায়? মূলত কৃষি জমিতে ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হাঁস ছাড়েন কৃষকরা।

তবে একুশ শতকে যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির উৎকর্ষে জয় করছে, সেই ছোঁয়া কৃষিক্ষেত্রেও থেমে নেই। কিন্তু কৃষি জমিতে এবার হাঁসের পরিবর্তে রোবট দেখা যাবে। জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিশানের কর্মরত একজন ইঞ্জিনিয়ার নিজ উদ্যোগে রোবট হাঁস তৈরি করেছেন। যা একটি সত্যিকারের হাঁসের মতোই ফসলের মাঠে কাজ করবে।

জাপানভিত্তিক নিউজ ওয়েব সাইট নিপ্পোনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিশানের কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার বর্তমানে এই রোবট হাঁস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে দেখছে। কিন্তু এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকরণের তার কোনো পরিকল্পনা নেই।

রোবট হাঁসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এগামো’। যা একটি বড় ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতন। রোবটটির নিচের অংশে দুটি ঘূর্ণায়মান রাবার ব্রাশ রয়েছে যা হাঁসের পায়ের কাজ করবে। এটি জলে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং আগাছা প্রতিরোধে কাজ করবে।

সূত্র: দ্যা ভার্জ

Categories
আমার কৃষক

দোয়ারাবাজারে কাঁঠালের বাজার মূল্য চড়া : আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় হতাশ চাষীরা

আশিস রহমান :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে মৌসুমী ফল কাঁঠাল। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা, আলীপুর, আজবপুর, গিরিশ নগর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুর গ্রামসহ সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর, বোগলা ও বাংলাবাজার ইউনিয়ন কাঁঠাল চাষে বিখ্যাত। প্রতিবছরই এসব এলাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় হতাশ উপজেলার কাঁঠালচাষীরা।

ফলন কম হওয়ার দরুন বাজারের কাঁঠালের উপস্থিতিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কম। চাহিদার তুলনায় বাজারজাত কাঁঠালের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় এবার চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কাঁঠাল। স্থানীয় বাজার সমূহে মাঝারি থেকে বড়সাইজের কাঁঠাল প্রতি ৩৫০-৫৫০ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে চাষীদের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছে পাইকার, দালাল ও মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী ব্যবসায়ীরা। কাঁঠাল চাষীরা জানান, এবার কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ফলনশীল কাঁঠাল গাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেক কাঁঠাল অপরিপক্ক অবস্থাতেই ঝরে পড়ে যায়। যেকারণে এবার মৌসুমের শুরুতেই কাঁঠালের উৎপাদন অনেকাংশে কমে গেছে।

উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলার কাঁঠালচাষী শের মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার বাগানে ফলনশীল ১২২টা কাঁঠাল গাছ আছে। গতবছর প্রায় ৬০ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করি। কিন্তু এবার আশানুরূপ ফলন আসলেও কাল বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কাঁঠালের উৎপাদন কমে গেছে। অনেক কাঁঠাল গাছ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, কাঁঠাল ঝরে পড়ে গেছে। এবার প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো কাঁঠাল বিক্রি হয়েছে। নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কাঁঠাল বাজারজাত করণে অধিক পরিমাণে পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে।’

আলীপুরের কাঁঠাল ব্যবসায়ী ওসমান মিয়া ও কাজল মিয়া বলেন, ‘গতবছর প্রতিদিন নৌকায় করে বিভিন্ন বাজারে কাঁঠাল বাজারজাত করেছি। বাজারে চাহিদা আছে কিন্তু এবার সেই তুলনায় কাঁঠালই নেই বললেই চলে। অধিক দাম দিয়ে কাঁঠাল পাইকারি ভাবে কিনতে হচ্ছে।’ এব্যাপারে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে দোয়ারাবাজার উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন বলেন,’ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে এবার কাঁঠালের উৎপাদন কম হয়েছে। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা, টিলাগাও, আলীপুর ও আশাপশের এলাকার মাটি কাঠাল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। লাভজনক এ মৌসুমী ফল চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকে। দিন দিন উপজেলাব্যাপী কাঠাল চাষের প্রসার ঘটছে। ভবিষ্যতে বানিজ্যিকভাবে কাঠাল চাষের অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে।’

Categories
আমার কৃষক

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবীতে মানববন্ধন

মো: হারুন অর রশিদ পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় গতকালু বুধবার ২২ মে বেলা ১২ টার সময় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়েছে।। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির আয়াজনে বোদা বাসস্ট্যন্ডে বোদা -পঞ্চগড় মহাসড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম,দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ বর্মণ,বোদা উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক নরূ ইসলাম, বোদা শাখার সাবেক সভাপতি দীপক কুমার দে, হিন্দু বৌদ্ধ ক্ষ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের নেতা উত্তম কুমার মজুমদার, সাংবাদিক লিহাজউদ্দিন মানিক প্রমুখ ।

এসময় কমিউনিষ্ট পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে হবে। কৃষকের লোকশানের ভূর্তুকি দিতে হবে। না হলে কৃষক বাচবেনা। অবিলম্বে কৃষকের ধানের মূল্য বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবী বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। উল্লেখ্য যে পঞ্চগড়ে এখনো ধান ক্রয় শুরু হয়নি।

Categories
আমার কৃষক জাতীয়

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কৃষকদের ধান কেটে দিবে ছাত্রলীগ

শফিক আহমেদ ভুইয়া :

বাংলাদেশে চলতি ২০১৯ সালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন তাঁরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সরকারের কৃষি বিভাগ দেশে এ বছর ১ কোটি ৯৬ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিল এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মোতাবেক গত এপ্রিলের শেষ ভাগে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।


কৃষকের এক মণ ধানের মূল্য ৫০০ টাকা যেখানে একজন শ্রমিক কে মজুরি দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষক ধান ক্ষেতে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাত্মৃপ্রতিসম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উদ্যোগ নিয়েছে কৃষকদের ধান কেটে দিবে সেচ্ছাসেবী হিসেবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধরী শোভন ও সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিঞ্জপ্তিতে বলা হয়,সারাদেশে জুড়ে ধান কাঠা শ্রমিকের মজুরী তুলনামুলকভাবে বেশি হওয়ায় এবং মজুরী সল্পতার কারনে বেশ কিছু অঞ্চলে কৃষকরা পাকা ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাশে থাকার কথা জানান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অর্ন্তগত সকল ইউনিট স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে।