Categories
আইন ও অপরাধ দেশ নারী ও শিশু

সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী গর্ভবতী : ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রামছাড়া

কালিহাতী প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌর এলাকায় ৯ মাসের গর্ভবতী সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহল সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে এ কাজ করেছে বলে জানা যায়।

ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী পৌরসভার উত্তর বেতডোবা এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, রনি পালের ছেলে মিঠু পাল (২২) ও নিতাই পালের ছেলে প্রশান্ত পাল (২১) একই এলাকার সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ১৩ বছরের শিশুটি ৯ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই গর্ভবতী সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র স্থানে রাখার সিদ্ধান্ত দেন।

স্থানীয়রা জানান, বাচ্চা নষ্ট করার জন্য এলাকা ছেড়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে শিশুটিকে। গর্ভপাত করার সময় ওই শিশুটিরও কিছু হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিহাতী পৌরসভার কাউন্সিলর অজয় কুমার লিটন দে বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি তবে মীমাংসার বিষয়ে জানিনা। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত ষষ্টি পাল, মিঠু পাল, প্রশান্ত পাল। তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

তবে ষষ্টি পালের স্ত্রী জানান, স্থানীয় মাতাব্বররা মীমাংসা করে দিয়েছে। এদিকে ৯ মাসের গর্ভবতী শিশুটিকে বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

কালিহাতী থানার ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম বিস্তারিত খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান।

Categories
জাতীয় নারী ও শিশু

নারী ও মেয়েদের অটিজম নির্ণয়ে বাধা যেসব কারণে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অটিজম আক্রান্ত প্রতি ১৭ জনে ১৬ জনই পুরুষ। তাহলে সেইসব নারীরা কোথায়?

“প্রচুর সংখ্যায় অটিস্টিক নারী ও মেয়ে-শিশুকে দেখা যায় শান্ত, লাজুক এবং অন্তর্মুখী স্বভাবের হয়ে থাকে” বলছিলেন ব্রিটিশ একজন লেখক এবং উদ্যোক্তা অ্যালিস রোয়ে।

তিনি বলেন, প্রায়ই “এই শান্ত মেয়েদের সমস্যাগুলো অন্য মানুষদের কাছে ‘অদৃশ্যমান’ থেকে যেতে পারে”।

অ্যালিসকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বলা হয়েছিল যে, সে অটিস্টিক ছিল। কিন্তু সে অন্তত পুরুষদের তুলনায় অল্পসংখ্যক নারীদের মধ্যে একজন যার অটিজম নির্ণয় হয়েছে।

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বা এএসডি একটি সারাজীবনের প্রতিবন্ধকতা যার দ্বারা বাকি বিশ্বের সাথে কোন ব্যক্তির যোগাযোগ স্থাপন এবং সম্পর্ক তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়।

এএসডি আক্রান্ত মানুষদের বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকারিতা স্তর-ভেদে ভিন্ন হয়, এবং তা গভীর মাত্রা থেকে উচ্চতর মাত্রায় প্রসার লাভ করে।

বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রতি ১৬০ শিশুর মধ্যে একজন এএসডি আক্রান্ত। কিন্তু এই সমস্যা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে লিঙ্গ-গত বিশাল বৈষম্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি তথ্য বলছে, প্রায় সাত লক্ষ মানুষ অটিজম স্পেকট্রামে ভুগছে। যেখানে প্রতি ১০ জন পুরুষের অনুপাতে নারীর সংখ্যা একজন। আর অন্য এক গবেষণা বলছে, পুরো বিশ্বজুড়ে এ সংখ্যার অনুপাত ১৬ : ১।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির সেন্টার ফর অটিজম এর পরিচালক ক্যারল পোভে বলেন, এই সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠছে। ব্রিটেনে নতুন গবেষণা বলছে প্রকৃত চিত্র অনুসারে এই অনুপাত হবে ৩:১-এর কাছাকাছি।

আর এটা যদি সঠিক হয়, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মেয়ে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন যাপন করছে, এমনকি তারা তা জানেও না পর্যন্ত।

শুরুতে যে লেখক অ্যাটিস-এর কথা বলা হয়েছিল তিনি জানান, তার বয়স ২২ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তার রোগ নির্ণয় হয়নি।

‘খাপ খাইয়ে’ নিতে না পারার পেছনে নিশ্চই কোনও কারণ রয়েছে।

“আমার পুরোটা জীবন (রোগ নির্ণয়ের আগ পর্যন্ত)বিস্ময়ের সাথে কাটালাম যে কেন আমি ছিলাম ‘ভিন্ন’?এই অনুভূতিটা সম্পূর্ণ ভয়াবহ কারণ আমি ছিলাম সবার থেকে আলাদা এবং চেষ্টা করতাম খাপ খাওয়াতে এবং খুব বেশি যেন আলাদা হয়ে না যাই সেজন্য”।

কিন্তু রোগ নির্ণয়ের পর অ্যালিসের জীবন পাল্টে গেল।

“কেন আমি আলাদা সেজন্য এখন আমার কাছে একটি ‘নাম’ আছে এবং কারণ আছে। সবার থেকে ভিন্ন হওয়া এবং তার কোনও কারণ না জানা -এটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার, নিজেকে সম্পূর্ণ নি:সঙ্গ মনে হতো।”।

“রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে মনের শান্তি এবং আত্ম-বিশ্বাস পাওয়ার অর্থ হচ্ছে আমি আমার বিশেষ চাহিদা অনুসারে আমার জীবনধারাকে বদলাতে পেরেছি”।

তিনি জানান, কিভাবে তার জীবন ধারা বদলে গেছে- “বন্ধুবান্ধব কিংবা সহকর্মীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে আমার মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে এবং যার ফলে আমার চিন্তাভাবনা বা আচরণ কিছুটা ‘অস্বাভাবিক’ হতে পারে”।

এর ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে এবং সম্পর্কগুলো আরও অর্থপূর্ণ, উপভোগ্য হয়েছে।

অ্যালিসের মতো আরও অনেক মানুষ মনে করেন রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে তাদের বন্ধুবান্ধব, পরিবার সবার কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং তাদেরকে বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক প্রভাব রেখেছে।

অটিজম নির্ণয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেকের ক্ষেত্রে এর প্রভাবে মানসিক অসুস্থতা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা দেখা যায়।

ব্রিটেনে ছোট পরিসরে চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, ক্ষুধামন্দার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নারীদের মধ্যে ২৩ শতাংশের অটিজম সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।

কেন বহু নারী ও মেয়েদের অটিজম থেকে যায় অলক্ষ্যে?

ছেলে কিংবা পুরুষদের ক্ষেত্রে অটিজম এর লক্ষণ যেমন হয়ে থাকে নারীদের বা মেয়েদের ক্ষেত্রে ঠিক একইরকম থাকেনা।

তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সম্ভবত, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অটিজমের কারণে তারা থেকে যায় অলক্ষ্যে।

গবেষকরা যে সমস্যাটি পেয়েছেন সেটা হলো অটিজম আক্রান্ত মেয়েরা যেভাবে আচরণ করে তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়-যদি তা আদর্শ নাও হয়- যেটা পুরুষদের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তাদের হয়তো নিষ্ক্রিয়, অন্যের ওপর নির্ভরশীল, কোন কিছুতে সম্পৃক্ত হতে না চাওয়া এবং বিষণ্ণতা ইত্যাদি থাকে।

অটিস্টিক ছেলেদের মতই – তারা মনেপ্রাণে এবং উন্মাদের মত আগ্রহী হতে পারে কোন বিশেষ কিছুর প্রতি, – কিন্তু তারা হয়তো প্রযুক্তি বা গণিতের মত বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে না।

“দু:খজনকভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে যেসব মেয়েরা এইধরনের আচরণের প্রকাশ করে তাদের হয়তো রোগ পরীক্ষা বা চিকিৎসার বদলে বুলিং এর শিকার হতে হয় বা তাদের এড়িয়ে যাওয়া হয় ” বলছিলেন এএসডি অটিজমের শিকার এক শিশুর মা।

শান্ত, সদাচারী এবং কঠোর পরিশ্রমী মেয়েরা অনেকসময় শিক্ষক এবং চিকিৎসকদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হয়।

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সঙ্কট কী?

মিজ অ্যালিস লাজুক প্রকৃতির কিন্তু জেদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। সে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল কিছু বিষয়কে বুলেট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে যেখানে সে জানতে চেয়েছিল কেন সে নিজেকে অটিস্টিক আক্রান্ত বলে মনে করছে।

এরপর তাকে পরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়।

কিন্তু একটি শিশুর ক্ষেত্রে কী হবে? যদি সে না জানে যে কিভাবে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে?

“যখন চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে এএসডি অটিজমে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করে তখন আমি মানসিকভাবে হালকা অনুভব করতে শুরু করলাম”। মারিলু নামে একজন নারী যখন প্রথম জানতে পারলেন তার দশ বছরের কন্যা সন্তান অটিজম আক্রান্ত তখন তার অনুভূতি কি হয়েছিল- সেটাই বলছিলেন।

কিন্তু যে সমস্যার কোনো চিকিৎসা নেই এবং যার প্রভাব জীবনভর বহন করতে হয় সেই সমস্যায় আক্রান্তের খবর কিভাবে তাকে এমন নির্ভার করলো?

তিনি বিষয়টিকে যুদ্ধের সাথে তুলনা করে তার অনুভূতির বর্ণনা করে ” আমার ছোট্ট মেয়েটির চরম দু:খের পেছনে কী কারণ ছিল তা বুঝতে পারা এই যুদ্ধের চরম সীমানায় পৌঁছানো”।

এএসডি শৈশবে শুরু হয় এবং বয়ঃসন্ধিকালে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে চলতে থাকে এবং এএসডি সহ কিছু লোক স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারে, অন্য অনেকের গুরুতর-ভাবে অক্ষমতা থাকে এবং আজীবন যত্ন এবং সহায়তা প্রয়োজন হয়।

বাবা-মা কিংবা তত্ত্বাবধানকারী সচেতন হলে তারা দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় তা যোগাযোগ স্থাপনে এবং সামাজিক আচার-আচরণের সমস্যাগুলো মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

“আলাদা হওয়ার অনুভূতি হতে পারে ভয়ঙ্কর”

‘অতি-সংবেদনশীল , আবেগপ্রবণ মা এবং তার “নষ্ট” সন্তান’

“আমার মেয়ে সোফিয়া ভীষণ আজব রকমের লাজুক। সে সিরিয়াস এবং দারুণ সৃজনশীল। এভাবেই তার শিক্ষক তার সম্পর্কে বলতো”-১০ বছরের অটিজম আক্রান্ত মেয়ের কথা বলছিলেন মারিলু।

“আমি প্রথম থেকেই জানতাম নিজে নিজে বন্ধু তৈরির বিষয়টি তার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল । তার সমবয়সীদের তুলনায় সে ছোটখাটো ছিল।আমি ভাবতাম এটা হয়তো তার নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মানো সংক্রান্ত কারণে হয়ে থাকবে”।

এটা আমাকে খুব একটা চিন্তিত করেনি যতক্ষণ না স্কুলে তাকে সমস্যায় পড়তে হল। রাতের বেলা ঘুমানোর সময় সে বলতো মা, আমার কোন বন্ধু নেই, কেউ আমাকে পছন্দ করে না”।

আমি তাকে বলতে থাকতাম, আমাদের সবারই ভালো এবং খারাপ দিন আছে। কিন্তু আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম এবং প্রায়ই শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করতাম তারা স্কুলে কোনকিছু ঘটেছে কি-না”।

তাদের উত্তর একই থাকতো ‘কিছুই ঘটেনি”।

“যখন আপনি নিজের শিশুটিকে সাহায্য করতে চাইছেন, কিন্তু জানা নেই কিভাবে?”

কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হল এবং মারিলু শিক্ষকদের সাথে দেখা করলেন।

“আমি ভীষণ দিশেহারা হয়ে গেলাম। সোফিয়া বুলিং এর শিকার হচ্ছে কি-না আমি শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম খারাপ কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু আমাকে বলা হল, আমি ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ এবং ‘অতি-সংবেদনশীল’। এমনকি আমাকে অভিযুক্ত করা হল তাকে ‘নষ্ট করার’ জন্য”।

এরপর একটা সময় বিষয়টা এমন দাঁড়ালো সোফিয়ার জন্য স্কুল হয়ে উঠলো আতঙ্কের জায়গা। একজন বন্ধুকে তার মা বলেছিল, “তাকে স্কুলে নেয়া যেন কসাইখানায় নেয়ার মত” ।

“কয়েক মাসের মধ্যে আমার মেয়ে রাগী এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লো- বাড়ির বাইরে সে ভালো থাকার ভান করতে লাগলো, কেবল মাত্র যখন অঅমার সাথ ঘরে থাকতো তখনই সে শান্ত থাকতো”-বলেন মারিলু।

“আমি জানতাম সোফিয়া কষ্ট পাচ্ছিল এবং আমি তাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারছিলাম না। চেষ্টা করছিলাম কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছিলাম”।

মারিলু বুঝতে পারছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার আবেগ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছিল। তা না করে যা ঘটছে তাকে যদি ব্যাখ্যা করতে পারতেন তাহলে হয়তো আরও আগেই রোগটি নির্ণয় করা যেত-আক্ষেপ তার।

“সঠিক রোগ নির্ণয় হতে পারে জীবন বদলে দেয়ার কারণ”।

লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান:

লেখক অ্যালিস বলছেন, কেউ যদি অটিজম আক্রান্ত কাউকে সাহায্য করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই আগে এ সম্পর্কে জানতে হবে, পড়তে হবে।

তিনি বলেন, “আপনি যদি একজন অটিস্টিক আক্রান্ত ব্যক্তি হয়ে থাকেন যিনি তার আজীবন এর সাথে মানিয়ে নেয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন তবে বিশ্বাস করতে শুরু করুন যে এর সাথে মানিয়ে না নিলেও চলবে”।

মিজ অ্যালিস দ্য কার্লি হেয়ার প্রজেক্ট পরিচালনা করছেন এবং এই সামাজিক উদ্যোগ অটিস্টিক মানুষের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে, আপনার অনন্য দক্ষতা ও শক্তি রয়েছে, যদি সম্ভব হয় আপনি আমার মত এমনকিছু করতে পারেন এবং নিজের ভিন্নতাকে আপনার জীবিকা অর্জনের অংশ করতে পারেন,”

কিন্তু বাবা-মা বা তত্ত্বাবধানকারীর কী করতে হবে?

শিশু সন্তানদের ‘ভিন্ন’ আগ্রহকে খুঁজে বের করুন এবং সে যে চোখে বিশ্বকে দেখছে তাকেই সাধুবাদ জানান।

মনে রাখতে হবে যেটি আপনার জন্য খুবই সহজ সেটি তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

সোফিয়া এখন খুশি কারণ শেষপর্যন্ত তার রোগ নির্ণয় করা গেছে। সে বলছে-

“আমি এখন অনেকটা নির্ভার বোধ করছি কিন্তু কিছুটা হলেও চিন্তিত। আমি চাইনা আমার ক্লাসের বন্ধুরা জানুক কারণ আমি সবার থেকে আলাদা হতে চাইনা এবং আমাকে নিয়ে কেউ হাসি-তামাশা করুক সেটা চাইনা”।

কিন্তু তার রোগটি শনাক্ত না হলেই কি সে খুশি থাকতো?

“ওহ না, আমি জানতে চাই। এটা আমার মনের ভার কমিয়ে দিয়েছে”। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Categories
আইন ও অপরাধ নারী ও শিশু

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নির্যাতন মামলায় আটক শিক্ষক

আসাদুজ্জামান সরকার :

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় শনিবার দুপুরে উলিপুর শহীদ মিনার চত্বর থেকে পুলিশ তাকে আটক করেন।

জানা গেছে, পৌরসভার উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবু জাফর (৩৮) এর সাথে চার বছর পূর্বে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার রাবাইতারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা শামিমা ফেরদৌস (৩১) এর বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে ওই শিক্ষক ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে স্ত্রীকে প্রায় সময় শারীরিক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। গত ২৬ নভেম্বর বিকালে শিক্ষক আবু জাফর তার স্বজনদের সাথে নিয়ে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারপিট করে আহত অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এ সময় শামিমা ফেরদৌস নিরুপায় হয়ে স্বজনদের খবর দিলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই গৃহবধু বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (০৬ ই ডিসেম্বর) স্বামী আবু জাফরসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে পুলিশ তাকে আটক করেন।

উলিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিক্ষক আটক হওয়ার ঘটনা স্বীকার করেন।

Categories
আমার ক্যাম্পাস নারী ও শিশু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কর্মসূচি

মো: শুভ আনোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘ইউএন ওমেন’-এর উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধমূলক এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

আজ রবিবার (০২ ডিসেম্বর) এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। উপাচর্যের নেতৃত্বে এই র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে উপাচার্য যৌন হয়রানিসহ যে কোনো প্রকার নির্যাতন রোধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ইউএন ওমেন এর বাংলাদেশস্থ অনুষ্ঠান সহযোগী উম্মে সালমা আহমেদ বলেন, “সুইডিস দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘হিয়ার মি টু’ প্রতিপাদ্য বিষয় ধারণ করে ‘নারীর কথা শুনবে বিশ্ব-কমলা রঙে নতুন দৃশ্য’-প্রচারণা চালিয়ে যৌন হয়রানি বিরোধী মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়াস চালাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ১৬ দিনব্যাপী সারাদেশে এই অনুষ্ঠান চলবে।”

র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

Categories
আমার ক্যাম্পাস নারী ও শিশু

সচেতনতাই পারে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ করতে

মো: শুভ আনোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘উত্ত্যক্তকরণ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাস্তবায়ন’ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়’ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জহির রায়হান মিলনায়তনের সভা কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “সচেতনতাই পারে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ করতে। এক্ষেত্রে শুধু নারীরা সচেতন হলেই চলবে না, নারীর পাশাপাশি পুরুষদেরকেউ সচেতন হতে হবে এবং পাশে দাড়াতে হবে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরির জন্য নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে।”

তিনি আরো বলেন,  “সহিংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ সবাইকে জাগতে হবে। সজাগ হবে, শুনতে হবে এবং পড়তে হবে। নিজের ভেতর প্রতিবাদ করার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে এবং সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”

ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন, “যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ একটি সামাজিক আন্দোলন। চিন্তা-চেতনায় সকলকে নারী-পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে ‘মানুষ’ হতে হবে। মনোজগতকে বদলে দেয়ার মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।”

ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অফিসার, কর্মচারিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Categories
তারুণ্য নারী ও শিশু

২০ তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের সাথে দর্পণের চুক্তি

বাংলাদেশের দেশীয় পণ্যের প্রথম ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস দর্পণ- (www.mydorpon.com) ফেসবুকের অন্যতম মহিলা উদ্যোক্তাদের নিয়ে তৈরি গ্রুপ ফিমেইল অনট্রোপ্রোউনার সোসাইটির (ফিম্নেনসো) সহযোগিতায় ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে ধানমন্ডির আরাজ কনভেনশন হলে আয়োজন করেছে এক ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন রকমের ২০ জন সৃজনশীল মহিলা উদ্যোক্তা দর্পণের প্লাটফর্মে যোগদান করেন।

দর্পণের প্লাটফর্মে এই ২০ জন সৃজনশীল মহিলা উদ্যোক্তারা তাদের ডিজিটাল দোকানসমূহ স্থাপন থেকে শুরু করে পণ্য প্রদর্শন, সঠিক মূল্য নির্ধারণ, তাদের পণ্যের প্রমোশন, বিক্রি এবং সবশেষে ক্রেতাদের কাছে তাদের পণ্য পৌছে দিতে সক্ষম হবে।

দর্পণের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কার্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ খান ও ফিম্নেনসোর প্রতিষ্ঠাতা পৌশী যামী অনুষ্ঠানে সকলকে স্বাগত জানান ও চুুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে দর্পণের মূল উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে দর্পণের ও ফিম্নেনসোর বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Categories
জাতীয় নারী ও শিশু

আগামীকাল দেশব্যাপী ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দ্যাটাইমসঅফবিডি.কম: আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী ২ কোটি ১৯ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬-১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই, ইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই, ইউ) খাওয়ানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচি পালন করবে। দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে দুর্গম এলাকা হিসেবে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন (১৫-১৯ জুলাই) ১২টি জেলার ৪২টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি যেয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।  জাহিদ মালেক বলেন, ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ফলে শিশু যে শুধুমাত্র রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পায় তা নয়, শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখে, শিশুর মৃত্যুর হার কমায়, শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করে এবং ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হামের জটিলতা কমায়। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পর্যালোচনার জন্য ক্যাম্পেইনের দিন প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়
Categories
আইন ও অপরাধ নারী ও শিশু

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মামলার শিকার।

দ্যাটাইমসঅফবিডি.কম: ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগ এর সাধারন সম্পাদক এর বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ উঠেছে। 

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মামলার শিকার।জানা যায় গত রবিবার (০৮/০৭/১৮) কলেজ চলাকালীন সময়ে নরসিংদী সরকারি কলেজ এ  ডোকে বহিরাগত  রাফিদ ও জিয়েন নামের দুই বখাটে জেলা ছাত্রলীগের  সাধারণ সম্পাদক এর বোন সাদিয়া  এর ওড়না ধরে টানাহেচরা করে  ।এ ঘটনা নজরে পড়লে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

পরবর্তীতে  জেলা ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক আহুসানুল ইসলাম রিমন ও তার বড় ভাই রোজদি এবং এলাকার বাসির উপস্থিতিতে তাদের দুই জন কে পুলিশে সোর্পদ করা হয়।কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়,  ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ইভটিজিং এর স্কীকার সাদিয়ার ভাই  জেলা ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক  আহুসানুল ইসলাম রিমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

ইভটিজারাই বাদি হয়ে এ মামলা করে বলে জানা যায়।

এতে এলাকায় আরও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ভুক্তভোগী মেয়ের বড় ভাই রোজদি  বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।এ বিষয়ে জানার জন্যে  নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দুজ্জামানের সাথে মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

ইভটিজিং এর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

নিচে ভিডিও লিঙ্ক দেয়া আছে:

নরসিংদী তে সর্ব প্রথম একটা অপশক্তি পরিবারের বিরুদ্বে আমি প্রতিবাদ করেছিলাম সেই ২০১১ সালে তখন আমাকে নরসিংদী কলেজে হামলা করেছিল হত্যা করার জন্য,আমাকে গুলি করা হয়েছিল,আমাকে চাপাতি দিয়ে কুপানো হয়েছিল,আল্লাহর রহমতে আমি বেচে গিয়েছিলাম,আমার মত রাজনৈতিক ঐতিহ্য পরিবারের সন্তান নরসিংদীর রাজনীতিতে প্রতিবাদ করে হয়েছি নির্যাতনের স্বীকার,হামলা মামলা অবশেষে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিলে আমার আম্মাকে সহ নরসিংদীর রাজপথে করেছে রক্তাক্ত।আমার মত মৃত্যু অকোতভয় দুঃসাহসিক ছেলে যখন কোণঠাসা এই অবস্থা প্রায় ৬ বছর ধরে হ্মমতার বলে পেশীশক্তি দ্বারা চালিয়েছে যেমন ইচ্ছে তেমন করে নরসিংদীর অপশক্তি রাজনৈতিক মেয়র পরিবার। নরসিংদী রাজনীতিকে তারা তাদের হুকুমের গোলামের মত ব্যবহার করতে করতে ধরা কে সরাজ্ঞান করে মনে করেছিল নরসিংদী তে তারা যে ভাবে যা বলবে সে ভাবে তা ই হবে।কিন্তু যুগে যুগে প্রতিবাদের মশাল যে জ্বলতে থাকে ধাউ ধাউ হয়ে তা মেয়র পরিবার হয়ত ভুলেই গেছে।নরসিংদীর সামজনীতি,রাজনীতি যখন মেয়র পরিবারের কাছে জিম্মি ঠিক তখন ই নরসিংদী সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের সম্মেলন মেয়র পরিবার তাদের হ্মমতার দাপটে ছাত্রদল করা বেয়াদব বখাটে এক ছেলেকে সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করতে সিধ্বান্ত নেয় মেয়র কামরুল ও তার ভাই শামীম নেওয়াজ,সেই অনুপ্রবেশকারী কে ঠেকাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জেলা ছাত্রলীগের তরুন উদীয়মান সাহসী প্রতিবাদি এক যুবক সকল রক্তচহ্মু অপেহ্মা করে সেদিন নরসিংদী কলেজের সম্মেলনে কেন তাদের মনোনীত অনুপ্রবেশকারী অতুল কে সাধারণ সম্পাদক দেয়নি তাই মেয়র কামরুল আর শামীম নেওয়াজ ওঠে পরে লাগে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহসী ছাত্রনেতা রিমনের সাথে।কেন রিমন ছাত্রদল করা বখাটে অস্ত্রবাজ ছিছকা ছিনতাইকারী অতুল কে সমর্থন করেনি তাই রিমন কে কোনকিছু না করতে পেরে অমানুষরা কাপুরুষের মত ওঠে পরে লেগেছে রিমনের পরিবারের সাথে,রিমনের বোন নরসিংদী সরকারী কলেজের মেধাবী ছাত্রী সাদিয়াকে গত দুমাস ধরে উতপ্ত করে আসছিল বখাটে অতুল বাহিনীর সদস্যরা আর তারই চুড়ান্ত ড্রেস রিহার্সাল হয়ে গেল গত ৮.৭.২০১৮ তারিখে রিমনের আপন বোন কলেজে ক্লাস শেষ করে বাড়ী ফেরার পথে ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির প্রচেষ্টা যা এই ভিডিও ফুটেজে প্রতীয়মান।রাজনীতি তে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু এমন নোংরা প্রতিহিংসার রাজনীতি কে সমর্থন দিয়ে মেয়র কামরুল আর শামীম নেওয়াজ নরসিংদী রাজনীতিকে করছে কুলষিত।যা বর্বরতা কে হার মানাচ্ছে।যখন আপন বোনের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে কুকুরদের লেলিয়ে দেওয়া হয় আর সেই কুকুরদের ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে দিয়ে দেয়া হলে,ইভটিজার বখাটেদের আইনের আওত্তায় না এনে উল্টো নির্যাতিত পরিবারের ভিকটিমের আপন ভাই জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় অপরাধীদের পহ্ম নিয়ে মেয়র কামরুলের নির্দেশে রিমন রুজদীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানবতার বুকে শেষ পেরেক টি ঠকে দিল নরসিংদীর পুলিশ প্রশাসন।

Posted by রেহানুল ইসলাম ভুইয়া লেলিন on Wednesday, 11 July 2018

 

সাদিয়া নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে।সে বর্তমানে ভার্সিটি ভর্তি কোচিং করছে।

আতঙ্কে এখন ভার্সিটি ভর্তি কোচিং করতে পারছেন না  ঐ শিক্ষার্থী জানান।

দ্যাটাইমসঅফবিডি.কম/১৩/০৭/১৮

 

 

Categories
নারী ও শিশু

‘বৃদ্ধ বাবা-মা থেকে আলাদা হতে চাইলে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে স্বামী’

বাবা-মায়ের থেকে ছেলেকে আলাদা করতে চাইলে স্ত্রী’কে ডিভোর্স দিতে পারবেন হাজব্যান্ড। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হিন্দু বিবাহ আইনে এই বিধান জারি করা হয়।

বৃহস্পতিবার একটি ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস অনিল দাভে এবং জাস্টিস এল নাগেশ্বর বলেন, বৃদ্ধ এবং ছেলের ওপর নির্ভরশীল বাবা-মায়ের থেকে স্বামীকে নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতে জোর করলে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন স্বামী।

১৪ পাতার রায়ে বিচারপতিদ্বয় বলেন, ‘পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি এবং রাজনীতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। সেখানকার নিয়ম এখানে চলতে পারে না। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখা ছেলের কর্তব্য বলেই ধরা হয়। বিয়ের পর স্বামীর পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন স্ত্রী। যদি বিশেষ ক্ষেত্র না হয় তবে স্বামীকে অভিভাবকদের থেকে পৃথক করার জন্য মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করলে বিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন স্বামী।’

বায়ে আরো বলা হয়, ‘অতীতে দেখা গিয়েছে স্বামীকে চাপ দিতে স্ত্রী আত্মহত্যার হুমকি বা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। যদি কোনো ক্ষেত্রে তিনি মারা যান তবে আইনি সমস্যায় জর্জরিত হতে হয় সেই ব্যক্তিকে। তার ক্যারিয়ার, পরিবার, সামাজিক সম্মান সব কিছু ছারখার হয়ে যায়। এ সব কিছুর কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত চাপের কাছে নতি করে নেন অনেকে। আর যাতে এই রকম ঘটনা না ঘটে তার জন্যই এই রায়ের বিধান করা হয়েছে।’

Categories
নারী ও শিশু প্রবাস

১০ লাখ রোহিঙ্গার ঠাঁই হলে ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত বিক্রি করতে কেন সৌদি যেতে হবে?

পলিথিনের ব্যাগে আনা সামান্য পরনের কাপড় ছাড়া সব দিয়ে এসেছি। এমন অসভ্য মালিকের বাসা আর যেন কোনো বাংলাদেশি নারী কাজ করতে না যায়।’ গত রবিবার গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র তিন মাস পর দেশে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এভাবে সে দেশের ভয়াবহ জীবনের বর্ণনা দেন রেহেনা(২২)  

দেশে আসতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে রেহেনা বলেন, ‘সরকার মানবিক কারণে ১০ লাখ রোহিঙ্গার ঠাঁই দিতে পারছে, আর আমাদের দু’লাখ মা-বোনের দায়িত্ব নিতে পারবে না? কেন আমাদের ইজ্জত-সম্মান বিক্রি করতে সৌদি যেতে হবে?’

সৌদি আরবের ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রেহেনা বলেন,  ‘তিন মাসকে মনে হয়েছে তিন বছর। দেশের কোনো মানুষের চেহারা দেখি নাই। মালিকের নাম ছিল আব্দুল্লাহ। বাড়িতে স্ত্রী ও চার ছেলে নিয়ে থাকেন। বাসার সবাই সারাদিন বাড়িতে থাকলেও বিকেল হলে মালিক ছাড়া বাকিরা গাড়িতে করে বাইরে চলে যেত। ওই সময় মালিক একলা পেয়ে আমাকে হয়রানি করতো। বাধা দিলে মারধর।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যাওয়ার সময় আমার কাছে বাংলাদেশি ৪শ’ টাকা ছিল। ওই টাকাটা নিয়েই ফিরেছি। ওই টাকা নিয়েই আজ হবিগঞ্জ যাচ্ছি।’

দেশে ফিরে আসার সুযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবে তিন মাস নির্যাতনকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে শুধু কেঁদেছি, আর দেশের মানুষ খুঁজেছি। একদিন আমার মালিকের এক বন্ধুর বাংলাদেশি গাড়ি চালক মনির আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি একদিন ভোরে আমাকে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসিতে দিয়ে আসেন, সেখানে হাসিনা নামের এক খালার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন।’

গত কয়েকমাসে রেহেনার মতো অনেক গৃহকর্মী সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে সে দেশে তাদের ওপর চলা ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।গত শনিবার রাতেও সৌদি আরব থেকে ৪০ জন গৃহকর্মী দেশে ফিরে এসেছেন।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টির প্রতি নজর রাখছি। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে আমাদের কর্মীরা তৎপর রয়েছেন।’