Categories
নিউজ কর্নার রাজনীতি

পররাষ্ট্রনীতির কারণেই শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছে

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন: যারা বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কারণেই শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে ৩এ প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

১৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরে নানক বলেন: সে সময় আমরা প্রতিবাদের ডাক পাইনি। আমরা প্রতিরোধের ডাক পাইনি। আমরা যুদ্ধের ঘোষণা পাইনি। একটি নেতার অভাবে। সেদিন নেতৃত্বের মধ্যে ভীরুতা, কাপুরুষতা, দোদল্যুমানতা এবং আপোষকামীতার কারণে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকার্মীরা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে, আহাজারি করেছে।

‘কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ, সেই মুজিব আদর্শের কর্মীরা প্রমাণ করে দিল এক-এগারোর সময়।এই নগর আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেছিলেন, প্রতিরোধ করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন: নেত্রীকে গ্রেফতারের সাথে সাথে আপনারা হুঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। তাই সেই শক্তি এক-এগারোর অপশক্তি; তারা শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে রাখতে পারেনি। মহানগর নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংগঠনের কোন বিকল্প নেই।

নানক বলেন: মনে রাখতে হবে, ৭৫’র ১৫ আগস্ট যারা ঘটিয়েছিল, একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ, পাকিস্তানী গোষ্ঠী; তারা চুপ করে বসে নেই। কারণ একাত্তরে যে রাজাকার, আলবদর, আলশামস পরাজিত হয়েছিল তারা চুপ করে বসে ছিল না। আমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারিনি। সেদিন আমাদের দলের ভিতরে আত্মকলহ ছিল। সেদিন ছিল ভাইয়ের রাজনীতি। আর সেই আত্মকলহ থাকার কারণে আমাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতির ছোবলে জাতিকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন: দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা; অনেকে সন্দেহ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলে, পৃথিবীর অনেক দেশের নাম বলা হতো, তারা নাকি উল্টে-পাল্টিয়ে দেবে? কিন্তু শেখ হাসিনা এমন এক নেত্রী তিনি জনগণের ভিত্তির উপর রাজনীতি করেন।

যোগ করেন: তাই যারা বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। মির্জা ফখরুল সাহেব; আওয়ামী লীগ সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মানে না বলেই শেখ হাসিনা আজ শুধু বাংলাদেশের নেতা নয়, বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখন মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে আরও বলেন: আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। মানবতার নেত্রী এই ১০ লাখকে সেদিন যদি আশ্রয় না দিতেন তাহলে নাফ নদীতে মানুষগুলির আত্মাহুতি দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। সেদিন বিশ্ব মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইনশাল্লাহ, শেখ হাসিনার চৌকষ ও বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতির কারণে এই রোহিঙ্গারাও ফেরত যাবে। কোন রাজনীতি করার সুযোগ আপনাদের দেয়া হবে না।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, ৭৫’র হত্যাকাণ্ডের সাথে খলনায়ক জিয়াউর রহমানসহ যারাই জড়িত আছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য অবিলম্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন গঠন করে সকল তথ্য উদঘাটন করে জাতিকে জানানো।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম মান্নান কচি।

Categories
জাতীয় নিউজ কর্নার

বেকার শ্রমিকদের জন্য সুখবর দিল সরকার

বেকার শ্রমিকদের তিন হাজার টাকা করে দিবে সরকার। তবে এ অর্থ পাবেন রফতানিমুখী উৎপাদনশীল শিল্প পোশাক খাত এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের কাজ হারানো বেকার শ্রমিকরা। এজন্য সরকারের আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, ইইউ ও জার্মানির দেয়া অর্থে এ প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হবে। তিন মাস পর্যন্ত শ্রমিকরা এ অর্থ পাবেন। আগামী মাসেই (সেপ্টেম্বর) এ প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে।পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ জরিপ অনুযায়ী, জুনে এসে অতি দরিদ্র মানুষের আয় কমেছে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেও যারা প্রতিদিন ১০০ টাকা আয় করতেন, জুনে তাদের আয় ৩৪ টাকা কমে ৬৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে অতি দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হয়ে পড়েছেন।

তিন বেলা খাবার জোটানোই এখন তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।জরিপে আরো বলা হয়, করোনার শুরুতে গত এপ্রিল মাসে দেশে দারিদ্র্যের হার ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও জুন মাসে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে। জুন মাসে লকডাউন কিছুটা শিথিল থাকায় এপ্রিলের তুলনায় দারিদ্র্য ১ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় কমেছে রিকশাচালকদের।

তাদের প্রায় ৫৪ শতাংশের আয় কমেছে। এরপরই রয়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন ও অদক্ষ শ্রমিকরা।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষ এখনো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন, এর কোনো বিকল্প নেই।

 

কেননা করোনা মহামারিতে সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষকে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তা এক ধরনের টোকেন সহায়তা। নগদ সহায়তা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি সহায়তা পেয়েছে। এই ১৫ শতাংশ সবাই আবার সাহায্য পাওয়ার যোগ্য ছিল না।

Categories
আমার ক্যাম্পাস নিউজ কর্নার

কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আটক ৭

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে চুরি হওয়া ৪৯ টি কম্পিউটার চুরির সংশ্লিষ্ট ০৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই মিজান। তিনি জানান, বশেমুরবিপ্রবির একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রন্থগার লাইব্রেরী থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূর উদ্দিন আহমেদ বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় গত ১০ আগস্ট একটি মামলা করেন।মামলার ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে একজন ছাত্রসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার গোপনীয়তার স্বার্থে তাদের পরিচয় সাময়িক সময় গোপন রাখা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের তদন্ত অভিযান কার্য চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।
বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট মোট ০৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ । এটা আমারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি তবে এখনও অফিসিয়াল ভাবে জানতে পারিনি।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০ টায় রাজধানীর বনানী এলাকার একটি হোটেল থেকে চুরি হওয়া কম্পিউটারগুলো থেকে ৩৪ টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। ঐসময়ে হোটেল মালিক দুলালসহ বয় হুমায়ুনকে আটক করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ইদ-উল-আযহার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Categories
নিউজ কর্নার

ডাক্তারদের বলা হল শুধু পানি আছে,ইফতার শেষ

সারাদিন রোজা রেখে ডিউটি করে ইফাতারের সময় ইফতার পাননি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক। ইফতার না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ১৬ এপ্রিল, রবিবার হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক ইফতার চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু পানি আছে, ইফতার শেষ।

এমনই অভিযোগ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ইফতার না পাওয়া চিকিৎসকের সহকর্মী কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মারুফ রায়হান খান।

তার পোস্টটি নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলো-

“আজকে ইফতারি না করেই থাকতে হচ্ছে। খাবার নাকি শেষ।”  

“সরি, কর্তৃপক্ষের কাছে ইফতার চেয়ে আমি দুঃখিত এবং কিছুটা লজ্জিত। ইনশা আল্লাহ আর চাইব না”

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মেডিকেল কলেজ হসপিটালে দুটো আলাদা ডিপার্টমেন্টে এখন ডিউটিরত দুজন চিকিৎসকের কথা উপরের দুটো। হ্যাঁ, আপনি বিশ্বাস না করলেও এটা সত্যি যে আজ তাদের কোনো ইফতার ছিল না পানি ছাড়া।

আজ যিনি ডিউটি করছেন তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় ভাইয়া এবং অজ্ঞাতকারণে আমাকে বিশেষ স্নেহ করেন। বিকেলে ফোন দিয়েছেন। মারুফ, তুমি চলে আসো একসাথে ইফতার করি। একা একা ভালো লাগবে না। বাসা থেকে এতোদূর হেঁটে হসপিটালে যেতে ইচ্ছে করল না। ভাইয়া পরে বললেন, আসোনি খুব ভালো করেছো। ইফতার ছিল না৷ আমি ভাবছিলাম, আমি আজ উনার ইনভাইটেশনে ইফতার করতে গেলে কী লজ্জাটাই না তিনি পেতেন।

একটা মানুষ সেই কখন থেকে ডিউটি করছে। পরিবার ছেড়ে বাইরে। একদিকে ভয়াবহ করোনার আতঙ্ক। এসিবিহীন কক্ষে পিপিই পরে ডিউটি করা। রোজা। ক্ষুধা। তৃষ্ণা। ক্লান্তি। নতুন রোগী ভর্তি করা। পুরনো রোগীদের দেখভাল করা। আর সারাটিদিন পর এই মানুষটি ইফতার পেলেন না। যেহেতু হসপিটাল থেকে ইফতার দেবে তাই তিনি আর অন্য চিন্তা করেননি। ইফতারের আগমুহূর্তে জানা গেলো খাবার শেষ। তিনি বলছিলেন, “আমার ইফতার নেই মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমার আন্ডারে যারা ছিলেন তারা কেউই ইফতার পায়নি। এটা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে।”

বাহ ডাক্তার বাহ! এজন্যই ডাক্তাররা আজ লজ্জা পায় নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিতে৷ এদের মানুষই মনে করে না৷ উনারা যারা আজ ইফতার পাননি তাদের বাসায় ভিখিরি এলেও অনেক উন্নতমানের ইফতার পায়। না খেয়ে থাকে না এলাকার কুকুরটিও। কী ভীষণ মন খারাপ লাগছে উনাদের জন্য বলে বোঝাতে পারব না।

যে সমাজ একজন ডাক্তারকে ইফতারের সময় অভুক্ত রাখতে পারে, সে সমাজের চিকিৎসার দরকার কী? এরা যদি একদিন আল্লাহর কাছে সব বলে দেয়?

Categories
নিউজ কর্নার

বিস্ময় শিশুর চোখ ধূসর ও নীল

এক বিস্ময় শিশু সাগর। তার এক চোখ ধূসর, অন্য চোখ নীল। কাছ থেকে দেখলে যে কেউই বিস্মিত হতে পারেন। তবে তার দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক। কোনো সমস্যাও হয় না।
রাজধানীর কমলাপুরের পথশিশু সাগর মা-বাবার সঙ্গে থাকে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের ফুটপাতে।

সেখানে দেখা মিলল তার পরিবারের। সাগরের বাবার চোখও ধূসর রঙের। মায়ের চোখ নীল। ওর বোন বীথির চোখও নীল। সাগরের ক্ষেত্রেই শুধু এই অস্বাভাবিকতা।

বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের রেটিনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. দীপক কুমার নাগ এবং ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা শহীদ।

শিশুটির চোখের বর্ণনা শুনে তারা ধারণা করছেন, জেনেটিক কারণেই এমনটি হয়ে থাকতে পারে।

Categories
নিউজ কর্নার

পিএসের স্ত্রীকে নিয়ে উধাও সাঈদীর বেয়াই জাফরী!

আলেম ও টিভি উপস্থাপক কামালুদ্দীন জাফরীর বিরুদ্ধে অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই সন্তানসহ ওই নারীকে তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোতে নিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

জাফরী জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত রুকন, বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বেয়াই। সাঈদীর ছেলের সঙ্গে জাফরীর মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বেয়াই পরিবারও জাফরীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

এর আগে নিজ বাসায় ভাড়াটিয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে তৃতীয় স্ত্রী করে নেয়ার ঘটনায় নরসিংদীতে স্থানীয় পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছিলেন কামালুদ্দীন জাফরী।

এবার নওশীন আলম (৩৩) নামে যে নারীকে জাফরী (৭৩) ভাগিয়ে নিয়ে গেছেন তিনি তারই সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিনের স্ত্রী। অভিযোগকারী আব্দুল মতিন বর্তমানে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার একটি মসজিদে ইমামতি করেন।

আব্দুল মতিন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে অপহরণের বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামি ব্যাংকস অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জাফরী সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান। তার নৈতিক স্খলনের তদন্ত এবং শরিয়া বোর্ড থেকে বহিষ্কারের আবেদন করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। যেসব ব্যাংক সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য তাদেরও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মতিন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ২০০৭ সালে যোগ দেই। একই সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জাফরীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাই। ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করি। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাই। আমার অনুপস্থিতির সুযোগে আমার স্ত্রী নওশীন আলমকে সৌদি আরবের মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিনা খরচে সৌদিতে নিয়ে যাওয়া এবং মক্কায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগে (রাবেতা আলমে ইসলামি) চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাফরী। হাতিরঝিল এলাকায় অর্ধলক্ষ টাকা মাসিক ভাড়া বাসায় নওশীনকে নিয়ে রাতযাপন করতেন। আমার বাসা ছিল এর খুব কাছাকাছি দক্ষিণ বনশ্রীতে, যেখানে তিন সন্তানসহ আমরা স্ত্রী থাকতো। অথচ কামালুদ্দিন জাফরীর তিন স্ত্রী এবং ১৪ সন্তান রয়েছে।

মতিন আরো জানান, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসেন। স্ত্রী-সন্তানদের অস্ট্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইউরোপ যাওয়ার ১০ দিন আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জাফরীর এক ঘনিষ্টজন মতিনকে ফোন করে জানান, নওশীনকে জাফরী গতকাল (২৭ ডিসেম্বর) বিয়ে করেছেন। এ কথা শুনে তিনি হতবাক হয়ে যান। কারণ, জাফরী তার বাবার বয়সী। আর নওশীনের সাথে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদও হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি মতিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অস্ট্রিয়ায় ভিয়েনায় তার কর্মস্থলে চলে যান। এর আগে ২ জানুয়ারি উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে স্বামীর অনুগত থাকা এবং জাফরীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার শর্তে এক অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন নওশীন। সেই স্ট্যাম্পের কপিও দেখিয়েছেন মতিন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন নওশীনের সঙ্গে জাফরীর ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো।

মতিন দাবি করেন, কামালুদ্দিন জাফরী তাকে হত্যা করার জন্য অথবা সন্ত্রাসী অপবাদ দিয়ে ইউরোপীয় পুলিশে সোপর্দ করার জন্য নওশীনের সঙ্গে যোগসাজশ করেন।

অস্ট্রিয়া যাওয়ার এক সপ্তাহরে মাথায় জাফরীর সঙ্গে ফোনালাপের এক পর্যায়ে নওশীন বাসার ড্রয়িং রুমের জানালা খুলে চিৎকার করতে থাকে। প্রতিবেশীরা পুলিশকে ফোন করে। পুলিশ এলে নওশীন দরজা খুলে দেন এবং তাদের বলেন, তার স্বামী একজন সন্ত্রাসী, তাকে ধরে নিয়ে যান। ইউরোপের একজন ইমামকে সন্ত্রাসী বলায় পুলিশ হাসি দিয়ে, ইউরোপের আইন মেনে চলার জন্য নওশীনকে পরামর্শ দিয়ে চলে যায়।

এর ঠিক এক সপ্তাহ পর আবারও দরজা খুলে চিৎকার শুরু করেন নওশীন। এবারও প্রতিবেশীরা পুলিশে ফোন দিলে পুলিশ এসে মতিন, নওশীন এবং এক প্রতিবেশীকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশ নিশ্চিত হয়, নওশীন তার স্বামীকে হত্যা অথবা সন্ত্রাসের অপবাদ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার জন্য তৃতীয় কোনো ব্যক্তির হুকুম তালিম করছে।

এই কারণে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টায় দুই সপ্তাহের জন্য নওশীনকে গ্রেপ্তার করে ভিয়েনা পুলিশ তাকে অ্যাগ্রেসিভ নারী সেলে পাঠায়। এই সময় জাফরীর সঙ্গে কয়েকবার মোবাইলে কথা বলেন নওশীন। এছাড়া জেলে থাকা অবস্থায় কয়েকশবার তারা কথা বলেছেন। ওই কথোপকথনের কললিস্ট রের্কড অস্ট্রিয়ার টি-মোবাইল কোম্পানি থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে জাফরী ভিয়েনায় বসবাসকারী তার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে নওশীনকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করে। জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার পর ৩১ জানুয়ারি ভিয়েনা থেকে রওনা দিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি নওশীন ছোট দুই সন্তানসহ বাংলাদেশে চলে আসেন। মতিন দাবি করেন, তাদের বিমানের টিকিটের টাকাটাও তিনি দিয়েছেন।

আব্দুল মতিন বলেন, পহেলা ফেরুয়ারি তারা দেশে ফেরে। এই কেলেঙ্কারি যাতে ফাঁস না হয়, সংবাদ মাধ্যম এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রাখার জন্য ওই মাসের শেষের দিকে সৌদি আরবের ভিসা নিয়ে নওশীন আলমসহ দুই শিশু সন্তানকে (জাওদান ও আফনানকে) ‘অপহরণ’ করে সৌদি আরব নিয়ে যান জাফরী।

সৌদি আরবে যেসব দাতা জাকাত-সদকার বিপুল টাকা পয়সা জাফরীকে দিতেন তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন মতিন। সৌদি আরবে জিনা ব্যাভিচারের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় জাফরী তাড়াহুড়া করে নওশীন ও দুই সন্তানকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এরপর তড়িঘড়ি করে ২০১৫ সালের মার্চের শেষের দিকে মিশরের রাজধানী কায়রোতে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা কায়রোতেই আছেন। সেখানে জাফরী তার ঘনিষ্ট দুই ব্যক্তির জিম্মায় নওশীন আলমকে রেখেছেন। মাঝে মাঝে সেখানে যান জাফরী। দু’জনকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে।
কায়রোর রাস্তায় দুই শিশুকে নিয়ে হাঁটছেন নওশীন

মতিন অভিযোগ করে বলেন, জাফরীর পরামর্শে এবং ফাঁদে পড়ে নিকাহনামা জালিয়াতি করে আমার স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানকে জাফরী বাংলাদেশ থেকে প্রথমে সৌদি এবং পরে মিশরে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।

জাফরীর কি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করে নিয়ে গেছে এই প্রশ্ন করলে আব্দুল মতিন বলেন, নওশীন এখনও আমার স্ত্রী। আমি তাকে তালাক দেইনি। স্ত্রীও আমাকে তালাক দেয়নি। তাহলে উনি কীভাবে বিয়ে করলেন? আমাদের তিন পুত্র সন্তান আছে। একটি সন্তান আমার সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় থাকে। ছোট দুই সন্তান মায়ের কাছে।

তাহলে কেন আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না এই প্রশ্নে মতিন বলেন, কামালুদ্দিন জাফরীর বাংলাদেশের নেতানেত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ইতিমধ্যে আমার ভাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন। আমি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আশ্রয় নিবো।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, কামালুদ্দিন জাফরী একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়াসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় ওই সময় ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া বোর্ড থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে জামায়াতের রুকন পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সূত্রটি দাবি করে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যখন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আটক হন, একই সময় জাফরীও আটক হন। তবে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি সরকার দলীয় এক সংসদ সদস্য অগ্রণী ব্যাংককে ‘সেন্ট্রাল শরীয়া বোর্ড’র সদস্য পদ পরিত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেন। তিনি ওই চিঠিতে বলেন, জাফরী চাঞ্চল্যকর নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার একজন তালিকাভুক্ত আসামি। ব্যক্তিগত সহকারীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে চতুর্থ স্ত্রী গ্রহণ করার মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার কারণে ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সদস্য সচিব পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৯ মার্চ অগ্রণী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ১৮তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেন্ট্রাল শরিয়া বোর্ড থেকে নিজেদের সদস্য পদ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এতিম গরীবদের নামে বিপুল পরিমান যাকাত ও সদকার টাকা প্রতিমাসে পেয়ে থাকেন কামালুদ্দিন জাফরী। এর সিংহভাগই তিনি ফূর্তি করে উড়িয়ে দেন।

নরসিংদীতে জামেয়া কাসেমিয়া মাদরাসা এবং ঢাকাস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা এনে নিজের অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন নামে ব্যাংকে রাখেন জাফরী। যার হিসাব-নিকাশ কখনোই দিতে পারেননি। এই দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এই টাকা পয়সার হিসাব চাওয়ার সাহসও পায় না।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কামালুদ্দিন জাফরীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সূত্র : বাংলা মেইল

Categories
নিউজ কর্নার

একনজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনী

একনজরে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ

১৯২০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

১৯২৭

৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৪

১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।

১৯৩৭

চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৮

১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।

১৯৩৯

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধু স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।

১৯৪০

শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।

১৯৪২

এস.এস.সি পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।

১৯৪৩

সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

১৯৪৪

কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতাস্থ ফরিদপুর বাসীদের একটি সংস্থা ‘ফরিদপুরস্থ’ ডিসট্রিক্ট এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৬

বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

১৯৪৭

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কোলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক-ভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন। ২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবμমে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৪৯

২১ জানুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাকে জরিমানা করে। তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহি®কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন। জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন। সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন। ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারে তাকে প্রায় দু বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়।

১৯৫২

২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একটানা ১৭ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাকে ঢাকা জেলখানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি “পিকিং”-এ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন।

১৯৫৩

৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়। এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৯৫৪

১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়। ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৫

৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন। ২৫ আগস্ট করাচীতে পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বলেন,

Sir, you will see that they want to place the word ‘East Pakistan’ instead of ‘East Bengal’. We have demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word ‘Bengal’ has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it. So far as the question of One-Unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken up just now? What about the state language, Bengali? What about joint electorate? What about Autonomy? The people of East Bengal will be prepared to consider One-Unit with all these things. So, I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of referendum or in the form of plebicite.

অনুবাদ : “স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ববাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে; আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রসঙ্গটা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আপনারা এই প্রসঙ্গটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলাভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রসঙ্গটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধেই বা কি ভাবছেন? পূর্ববাংলার জনগণ অন্যান্য প্রসঙ্গগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রসঙ্গটাকে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন। ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬

৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া শাসনতন্ত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন বঙ্গবন্ধু। ৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয়। চকবাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৭

সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।

১৯৫৮

৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়। প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬১

৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৬২

৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। ২৫ জুন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন। ৫ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান, এখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সারা বাংলা সফর করেন।

১৯৬৩

সোহরাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন।

১৯৬৪

২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬৫

শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের। এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬

৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। এ সময় তাকে সিলেটে, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আট বার গ্রেফতার হন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়।

১৯৬৮

৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কার্য শুরু হয়।

১৯৬৯

৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কার্ফু ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তিদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, ‘গণ-অসন্তোষ নিরসনে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।’ পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৩ মার্চ তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে লন্ডন গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।

১৯৭০

৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামীলীগ কে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।

১৯৭১

৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা এবং জনগণের প্রতি আনুগত্য থাকার শপথ গ্রহণ করেন। ৫ জানুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন লাভকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে তার সম্মতির কথা ঘোষণা করেন। জাতীয় পরিষদ এক বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৮ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনদিন বৈঠকের পর আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দুই প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান। ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনাব ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ।’ ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান। ৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।” শত্রু“র বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। একদিকে রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত অপরদিকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত, বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলতেন। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্প-কারখানা সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে বাংলার মানুষের সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মূলত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুই রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। ১৬ মার্চ ঢাকায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার জন্য জনাব ভুট্টো ও ঢাকায় আসেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন :

This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.

অনুবাদ : ‘সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’] এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আμমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রু দের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু কে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।
-শেখ মুজিবুর রহমান

হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬শে মার্চ জেঃ ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ লাভ করে স্বাধীনতা। তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের লায়ালপুর সামরিক জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানায়। ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোন অধিকার নেই তাকে বন্দি করে রাখার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

১৯৭২

৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠান হয়। ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ হয়। লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লি−তে যাত্রা বিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর বন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লক্ষ জনতার সমাবেশ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ভারত যান। ২৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ৩০ জুলাই লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর লন্ডন থেকে তিনি জেনেভা যান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কারে ভূষিত করে। ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/ স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্স এর প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

১৯৭৩

জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ। ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্য-ফ্রন্ট গঠিত। ৬ সেপ্টেম্বর জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়া যান। ১৭ অক্টোবর তিনি জাপান সফর করেন।

১৯৭৪

২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দান। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন। বঙ্গবন্ধু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাঙালি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাই স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজান। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্ল−বের কর্মসূচি ঘোষণা দেন যার লক্ষ্য ছিল- দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত করবার মানসে ৬ জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পান। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। চোরাকারবারি বন্ধ হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্ষমতার আওতায় চলে আসে। নতুন আশার উদ্দীপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মানুষের সে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।

১৯৭৫

১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লেঃ শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নীপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয়া হন জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার। বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য এক সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুনিদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।

সূত্র : জাতির জনক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, রাস্তা-৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯

Categories
নিউজ কর্নার

প্রাচীন যুগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ভয়ংকর কিছু পন্থা

মৃত্যু শব্দটা মনে পড়লে আমাদের সবার মনের ভিতর কেমন এক অজানা ভয় কাজ করে। আর সে মৃত্যু যদি হয় আপরাধের বিনিময়ে খুবই ভয়ংকর ভাবে তবে? সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল আর সম্রাজ্যের ছিল আইন-কানুন। সে যুগে অপরাধী মানুষের জন্য ছিল কঠিনতম শাস্তি।
সেই প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা চোখের বদলে চোখ, হাতের বদলে হাত নেওয়ার আইন; এরপর গোত্রপ্রধানের উৎপত্তি আর নতুন নতুন সব নিয়মের জন্ম- এভাবেই সবসময় চলে এসেছে রাষ্ট্রের নানাবিধ ব্যবস্থা আর বিধি-নিয়ম। হয়তো তখন রাষ্ট্র ছিল কিংবা ছিলনা। কিন্তু মানুষ তার নিজের মতন করে গোত্র, সমাজ, রাজত্ব, নগর রাষ্ট্র এবং সর্বশেষ শহরের মাধ্যমে চেষ্টা করেছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করতে ও মেনে চলতে। আর সেই নিয়ম মানার ও নিয়ম ভাঙার মনোভাবই মানুষকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রের দিকে।

প্রাচীন যুগের পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পন্থা ছিল অমানবিক। সে যা-ই হোক, সেই শাস্তিগুলো বাস্তবায়নের উপায় জানলে বিস্মিত না হয়ে থাকার উপায় নেই। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক প্রাচীন পৃথিবীর মৃত্যুদণ্ড পদ্ধতিগুলো-

চামড়া ছাড়ানো
চামড়া ছাড়ানো এক বীভৎস মৃত্যুদণ্ড ড কার্যকর করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে জীবিত মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে টেবিলের সঙ্গে বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় তার চামড়া ছাড়ানো হতো। আর ছাড়ানো চামড়া জনসম্মুখ্যে টানিয়ে রাখা হতো, যাতে সবাই দেখতে পারে এবং শাসককে ভয় পায়।

বেস্টিয়ারাই
ভাবুন তো আপনাকে একটা বিশাল মাঠে ভয়ংকর কিছু প্রানীর মাঝে ছেড়ে দেয়া হল, চারপাশে অনেক মানুষ কিন্তু কেউ আপনাকে সাহায্য করতে এলো না। কি ভয়ংকর ভাবলেই মেরুদন্ড দিয়ে ঠান্ডা শিহরন বেয়ে যায়। আদি রোমান সম্রাজ্যের সময় কিন্তু ঠিক এমনটাই করা হতো।

বেস্টিয়ারাই আদি রোমান সম্রাজ্যের একটা খেলা। যেখানে বীরেরা হিংস্র প্রাণীর সম্মুক্ষীন হয়ে তাদের পরাস্ত করতো। কিন্তু এই খেলাকেও ব্যবহার করা হত মৃত্যুদন্ড কার্যকরের উপায় হিসেবে। যাদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হতো তাদের উলঙ্গ করে ছেড়ে দেয়া হতো হিংস্র প্রানীদের মাঝে। আর কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হিংস্র প্রানীরা মেরে ফেলতো মৃত্যুর সাজা পাওয়া ব্যক্তিকে এবং খেয়ে ফেলতো। আর এই মৃত্যু দেখে এই খেলা দেখতে আসা দর্শকেরা উল্লাসে গলা ফাটাতো। তাদের জন্য এটা ছিল শুধু মাত্র বিনোদন।

মাজাটেল্লো
মাজাটেল্লো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সব থেকে বীভৎস প্রক্রিয়া গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। এক্ষেত্রে শহরের মাঝে উঁচু মঞ্চে আসামিকে এনে তার মাথায় কাঠের তৈরি এক হাতুরি দিয়ে জোড়ে আঘাত করে তার মাথা থেতলে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। এই প্রক্রিয়া চালু ছিল ১৮শ দশকের দিকে ইউরোপের সেসকল দেশে, যেখানে পোপের আইন চালু ছিল।

ন্যায়ের ঝাঁকি
ন্যায়ের ঝাঁকি এর প্রথা প্রথম চালু হয় আমেরিকাতে, কিন্তু আমেরিকাতে বর্তমানে এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে ইরানে এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অনেকটা বাংলাদেশে চালু ফাঁসির কার্যকর করার পদ্ধতির মত হলেও কিছুটা ভিন্ন। এক্ষেত্রে আসামিকে জনসম্মুক্ষে গলায় দড়ি পরিয়ে দড়িটি উপরে দিকে টেনে তোলা হয়। আর দড়িটি তোলার সময় ঝাঁকি দেয়া হয়, যাতে আসামির ঘাড় ছিড়ে যায়। দড়িটি তুলতে সাধারণত ক্রেন ব্যবহার করা হয়।

নিষ্পেষণ
নিষ্পেষণ পদ্ধতি অনেকটাই হাতি দ্বারা কার্যকর করা মৃত্যুদণ্ডের মত। তবে কিছুটা ভিন্ন। এই পদ্ধতি মূলত মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো না, তবে যে সকল আসামির উপর ব্যবহার করা হতো তারা সকলেই মৃত্যুবরণ করতো। এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল আমেরিকায় আর সেখান থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটির বিস্তার ঘটে। তৎকালীন সময়ে কোনো সাধারন ব্যক্তি বা দাস যদি কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিশেষ ব্যক্তিদের দ্বারা দোষী হিসেবে আক্ষা পেত, তাহলে তাদের দিয়ে দোষ স্বীকার করানোর কাজেই ব্যবহার করা হতো এই পদ্ধতি।

এক্ষেত্রে আসামিকে মাটিতে শুইয়ে তার উপর ভারি বস্তু রাখা হতো, আর প্রতিবার তাকে তার দোষ স্বীকার করার কথা বলা হতো। স্বীকার না করা পর্যন্ত ওজন বাড়িয়ে যাওয়া হতো, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে মারা যায়। তবে দোষ স্বীকার করলেও যে মুক্তি পেত তা নয়, সেই দোষের জন্য এবং সবাইকে মিথ্যা বলার দ্বায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। মানে কোন ভাবেই নিস্তার নাই।

ক্যাথেরিনের চাকা
ক্যাথেরিনের চাকা নামটি কেন এসেছে তা জানা নেই, তবে কোন নারীর নামের সঙ্গে যে সম্পর্কিত তা নাম শুনেই বোঝা যায়। হয়তবা ক্যাথিরিন নামে কেউ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল। এই ক্যাথেরিনের চাকার আরেকটি হচ্ছে ব্রেকিং হুইল। এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা মানে সত্যিকার অর্থে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা।

এই পদ্ধতিতে আসামিকে একটি চাকার সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা হয়, এর পরে চাকাটি জোড়ে জোড়ে ঘুরতে থাকে, এ সময় জল্লাদ চাবুক বা লাঠি দিয়ে ঘুরতে থাকা আসামির গায়ে সর্বোচ্চ জোড় দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আঘাত করতে করতে জল্লাদের মন ভরলে সে তখন মোটা লোহা দিয়ে আসামির হাতে আর পায়ে পেরেক পুতে দেয়, তারপর আবার আঘাত হানা শুরু করে জল্লাদ। যত সময় মন চায় চালিয়ে যায়। মন তৃপ্ত হলে তখন পেরেক পোতা অবস্থায় আসামিকে শহরের মাঝে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়, যাতে সবাই দেখতে পারে। অনেকটা ক্রুসের মত শুধু পার্থক এখানে ক্রুস না দিয়ে ক্রস আকৃতির খুটির সঙ্গে পেরেক দিয়ে হাত পা লাগানো থাকে।

এই ছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বীভৎস পন্থা। বর্তমান যুগে এই সকল পদ্ধতির মধ্যে কয়েকটি বাদে বাদবাকি পদ্ধতি গুলো ব্যবহৃত হয় না। মৃত্যু সকল জীবের চিরন্তন সত্য একটি বিষয়। তবে এই ধরনের মৃত্যু সত্যি ভয়ংকর।সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

Categories
নিউজ কর্নার

বাদাম বেচে সংসার চালানো মেয়ে যাচ্ছে নাসায়! প্রশংসার ঝড়

বাবা বাড়িতে থাকেন না। সে কারণে সংসার চালাতে হয় মেয়েকে। একাদশ শ্রেণির এই ছাত্রী বাদাম বেচে, ছাত্র পড়িয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়েই সংসার চালায়। পাশাপাশি মানসিক রোগী মা এবং ছোট ভাইয়ের দেখভালও করতে হয় ভারতের তামিলনাড়ুর জয়লক্ষ্মীকে।

জয়লক্ষ্মী এতকিছু করার পরেও সে জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। আর সেই মেয়েই এবার পাড়ি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, সেটাও নাসায়। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে।

ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান প্রিয় বিষয় জয়লক্ষ্মীর। ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের মতো হবে সে।
অভাব–অনটন, বাধা–বিঘ্ন থাকলেও নিজের স্বপ্নে একটুও চিড় ধরেনি জয়লক্ষ্মীর। বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। ইচ্ছা হলে টাকা পাঠান, না-হলে পাঠান না। তাই সংসারের ভার তার ওপরেই। বড় হয়ে বিজ্ঞান নিয়েই পড়াশোনা করবে বলে কোচিং ক্লাস নিয়ে একটু আধটু ইংরেজিও শিখে নিয়েছে জয়লক্ষ্মী।

একেবারেই নিজের চেষ্টাতেই নাসায় গিয়ে মহাকাশচারীদের সঙ্গে দেখা করতে চলেছে সে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালের মে মাসে নাসায় যাচ্ছে সে। কিভাবে এল এই সুযোগ?

জয়ালক্ষ্মী জানায়, একদিন হঠাৎ করেই কাগজের একটা খবরে চোখ আটকে যায়। একটি সংস্থা নাসা যাওয়ার জন্য সব শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে একটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। খবরটা দেখেই আর বসে থাকতে পারিনি আমি। সব কাজ ফেলে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে প্রতিযোগিতার জন্য ফর্ম ফিলআপ করি। নিজের মতো করে বাড়িতেই প্রস্তুতি নিতে থাকি। আর সেই পরীক্ষায় সফলও হই।

তাতেও অবশ্য সব সমস্যার সমাধান হয়নি। সমস্যা এবার অন্য জায়গায়। নাসায় ঢোকার টিকিট তো পেয়ে গেছে, কিন্তু যাতায়াত খরচ! সেও তো অনেক টাকা। কয়েকজন শিক্ষক আর তার সহপাঠীরা মিলে পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়েছে তার। পাসপোর্ট অফিসারও তাকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট নয়। জেলা প্রশাসকের কাছেও আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে সে।

বিজ্ঞান প্রেমী এই মেয়েকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কী করে পেল সে এই সুযোগ? এই প্রশ্নই ঘনীভূত হয়েছে। সূত্র: আজকাল

Categories
নিউজ কর্নার

ধর্ষণের ভিডিও সিডি বিক্রির বাজার

ছোট ছোট দোকান। মোবাইল রিচার্জ, ফটোকপি বা গান ছবি ডাউনলোড করা হয়। কিন্তু অস্বাভাবিক ভিড় দেখলে যে কারও কৌতূহল জাগবে। কী এমন আছে এসব দোকানে যে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়!

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আগ্রা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাজারে এমন দোকান দেখা যায়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এসব দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ধর্ষণ ও গণধর্ষেণের ভিডিও। এসব ভিডিও বিক্রি হচ্ছে ৫০ রুপি থেকে ১৫০ রুপিতে। যেন এখানে ধর্ষণের ভিডিও বিক্রি হয়।

অবশ্য পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে একটু কৌশলী দোকানিরা। বিশ্বস্ত এবং চেনা মুখ ছাড়া কাউকেই এই ভিডিও তারা দেখায় না।

আগ্রার এক দোকানদারের ভাষ্যমতে, বেশিরভাগই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিও। কখনো কখনো ধর্ষণকারীরাই এগুলো পোস্ট করে। আবার অনেক সময় কেউ একজন এসব ভিডিও করে সরাসরি দোকানে দিয়ে যায়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও করে অনেকে। দূর থেকে কোনো ধর্ষণের ভিডিও রেকর্ড করে দোকানে এসে বিক্রি করে। এধরনের ‘এক্সক্লুসিভ’ ভিডিও-র দামও বেশি হয়। এসব ভিডিওর মধ্যে যেমন আছে সাজানো নাটক আর সত্যিকারের ধর্ষণের ঘটনাও আছে। ক্রেতাদের পছন্দমতো ভিডিও তাদের মোবাইল বা পেনড্রাইভে ডাউনলোড করে দেন দোকানিরা।

এ ব্যাপারে আগ্রার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বেশ কিছু দিন আগে খবর পেয়ে তাজগঞ্জ এবং সর্দার এলাকার বাজারে অভিযান চালিয়ে এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারপর থেকে তারা আরও বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, শুধু এই দুই এলাকাতেই নয়, বেলাগঞ্জ, বালকেশ্বর, কামলানগরের মতো উত্তরপ্রদেশের আরও অনেক এলাকায় এই ধরনের ভিডিও কেনাবেচা চলছে। পুলিশ এ নিয়ে বেশ চিন্তিত। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা