Categories
বিশেষ ফিচার

সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে

বহু ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি তাদের ভাষার অধিকার পায়। তার ই প্রেক্ষিতে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বাংলা ভাষার কতটুকু বাঙালি জাতি তাদের ভাষা ব্যাবহার করছে তা প্রশ্ন থেকেই যায়। ভাষার অপব্যাবহার রোধে তরুনরা কি ভাবছেন!
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন খালেদুল হক,

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বাংলা ভাষার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।আর উপস্থাপনাতেও বাংলা আর ইংরেজি মিলিয়ে জগাখিচুরি বানিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং এটাকেই মানসমম্মত মনে করা হচ্ছে।এমনকি পরীক্ষার খাতাতেও ছাত্রছাত্রীরা এমন এমন শব্দ লিখছেন যা বাংলা ভাষার জন্য চরম অবমাননাকর।আমরা ছাড়া কেউ ভাষার জন্য রক্ত দেন নি।তাই বাংলা ভাষা রক্ষার্থে ও সংরক্ষনে এগিয়ে আসা আমাদের সবার উচিত’।

নুরুল মুক্তাদির ফয়সাল,
ইংরেজি বিভাগ, কুবি।

‘মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। গৌরবজ্জ্বল এই দিনটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে সুপরিচিত।এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি বিজড়িত একটি দিন।১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা আন্দোলনের মিছিলে মিলিটারীরা গুলি ছুঁড়ে ছাত্রদের হত্যা করার জন্য। এতে মারা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রফিক, শফিক,বরকত জব্বার ও সালাম সহ আরও অনেকে। সেই শহীদদের স্মরণে তৈরী হয় প্রথম শহীদ মিনার। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই আমরা বাঙালি জাতি শহীদদের কে স্মরণ করার জন্য প্রতিবছর ২১ শের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেই, শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিভিন্ন দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর বাঙালি জাতির অনন্য ত্যাগের স্বীকৃতি স্বরুপ UNESCO আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এই দিন কে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যা ১৮৮ দেশে পালিত হয়। ২০২০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে আমার প্রত্যাশা হলো দূর্নীতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়া এবং সবখানেই যেনো বিশুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রকাশ পায়”।

হেলাল উদ্দিন,
অর্থনীতি বিভাগ, কুবি।

ভাষার মূল্য বা গুরুত্ব পুস্তক বা ভাষণে অনেক পড়েছি ও শুনেছি। তবে মাতৃভাষার টান অনুধাবন করতে পারলেও সকলে অনুভব করতে পারে না। আমিও কতোটুকু পেরেছি তা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম কিন্তুু ভিনদেশে গিয়ে প্রকৃত অর্থে মায়ের ভাষার গুরুত্ব এবং টান তিলে তিলে অনুভব করেছি। ভিনদেশে বিভিন্ন ভাষার ভিড়ে যখন কারো মুখে বাংলা বুলি শুনতাম মনে হতো যেনো আপন কেউ কথা বলছে এবং অনুভূতিটা এমন ছিলো যেনো কলিজায় কেউ জল দিয়ে প্রশান্তি দিলো। বর্তমান প্রজন্ম বাংলার প্রতি খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করে না। আবার বাংলা বললেও নিজের মতো দুমড়ে মুচড়ে ব্যবহার করে যা মোটেও আশানুরূপ নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে একজন বাবা-মা। আমি এখনো একটি কথা প্রায়শই বলে থাকি, দ্বিতীয় শ্রেনীতে থাকাকালীন প্রভাতফেরিতে একটি কাটা আমার আঙ্গুলে বিঁধে। আমি কান্না করার সময়ই বাবা আমাকে বলেছিলেন তুমি একটি কাটা বিঁধেছে বলে কান্না করছো, ভাষাশহীদগণ তো বুকে বুলেট বিঁধেছিল।

ব্যস এটুকুই এখনো এই কথাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধায় নতজানু হয়ে যাই। সৃষ্টিকর্তা সকলকে তাদের ত্যাগের যথাযোগ্য উপহার দিক এবং আমরাও যেনো তাদের ত্যাগের মূল্য দিয়ে মাতৃভাষার যত্ন নিতে পারি এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।

নাফিস আহমেদ,
ইংরেজি বিভাগ,কুবি।

“ফেব্রুয়ারি মাস যখন আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ে তখন-ই আমাদের আবেগ জমা হয় ভাষা নিয়ে। অন্যন্যা মাসে আমাদের মাতৃভাষা নিয়ে ততটা মাথা ঘামাই না, যতটা ভাবা দরকার। বর্তমান সময়ে আমাদের মায়ের ভাষাকে যথেচ্ছা ব্যবহার লক্ষ করি ভদ্র মহলে। চর্চায়, চিন্তায় এবং প্রতিদিনের কর্মে শহীদী ভাষা এই আমাদের বাংলা ভাষার মূল্যায়ন চাই সুনিশ্চিত। ভাষার সবচেয়ে ভালো প্রকাশ সাহিত্য এবং সংস্কৃতি। এই উভয়ের মেলবন্ধন রেখে আমাদের উচ্চশিক্ষায় এর প্রয়োগ এবং গতিশীলতার পথ খোঁজার এখনই উপযুক্ত সময়”।

আব্বাস খান
বাংলা বিভাগ, কুবি

Categories
তারুণ্য বিশেষ ফিচার

ভালোবাসা দিবসে অশ্লীলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে!

আজিজুর রহমান,হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

জন্মের পর থেকেই মানুষের বেড়ে উঠা ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই।ভালোবাসা না থাকলে কোন পরিবার থাকতো না।থাকতো না পৌরাণিক উপাখ্যান।সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালোবাসার সন্ধান।ঠিক কবে এই ভালবাসার উৎপত্তি হয়েছে তা জানা সম্ভব না হলেও এতটুকু জানা যায় ইতিহাস বিবর্তনের চেয়েও আদিম ও পুরোনো।

হয়ত ‘ভালোবাসা-ভালোবাসি’ শব্দটি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটি।বাংলা বর্ণমালার কয়েকটি বর্ণের সমষ্টিতে সৃষ্ট শব্দ ‘ভালোবাসা’।এই বর্ণসমষ্টি বন্ধনের জড়িয়েছেন স্রষ্টার-সৃষ্টি,বাবা-মা,ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী,প্রেমিক-প্রেমিকাসহ সকল মানব-মানবী।

আগামীকাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস!বিদেশি সংস্কৃতির এ দিবসটি দিন দিন বাঙালিরাও আপন করে নিচ্ছে।বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি নিয়ে কৌতূহলের যেন অন্ত নেই।

১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত দিন।দুনিয়াজুড়ে এ দিনটিকে অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে। তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও দিনটি নিয়ে থাকে প্রচুর মাতামাতি।হঠাৎ করেই যেন আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলনটা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।গত এক যুগ ধরে ভালোবাসা দিবসে উপহার ও ফুলের দোকানগুলোর ব্যবসা থাকে রমরমা।

কিন্তু এই ভালোবাসা দিবসের নামে বাঙালীরা আজ শুধু অধঃপতনের দিকেই যাচ্ছে।নিজের শালীন সংস্কৃতি ভুলে আধুনিকতার নামে দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে বেছে নিচ্ছে ভিনদেশী অপসংস্কৃতি। ভালোবাসা দিবসও এর বহির্ভুত নয়।১৪ই ফেব্রুয়ারিতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যাকে কেন্দ্র করে করা হয় হাজারো বেহায়া ও বেলেল্পাপনাময় কর্মকান্ড।পার্ক জুড়ে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ঢল।ফুল দিয়ে মন বেচা-কেনাসহ কত যে অযাচিত ঘটনা।উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরাই সাধারণত এতে অগ্রগামী।

অনেকেই বলেন ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।প্রেম হতে পারে প্রেমিকার সঙ্গে,প্রকৃতির সঙ্গে, কিংবা স্রষ্টার সঙ্গে।তবে ভালোবাসা দিবসটি যেহেতু প্রেমিক-প্রেমিকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে,তাই সমসাময়িক ভালোবাসা দিবসে তরুণদের ভাবনা কেমন সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন,১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।”ভালোবাসা” এই শব্দটি এর চেয়ে কোমল শব্দ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি অাছে বলে অামার জানা নেই।এই ভালোবাসা টা অামরা শুধুমাত্র প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই অামি সীমাবদ্ধতায় রাখতে চাই না।সন্তানের প্রতি বাবা’র ভালোবাসা,স্বামী প্রতি স্ত্রী’র ভালোবাসা,পিতামাতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রাধান্য পায় এটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরও জানান,তবে ইদানিং ভালোবাসার নামে সেসব নোংরামি প্রদর্শন করা হয় তাতে শয়তানও লজ্জিত হয়।সভ্যতার অার সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে নোংরামি বন্ধ করার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে অশ্লীলতার আগ্রাসন থেকে মুক্ত করে পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বশেমুরবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী বিজয় বলেন,ভালোবাসা দিবস এটা অবশ্যই ভালো দিক।কিন্তু বতর্মানে এই পবিত্র দিনে বাঙালী সংস্কৃতি পরিবর্তে পশ্চিমা সংস্কৃতি চলে আসায় নানান অনৈতিক কার্যক্রম চলে যা আমাদের দেশের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চলে যায়।

আমরা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মানে প্রেমিক যুগল ভেবে থাকি।কিন্তু আমরা এটাকে বাবা-মায়ের ভালবাসা,ভাই বোনের ভালবাসা,প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা হতে পারে।প্রাধান্য দেওয়ার দিক থেকে বাবা-মায়ের ভালবাসাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন,আঁশি/নব্বই দশকের ভালবাসার সাথে বিংশ শতকের ভালবাসায় অনেক ফারাক বিদ্যমান।বর্তমান ভালবাসার সর্ম্পকে ৫০ শতকরা ব্যক্তিস্বার্থ থাকে যার জন্য ২০ শতকরা প্রেমিক প্রেমিকারা বিয়ে পর্যন্ত এগোতে পারে।বাকীগুলো বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের কারণ হিসেবে দাড়িয়ে যায়।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কেয়া জানান, ভালোবাসা চিরন্তণ এবং সব মানুষের মধ্যেই এটি সবসময় বিরাজ করে।অতীতে ভালোবাসা ছিলো নিতান্তই আত্নিক,তাই প্রকাশ ছিলো শুধু ভালোবাসার মানুষগুলোর মধ্যে,লোক দেখানো ব্যাপারটি অনেকে চিন্তাও করতো না।এখন হয় এর উল্টোটি।এখন ভালোবাসা অনেকাংশেই লোক দেখানো ব্যাপারটি জড়িত থাকে।বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভালোবাসার অর্থ টা ভিন্ন।তাই নতুন প্রজন্মের অনেকেই ভালবাসা দিবস‌কে পুঁজি করে অশ্লিল কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।দিনে দিনে এই ভয়াবহ প্রবণতা বেড়েই যাচ্ছে।যা ভালোবাসার মত পবিত্র বন্ধনকে প্রশ্নসিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও,ভালোবাসা বিরাজ করুক প্রতিটি পরিবারে এটাই কামনা।

আজিজুর রহমান,
দপ্তর সম্পাদক, হাবিপ্রবিসাস

Categories
আমার ক্যাম্পাস বিশেষ ফিচার

দ্বিতীয় বারের মতো পুলিশের বিপিএম পদক পাচ্ছেন নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী অহিদুজ্জামান নূর

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মান বিপিএম-সেবা পদক-২০১৯ পাচ্ছেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী ডিএমপির সহকারি পুলিশ কমিশনার অহিদুজ্জামান নূর জয়।

এর আগে ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম লাভ করেন। ২০১৯ সালের জন্য ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা বিপিএম পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। রবিবার( ৫ জানুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহে মনোনীতদের পদক পরিয়ে দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে গত ২০১৯ সালে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৪ জনকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)”, ২০ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)” এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৮ জনকে “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা” এবং ৫৬ জনকে “রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা” প্রদান করা হবে। জয় বর্তমানে ডিএমপির কাউন্টার টেররোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার পদে দায়িত্বরত আছেন।

তিনি ৩৩তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন । রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, কুমিল্লাসহ সবশেষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রাসেল স্কয়ারের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জয়।

ছাত্রজীবনে জয় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাসের পর উচ্চ মাধ্যমিক পড়েছেন ঢাকার নটরডেম কলেজে। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ।

তাঁর মাতা অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার দেশের প্রথম নারী জিপি। যিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভিপি সম্পত্তি বিষয়ক কৌশুলী হিসেবে কাজ করছেন। জয়ের বড় ভাই মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর বিজয় ঢাকার অতিরিক্ত মূখ্য মহানগর হাকিম পদে কর্মরত আছেন।

Categories
অন্যান্য বিশেষ ফিচার

মেকআপ করা ছাত্রীদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়!

মেকআপ করলেই নাকি পরীক্ষার ফল ভালো হবে। আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষকরা এ দাবি করেছেন। তারা এটিকে ‘লিপস্টিক এফেক্ট’ নামে চিহ্নিত করেছেন।

গবেষকদের মতে মেকআপ এর প্রভাবে আত্মবিশ্বাস, আচরণ ও ব্যক্তিত্ব উন্নত হয়। মেকআপ করলে সংশ্লিষ্ট নারীর মনের ওপর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

গবেষণায় পরীক্ষার জন্য আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সের তিনটি দলে ভাগ করে তাদের কাছ থেকে সাধারণ মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলেন গবেষকরা। এ পরীক্ষার আগে একটি দলের মেয়েদের মেকআপ করতে বলা হয়, একটি দলের ছাত্রীদের ভালো গান শোনানো হয় এবং তৃতীয় দলকে বলা হয় মানুষের মুখ আঁকতে। যে দলের সদস্যরা গান শুনেছিলেন তাদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়। তবে সেরা ফল করেন মেকআপ করা ছাত্রীরা।
গবেষকরা জানিয়েছেন আসলে মেয়েরা মেকআপ করার পর নিজেদের আরো আকর্ষণীয় মনে করেন। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। একইসঙ্গে তাদের পড়াশোনাও ভালো হয়।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

Categories
বিশেষ ফিচার

পুরান ঢাকার ৪৫ টাকার তেহারি

পুরান ঢাকার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অলি-গলি, ঘোড়ার গাড়ি, শতবর্ষী সব স্থাপনা আর মুখরোচক খাবারের ছবি। রকমারি সব খাবারের জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকার প্রায় প্রতিটি অলি-গলিতে মেলে বিভিন্ন খাবার হোটেলের দেখা। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলিতে অবস্থিত ‘বাবুর্চিখানা রেস্তোরাঁ’ তেমনই একটি।

অন্য খাবার হোটেল থেকে বাবুর্চিখানার ভিন্নতার কারণ হলো এর অভ্যন্তরীন সাজসজ্জা । যেখানে সাধারণত খাবার হোটেলগুলোতে দেখা মেলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাবারের আকর্ষণীয় ছবি সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ‘বাবুর্চিখানা।’ এটি সাজানো হয়েছে ঢাকার ইতিহাসের সাক্ষী এমন সব ছবি দিয়ে। খাবারের টেবিল ঘেঁষে দেয়ালে সাজানো এসব ছবিতে ফুটে উঠেছে ঢাকার প্রায় পুরো ইতিহাস।

বাবুর্চিখানার পুরো দেয়ালজুড়ে আছে ঐতিহাসিক ঘটনা আর স্থাপনার কয়েক শতাধিক ছবি। যে ছবিগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে ঢাকার প্রাচীন সময়ে, ভাবিয়ে তুলবে প্রিয় ঢাকার দ্রুত বদলে যাওয়ার দৃশ্য।

বাবুর্চিখানার দু’পাশের দেয়ালজুড়ে জায়গা করে নিয়েছে লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল,বাহাদুর শাহ পার্ক, মিডফোর্ড, বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ , ঢাকা গেট, ১৮ শতকের নিউমার্কেট, রূপলাল হাউস,লালকুঠি, তৎকালীন সদরঘাট, বাদামতলী ঘাট, লোহারপুল, ধোলাইখাল, পুরান ঢাকার মহল্লার দৃশ্য, বর্ধমান হাউজের প্রাথমিক অবস্থাসহ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর প্রাচীন ছবি। এছাড়াও আছে পুরনো চিড়িয়াখানা, পুরনো রেল স্টেশন হারিয়ে যাওয়া স্থাপনার ছবি।

এবার আসা যাক খাবার প্রসঙ্গে। বাবুর্চিখানার খাবারের মধ্যে রয়েছে মুরগির রোস্ট-পোলাও, মুরগির কোর্মা-পোলাও, টার্কি মুরগির তেহারি, মুরগির তেহারি স্পেশাল, জর্দা এবং শাহী জর্দা। বাবুর্চিখানার বিশেষ আকর্ষণ ৪৫ টাকার মুরগির তেহারি। ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিনই ভোজনরসিকরা আসেন বাবুর্চিখানার তেহারির স্বাদ নিতে। কেবল দামের কারণেই নয়, স্বাদেও অসাধারণ এই বিশেষ তেহারি।

কথা হলো হোটেলের অন্যতম স্বত্বাধিকারী শামীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে হোটেল সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়। তখন বর্তমান ডেকোরেশন করা হয়। মূলত আমার ভাতিজা রেজাউল হোসেনের পরিকল্পনায় এই ডেকোরেশন করা হয়েছে। সে ঢাকাকে খুব ভালোবাসে। বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকার পুরনো ছবি সংগ্রহ করেছে সে। নিজের আইডিয়ায় ছবিগুলো সংগ্রহ করে এভাবে তুলে ধরেছে।’

৪৫ টাকার তেহারীর বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘বাবুর্চিখানার বিশেষত্ব হলো আমরা খাবারে খুব সামান্য তেল ব্যবহার করি। এতে যেকোনও বয়সী মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে খেতে পারেন। এছাড়াও আমাদের দোকানটি যেখানে অবস্থিত এর আশেপাশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই আমরা ৪৫ টাকা মূল্য রেখেছি।’

Categories
বিশেষ ফিচার

কাঁচা মাছ, মাংস ও লতাপাতা খেয়ে স্বাভাবিক চলে

নজরুল ইসলাম তোফা:: জীবনে চলার পথে বহু রকম মানুষের সাথে মানুষকে মিশতে হয়, চলতে হয়। প্রতিটি মানুষই তার স্বভাব কিংবা চারিত্রিক দিকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বকীয়। সকলের নিজস্ব চিন্তাধারা, বিশ্বাস, মতামতও বিভিন্ন রকম। কিন্তু, সকলের মাঝেই এমনকিছু বিশেষ স্বভাবের এক একটি মানুষকে লক্ষ্য করবেন, যাদের মূল লক্ষ্য এবং কাজ হলো সবসময়েই অন্যকে খুশি কিংবা অন্যের মতামত ও চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া।

সুতরাং অন্যদেরকে খুশি করানো কিংবা অন্যের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়াটা হলো খুবই ভালো একটি চারিত্রিক গুণ। সকল মানুষই সুখ কিংবা আনন্দ কামনা করে সব সময়ে। আর আনন্দ বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের জন্য তারাই সর্বদা সচেষ্ট থাকে। ব্যক্তিগত সুখলিপ্সা ও আনন্দ পূর্ণ করার জন্যে যেখানে সেখানেই খোঁজে বেড়ায়। সুতরাং যেমনি একজন ব্যক্তির দেখাও মিলেছে, অন্যকে সামান্য হলেও আনন্দ দান করেন। তবে- তাঁর সে আনন্দ প্রদানের যে মাধ্যম তা সরাসরি উপভোগ না করলে যেন একটু অবিশ্বাস হতে পারে। যাক- আসল কথায় আসি, তিনি মাছ, মাংস, লতাপাতা খেতে পারেন। তবে তাতো সকলেই খেতে পারেন এমন কথাই বলবেন। কিন্তু তিনি একেবারে সদ্য কাঁচা কাঁচা সব মাছ, মাংস এবং লতাপাতা খেতে পারেন।

তিনি হলেন, রাজশাহী সদরের সবার সু-পরিচিত ব্যক্তি মুক্তা। তাঁর একটি দোকানও আছে বর্ণালী মোড়ে। এই ধরণের মানুষগুলো সবসময় চান বা চেষ্টা করেন যেন তার আশেপাশের সকলেই যেন সবসময় খুশি থাকে। তিনি বলেছেন, বিস্ময়বোধ কিংবা কৌতূহলবিহীন মন যেন- মানুষের নির্জীব মন, আসাঢ়-মৃতের মতোই নিস্পৃহ এবং নিস্পন্দ। মনের সজীবতা ছাড়া কোনোকিছু করাটাও যেন সম্ভব নয়। আর মনকে সজীব ও সতেজ রাখতে হলেই বিস্ময়বোধ বা কৌতূহলী আচরণের মানুষ থাকতে হবে।

এ সমাজে প্রায় সবাই প্রশংসা শুনতে ভালবাসে, সে ক্ষেত্রে তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি- তার কর্মের পাশা পাশি সব সময়েই যেন অন্যকে খুশি রাখার প্রচেষ্টায় মগ্ন থাকে। তাঁর ব্যতিক্রমী চিন্তা- চেতনার এমন সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডে সত্যিই অবাক করার মতো। আসলে কি করে মানুষ এমন কাঁচা মাছ মাংস এবং লতাপাতা খেতে পাবে। এক্ষেত্রে এই ব্যপারটি একে বারেই ভিন্ন বলেই মনে করি। শুধুমাত্র প্রশংসা শুনেই তিনি তুষ্ট, সবসময়ে যেন সকলের কাছ থেকেই প্রশংসা খুঁজে বেড়ান এবং এর স্থায়িত্বও চান। নিজের প্রতি বিশ্বাস বা আস্থা এতোই বেশি যে, তিনি একদিন না একদিন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষদেরকে তাঁর এই আনন্দটাকে তুলে ধরতে পারবেন। তিনি আশা পোষণ করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশা পাশি বেসরকারি টেলিভিশন কতৃপক্ষ একদিন এগিয় আসবে।

সর্বশেষে তিনি বলেছেন, এমন কাঁচা মাছ, মাংস ও লতাপাতা খেয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।বরং- শরীরটা নাকি মজবুত হয়। আর এই উদ্ভট কর্মে মানুষের সাথেই সম্পর্কটা গভীর হয়। তিনি আরও বলেছেনে যে, অন্যের খুশি এবং অখুশির ব্যাপার গুলো বুঝেই যদি তাদের মনের মধ্যে খুব বেশী পরিমাণ আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে তা হলে এই কাজটি করতে ইচ্ছে জাগ্রত হবে। রাগ, জেদ, মনঃকষ্ট কিংবা হতাশা তাঁর নেই। জীবনের এই মাঝামাঝি বয়সে এসেও যেন তিনি সবাইকে আপন মনে করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন।

Categories
আমার ক্যাম্পাস এক্সক্লুসিভ বিশেষ ফিচার

ভুলতে পারি না ছোট বেলার সেই দিনগুলো

খুব ইচ্ছে করে প্রাইমারি স্কুলে পড়া সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে শৈশবে। আজকে সেই প্রাইমারি জীবন ও শৈশবের স্মৃতি নিয়ে থাকছে দুই পর্বের প্রথম পর্ব। লেখক- নাছির উদ্দিন সোহাগ

আমি ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না ছোট বেলার সেই দিনগুলোর কথা। মাঝে মাঝে স্মৃতির কাতর হয়ে পড়ি। টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেই মাটির আঁকা বাঁকা মেঠো পথে।  গ্রামের ছোট বেলার ছোট ছোট নালা-দীঘির জলে, আম গাছের তলায়, জাম গাছের তলায়।শীতের সকালে কুয়াশা চাঁদরে মোড়া খেঁজুর গাছের তলে।  

মাটির কলসে ভরা সেই টাটকা স্বাদের রসের কাছে।  আমার ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো আমাকে তাড়িত করে। আমি ভুলে যাই মেঠো পথ, সতেজ বাতাস, পাখির গান, ফুলে ফুলে প্রজাতির নাচ। শৈশবের প্রতিটি দিন যেখানে মধুভড়া আনন্দময় ছিলো সেখানে কোন দিনটা বিশেষ ভাবে স্মরন করি। শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরী লাস্যময়ী নারীর ভুবন জয় করা হাসির মতো, ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে থেকে যায়।ঠিক তেমনি ছোট বেলার দিনগুলি ফেলে এলেও দখল করে নেয় হৃদয়ের সমস্ত জামিনটা।

শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর ডানপিটে জীবন যাপন আমার মতো প্রতিটা মানুষের ফ্লাশ ব্যাক জীবন।  আমরা যারা শরীর থেকে সেই ছোট গ্রামের কাঁদা আর ধুলা মাটির গন্ধ মুছে দিতে বিদেশী পারফিউম ব্যবহার করে আধুনিক হওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকি।

তাঁরা কেউ বলতে পারবো ছোট বেলা খড়কুটো দিয়ে বল বানিয়ে বাড়ির উঠানে সাথীদের নিয়ে ফুটবল খেলিনি ? আমরা ছোট পুকুর গুলো লাফ দিয়ে সাঁতার কাঁটা আর আঁকা বাঁকা খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে সেচ করে মাছ ধরার সেই দিলগুলো ভুলতে পারি ? অবাধ্য জীবনের দুরন্ত স্মৃতিগুলো এখনো মনে হয় ছুটে যাই সেই  গাঁয়ে। ডেকে নেই সব বন্ধুদের আবার দল বেঁধে নিয়ে সেই শৈশব পথে ছুটে যাই।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। হাকিমপুর(হিলি)-দিনাজপুর

Categories
বিশেষ ফিচার

আত্মহত্যা সমাধান নয়: ডিপ্রেশনের কারণ বের করো এবং সমাধান করো

আকিবুল ইসলাম হারেছঃ

আত্মহত্যা, যা কিনা তরুণ ও যুব সমাজসহ প্রায় সব মানুষের কাছেই যেকোনো ব্যর্থতা বা খারাপ কিছুর সমাধান। যখন কেউ আত্মহত্যা করে ফেলে, আমরা না জেনে অনেক কিছুই বলি। তার এটাই কি করার ছিলো কিনা বা আরও অনেক কিছু।

আত্মহত্যা করার পিছনে বিশেষ কিছু কারণ থাকে। আমি কিছু তা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি-
মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা, প্রিয় মানুষের অবহেলা, নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া, সাইবার ক্রাইম, ধর্ষণ, বিবাহ বিচ্ছেদ, অতিরিক্ত শাসন,পরীক্ষায় সফল না হওয়া, অপমানিত হওয়া ইত্যাদি। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেই আত্মহত্যার পরিমাণ বেশি।

World Health Organization(WHO) এর মতে, বাংলাদেশে প্রতি ১,০০,০০০ মানুষের মধ্যে ১২৮.০৮ জন মানুষ আত্মহত্যা করে।
আত্মহত্যা থেকে আমাদের তরুণ ও যুব সমাজকে বের করে আনতে হলে সচেতন হওয়া উচিত। যারা মানসিকভাবে অসুস্থ বা কোনো সমস্যা হলেই ভেঙে পরে এরকম মানুষদেরকে আগে থেকে সচেতন করা উচিত হবে। তাদেরকে বুঝাতে হবে আত্মহত্যাই যে সমাধান তা নয়, বরং এই ধরনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

প্রত্যেকের জীবনে যেমন সমস্যা রয়েছে তেমন সমাধান ও রয়েছে। তাই যেকোনো সমস্যার সমাধান না খুজেই যেন তারা আত্মহত্যা না করে বসে। আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতনা তৈরী করতে হবে।

আত্মহত্যা করা ঠিক নয়। আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত যে, আমাদের জীবন তা একবারই এসেছে, এই জীবন দ্বিতীয়বার ফেরত পাবার নয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া বন্ধুর সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। তাকে সাহস যোগাতে হবে। পরিবার থেকে তাকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে। তার চাওয়াগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষকরা ছাত্রদের সমস্যা বুঝা এবং তা সমাধানে সাহায্য করার জন্য শিক্ষকদের হতে হবে প্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা। সেই সঙ্গে তাঁর অনুসন্ধিৎসু মনোভাবের দ্বারা ছাত্রদের সঠিক সমস্যা বুঝে তার সমাধান খোঁজা উচিত।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অন্যরকম কিছু অতীত থাকে। এই অতীতের কারণেও অনেকে আত্মহত্যা করে। অতীত কে জীবনের অভিশাপ না ভেবে, জীবনের একটা অংশ ভাবে এগিয়ে যাওয়া। তার থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ভবিষ্যত সুন্দর করে গড়াই কাজ। কিন্তু অতীতকে ধরে রেখে বর্তমান সময়কে নষ্ট করা একদমই উচিত নয়। অতীতকে শুধুমাত্র অতীতই ভাবতে হবে।


আমাদের এই জীবন দ্বিতীয়বার আর ফেরত আসবে না। তাই বর্তমানে সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। আত্মহত্যা নয়, সমাধান বের করো, সুন্দর জীবনযাপর করো।

Categories
বিশেষ ফিচার

কত যে স্বপ্ন, মাদকে করেছ নষ্ট

মাদককে না বলি, মাদককে প্রতিহত এবং প্রতিরোধ করি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবীদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করি এবং মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ঠদের ঘৃণা করি। দেশের বাস্তবতায় মাদকের আগ্রাসন অভিশপ্তের ডালপালার বিস্তৃতি ঘটিয়েছে।

যে সন্তান পরিবারের আর্শীবাদ হতে পারতো, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে ও দেশের গর্বে পরিণত হতে পারতো সেই সন্তান আজ মাদকের স্পর্শে, মাদকের করালগ্রাসে কেবল বিপদ সীমানায় পরিবারের বোঝা এবং দেশের অভিশাপে পরিণত হয়েছে। পরিবারের শান্তি নষ্ট করনের ক্ষেত্রে ও মাদকের অপ্রতিরোধ্য ভূমিকা বিশেষ ভাবে কার্যকর।

মাদকের নীল ছোবলে দংশিত দেশের যুব সমাজের একটি বড় অংশ বিপদগামী। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেকে মরন নেশা ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণীর সমাজ বিরোধী, দেশোদ্রোহীরা কথিত সীমান্ত ঘাট গুলোর মাধ্যমে ফেনসিডিল,ইয়াবা, মদ সহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আর্থসামাজিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে।

যে হাত কর্মির হওয়ার কথা, যে হাত সৃষ্টিশীলতা এবং সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্র নিশ্চিত করনের কথা সেই হাতে মরন নেশা মাদক। বগুড়া সান্তাহার বাস্তবতায় মাদকের উপস্থিতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার অবস্থান নিয়েছেন। একশ্রেণীর সমাজ বিরোধীরা সাতক্ষীরাকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। মাদক সেবী এবং মাদক বিক্রেতারা কেবল সমাজের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তা নয় তারা পারিবারীক শান্তীও বিনষ্ট করেছে।

অনেক বাবা, মা মাদক সেবী সন্তানের অত্যাচারে, অনাচারে এবং নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়ে নিজ সন্তানকে জেলখানায় বন্দী রাখার ব্যবস্থা করতেও কার্পন্য করেননি। মাদকের উপস্থিতি এবং মাদক গ্রহনে কেবল পরিবারের বা সমাজের শান্তী নষ্ট হচ্ছে তা নয় মাদক সেবী নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। মাদক গ্রহনের ফলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ প্রতঙ্গ তার কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে এবং অকালে মাদক সেবী মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে।

সব কিছুর উর্ধে শারিরীক সুস্থতা এবং বেঁচে থাকা, কিন্তু মাদক গ্রহণের ফলে অতি দ্রুত জীবনী শক্তি ক্ষয় হয় এবং মাদক সেবী শারিরীক সুস্থতা হারায়, মাদক সেবী, বিক্রেতাদেরকে কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অধিকতর তৎপরতা এবং মাদকের সাথে সম্পর্কযুক্তদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে।

আইনের কঠোর এবং যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে প্রয়োজনে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তী দিতে নতুন আইন প্রনয়ন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবী এবং তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয়দানকারী দেশ এবং জাতির শত্রু“ তাদের কে বয়কট করার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কে আইন প্রয়োগ কারী সংস্থাকে অবহিত করতে হবে। মাদক মুক্ত সমাজ গড়ি, মাদককে না বলি, মাদককে ঘৃণা করি।

Categories
বিশেষ ফিচার

কবে হবে এদের বিচার

২৬ শে মে সকাল সাড়ে দশটা।অন্য সাধারণ দশ পাঁচটা দিনের মতো, সেই দিন টা সাধারণ একটা দিন ছিল। কে জানতো সেই দিনে প্রকাশ্যে দিবালোকে একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটবে।
কে জানতো সেদিন কোন মায়ের বুক খালি হবে.?
কোন বোন হারাবে তার স্বামীকে.?

বলছি বরিশালের বরগুনায় প্রকাশ্যে খুন হওয়া রিফাত শরীফের কথা। এখন সোশ্যাল মিডিয়া তে প্রবেশ করলে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং ভাইরাল হয়েছে। এই বিষয়ের সাথে অনেকেই তুলনা করেছেন পূর্বে ঘটে যাওয়া বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে নয় তারিখ রবিবার সকাল নয় টা কি সাড়ে নয়টার মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা বিশ্বজিৎ দাসকে বিনা কারণে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করে।শত শত মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নিশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।কিন্তু সেই ঘটনার বিচার হয়নি। উল্টো আসামিরা জামিন পেয়ে সর্দপে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সেই জের ধরে রিফাত হত্যার আসামীরাও ও জানে তাদের বিচার হবে না।তাই রিফাতকে হত্যা করে নয়নের মতো সন্ত্রাসীরা।এই দুর্বৃত্তদের ক্ষমতার কাছে রাষ্ট্র অসহায়।
কয়েকদিন তদন্ত কমিটির গ্রেফতার-তদন্ত-চার্জশীট এসব করে আবেগি জাতিকে খুশি রাখার চেষ্টা করবে এবং অপ্রিয় হলেও সত্য সফল হবে।আমরা এমন জাতি কয়েকদিন পর ঠিকই ভুলে যাবো রিফাত কে বা কারা প্রকাশ্যে হত্যা করেছিল।তাদের বিচার প্রক্রিয়াধীন।প্রধান আসামি পলাতক অথবা শাস্তি কমিয়ে আনা হয়েছে।দেশের মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছে রাষ্ট্রের কাছে।জনগণ জানে এ দেশে সুষ্ঠু বিচার নেই। যদি থাকত তাহলে এতদিনে বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হতো। রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে কি ব্যর্থ হয়েছে…….!!!

আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির গেঁড়ে বসেছে রন্ধে রন্ধে।সাধারণ হামলা থেকে হত্যা কোন ঘটনা সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পায়নি ভুক্তভোগী মানুষ।আমাদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।এসব কথা বলতে বলতে আমার মনে পড়ে গেল হায়দার হোসেনের সেই গানটি যে গানের দুটি লাইন আপনাদের বলতে চাই “

চিৎকার করে বলতে চাহিয়া,
করিতে পারিনি চিৎকার,
বুকের কষ্ট বুকে চাপাইয়া,
নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।”

এ রাষ্ট্র সমাজ দুর্বল, অসহায়, নষ্ট হয়েছে। এদেশে কিংবা রাষ্ট্রে বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার করতে পারে নাই।সাগর-রুনি-রাজন হত্যার বিচার করতে পারে নাই।
এ রাষ্ট্র কি সত্যিই অসহায়।অসহায় রাষ্ট্র থেকে কবে মুক্তি পাবো আমরা।কবে হবে এদের বিচার…????

উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা……!!!

লেখক : আসমাউল মুত্তাকিন
শিক্ষার্থী,
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ