Categories
স্বাস্থ্য

শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

নিউজ ডেস্কঃ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাশালিয়া গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে তপন দাস (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার রাত ১১টার দিকে ফরিদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তপন দাসের বড় ভাই অসিত কুমার দাস জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন আগে থেকে তপন জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক তাকে বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

মারা যাওয়ার পরে তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

Categories
স্বাস্থ্য

কেরানীগঞ্জে চুলায় তৈরি হচ্ছিল ‘জনসন বেবি লোশন’

ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের আতাসুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার নকল বেবি কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জনকে। মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অভিযানে গিয়ে র‍্যাব দেখতে পায়, নানা কেমিকেল মিশিয়ে একটি বড় পাতিলে চুলায় রেখে জনসন বেবি লোশন তৈরি করা হচ্ছে। দেড়ঘণ্টা পর চুলা থেকে নামিয়ে সেগুলোতে সুগন্ধি মিশিয়ে বাজারের জনসন বেবি লোশনের হুবহু নকল বোতলে ঢুকানো হচ্ছে। এগুলো প্রথমে রাজধানীর চকবাজারে, এবং সেখান থেকে চলে যায় দেশের সব জায়গায়।

জনসন বেবি লোশনের পাশাপাশি এখানে জনসন বেবি অয়েল, অলিভ অয়েল, কুমারিকা হেয়ার ওয়েল, ডাবর আমলা তেলসহ মোট ২৬টি বিদেশি পণ্যের নকল মালামাল উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব জানায়, অতিরিক্ত লাভের আশায় এসব নকল পণ্য তৈরি করছে একটি চক্র, সাথে জড়িত বাড়ির মালিকেরা।

অভিযানের বিষয়ে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, এখানকার কসমেটিক্স এখান থেকে সাড়া দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বেবি লোশন, বেবি হেয়ার অয়েল ইত্যাদি বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এমনকি বাচ্চাদের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে এসব নকল সামগ্রী। এসব পণ্য কিনে ক্রেতারা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, একইভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরছেন।

Categories
লাইফ স্বাস্থ্য

এনাল ফিসার নিরাময়ে হোমিওপ্রতিবিধান

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

পায়ুপথের সব রোগই সাধারণ মানুষ পাইলস মনে করে থাকেন। কিন্তু পাইলস ছাড়াও পায়ুপথে অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে। যেগুলোর মধ্যে এনাল ফিসার একটি। এ রোগে মূলত পায়ুপথ ছিঁড়ে যায়,আজ এনাল ফিসার নিয়ে কলাম লিখেছেন, হোমিওগবেষক ডা.এম এ মাজেদ, তার কলামে লিখেন….আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ মলদ্বারের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। মলদ্বারে ঘা অথবা ফেটে যাওয়া। এটি দুই ধরনের হয়। তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে অসম্ভব ব্যথা হয়। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারে ব্যথার তারতম্য হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে।যেমন-পাইলস, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা ইত্যাদি। কিন্তু অনেকেই বিশেষ করে মহিলারা এই রোগগুলোকে গোপন স্থানের সমস্যা মনে করেন এবং মলদ্বারের রোগের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী থাকেন। ফলশ্রুতিতে অনেকেই গ্রামেগঞ্জে এমনকি শহরেও কবিরাজ কিংবা অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। মলদ্বারের বা পায়ুপথের রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এনাল ফিশার যা আমাদের অনেকের কাছেই ‘গেজ’ রোগ নামে পরিচিত। এনাল ফিশার রোগে মলদ্বারের চামড়ার ফাটল বা চির হওয়া যা সাধারণত মল শক্ত হলে বা ঘন ঘন মলত্যাগের কারণে মলদ্বার ফেটে ঘা হয়ে থাকে। এ রোগ বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক যে কারও হতে পারে। তবে তরুণ/ মাঝবয়সীদের এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। পুরুষ কিংবা নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই এ রোগ সমানভাবে হয়ে থাকে।মলদ্বারের ব্যথায় অনেকেই ভুগে থাকেন।


★ এনাল ফিসারের কারণঃ-এটি হওয়ার জন্য দায়ী সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা মলত্যাগের সময় কোত দেয়া। এ ছাড়া শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বার ফেটে যায় বলে মনে করা হয়। যারা আঁশযুক্ত খাবার খান তাদের এ সমস্যাটি কম হয় বলে মনে করা হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শাকসবজি, কাঁচা ফলমূল, আলু, ছোলা, ইসবগুলের ভূসি ইত্যাদি। চা-কফি বা মদ খাওয়ার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হলে ফিশার হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা মলদ্বারের ভেতরের চাপ মেপে দেখেছেন। ফিশারে চাপ তেমন একটা বাড়ে না যদিও আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করলে মলদ্বার অতিরিক্ত সংকুচিত বলে মনে হয়।


★এনাল ফিসারের উপসর্গ : মলদ্বারে ফিশারের প্রধান লক্ষণ ব্যথা ও রক্তক্ষরণ। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত মলত্যাগের অব্যবহিত পরে হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে বহু ঘণ্টা ধরে ব্যথা চলতে পারে। ‘প্রকটালজিয়া ফুগাক্স’ নামক এক ধরনের রোগেও মলদ্বারে ব্যথা হয়, কিন্তু সে ব্যথা মলত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে না। রক্তজমাট বাধা পাইলসেও ব্যথা হয়, কিন্তু তখন রোগী মলদ্বারে চাকা আছে বলে অভিযোগ করে। এই রোগে রক্তক্ষরণের পরিমাণ সাধারণত কম। কারও কারও অতিরিক্ত রক্ত যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) এনাল ফিশারের রোগী একটু ভিন্ন ধরনের উপসর্গের কথা বলে। তারা কখনও কখনও তাদের মলদ্বারে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড, পুঁজ পড়া, চুলকানি অথবা এসব একত্রে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।এ ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। ব্যথা সাধারণত তীব্র হয় না অথবা অনেক সময় ব্যথা থাকেই না। ফিশারের রোগীরা অনেক সময় প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন এবং মহিলারা কখনও কখনও শারীরিক মিলনে বেদনা অনুভব করেন; যদিও রোগীরা বুঝতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেই এমন হয়েছে তবুও যখন ব্যথা শুরু হয় তখন রোগী ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না এবং মলত্যাগের বেগ হলে তাতে ব্যথার ভয়ে সাড়া দিতে চান না।


★একিউট ফিসারঃ-এ সময় মলদ্বার পরীক্ষা করলে দেখা যায় সেটা খুবই সঙ্কুচিত অবস্থায় আছে। তীব্র ব্যথার কারণে মলদ্বারের ভেতরের ঘা-টি দেখা দুঃসাধ্য। কোনো যন্ত্রও প্রবেশ করানো যায় না। অবশ্য সরু যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা যায়।

★ ক্রনিক ফিসারঃ-এ ক্ষেত্রে একটি মাংসপিণ্ড বা ‘গেজ’ দেখা যায়। মলদ্বারের ভেতরেও একটি মাংসপিন্ড দেখা যেতে পারে যাকে অনেকে টিউমার বলে ভুল করে। এ ক্ষেত্রে পায়ুপথের ভেতর যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত যাতে টিউমার বা প্রদাহজনিত কারণ চিহ্নিত করা যায়। এ ফিসার সংক্রমিত হয়ে কখনও কখনও ফোঁড়া দেখা দিতে পারে এবং তা থেকে ফিস্টুলা (ভগন্দর) হয়ে পুঁজ পড়তে পারে।


★ এনাল ফিসারে সমস্যা হলে কি খাবেনঃ- * যারা আঁশযুক্ত খাবার খান তাদের এ রোগ কম হয়। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শাক-সবজি, কাঁচা ফলমূল, আলুর ছোলা, ইসুপগুলের ভূষি ইত্যাদি। এতে থাকা আঁশ মলে পানি ধরে রেখে মলকে নরম করে। ফলে কোষ্টকাঠিন্য এর সম্ভাবনা থাকেনা।

  • ডাল জাতীয় খাবার খান। এক কাপ ডালে ১৫-১৬ গ্রাম আঁশ থাকে। দিনে অন্তত দুই কাপ ডাল খান।
    *খোসাহীন শস্যের চাইতে খোসা যুক্ত শস্য খান। সাদা চাল বা আটা এর বদলে লাল চাল বা আটা খান। খোসা, প্রচুর পরিমানে আশ ও ভিটামিন সরবরাহ করে।
  • নিয়মিত দই খান। এতে থাকা উপকারী ব্যক্টেরিয়া কোষ্টকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।
  • দিনে ৮-১০ গ্লাস পানি খান।
    ★ এনাল ফিসারের সমস্যা হলে কি খাবেন নাঃ-
  • পাস্তা, ক্র্যাকার, ভাত, বিস্কিট, রুটি ইত্যাদিতে আঁশ অনেক কম। ধরুন আপনি এক বেলার খাবারে নিয়মিত পাস্তা খান বা এক প্যাকেট বিস্কিট খান বা অল্প পরিমান সব্জী দিয়ে বা সব্জী ছাড়া প্রচুর পরিমাণে রুটি বা ভাত খান- এই ধরণের খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত থাকলে কিন্তু আপনার শরীরে আঁশ গ্রহণ কম হচ্ছে। ফলে দেখা দিতে পারে কোষ্টকাঠিন্য। মোটকথা কোষ্টকাঠিন্য নিরোধে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে আঁশ এর অনুপাত ঠিক থাকতে হবে।
  • ফ্যাটি ও উচ্চ সুগার যুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের অভ্যাস ও কোষ্টকাঠিন্য ঘটাতে পারে। যেমন, গরুর মাংস, চীজ, মাখন, ফ্রাইড খাবার, চকোলেট, আইস্ক্রীম, কোমল পানীয় ইত্যাদি।

  • ★এলান ফিসার রোগীর ব্যায়ামঃ- যাদের কোষ্টকাঠিন্য আছে তারা ব্যায়ামের মাধ্যমে কোষ্টকাঠিন্য কমাতে পারেন। ফলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। মাটিতে সোজা শুয়ে পরুন, পা মাটিতে মেশানো থাকবে, পায়েরপাতা ছাদমুখী থাকবে। এবার পেটের পেষী ভিতরে দিকে টেনে ধরে আস্তে আস্তে শ্বাস নিন ও ডান পা টা আস্তে আস্তে দূরে নিন। যতদূর পারেন করুন, এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা আগের জায়গায় আনুন। এরপর বাম পা ব্যবহার করে একি ব্যায়াম করুন।
    ★ মলদ্বার এর যত্নঃ- মলদ্বার ও প্বার্শবর্তী অঞ্চল যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখুন। সুতী ও ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরিধান করুন। অন্তর্বাসের ভিতরে নরম কোন প্যাড ব্যবহার আপনাকে স্বস্তি দেবে। মাঝে মাঝেই সিজ বাথ নিন, এটির নিয়ম হচ্ছে আধ গামলা লবণ মিশ্রিত গরম পানিতে নিতম্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।
    ★হোমিওসমাধানঃ-রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, হোমিওপ্যাথিতে এলান ফিসারের জন্য ৫০ টির ও বেশী ব্যবহার হয়, এই জন্য চিকিৎসককে রোগীর বর্তমান কষ্ট, মানসিক, সার্ব দৈহিক ও চরিত্র গত লক্ষণাবলী মূল্যায়ন করে যে কোন একটি শক্তি কৃত ঔষধ পরিবর্তিত মাএায় ব্যবহার করতে হবে,উক্ত পদ্ধতিতে ঔষধ নির্বাচন যদি সঠিক হয়, তাহলে,এ্যালোপ্যাথির সকল সার্জিক্যাল রোগ, এনাল ফিসার সহ যে কোন জটিল রোগ স্বল্প সময়ে হোমিওপ্যাথিতে আল্লাহর রহমতে স্থায়ীভাবে সম্ভব।

  • লেখক,
    ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
    স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা,হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
    কো-চেয়ারম্যান,হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
    ইমেইলঃdrmazed96@gmail.com
    মোবাঃ০১৮২২৮৬৯৩৮৯
Categories
স্বাস্থ্য

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মেনে চলবেন যে ৭টি নিয়ম

অতিরিক্ত কাজের চাপে আমরা অনেকেই জরুরি বিষয়াদি ভুলে যাই। এটি এমন সমস্যা, যা থেকে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এর পরিণাম ভালো নাও হতে পারে।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মেনে চলুন নিচের ৭টি নিয়ম–

পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে যদি ঘুম কম হয়, তবে তা বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মস্তিষ্কে বাধার সৃষ্টি করে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। ঘুম না হলে মস্তিষ্ক প্রায় সাত বছর বেশি বুড়িয়ে যেতে পারে।
ঠাণ্ডা ঘর: গরমের চেয়ে ঠাণ্ডায় স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ তিন গুণ বেশি থাকে। এ ছাড়া ঠাণ্ডা ঘর মাথাকেও ঠাণ্ডা রাখে। তাই ঘরের তাপমাত্রা কখনো ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রাখা ঠিক নয়।

গল্প শেষ থেকে শুরু করুন: একটি গল্প পড়া শেষে পুরো গল্পটা মনে রাখুন। এবার শুরু থেকে না করে শেষ বা পেছন থেকে গল্পটা মনে করতে থাকুন। এই পন্থা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সচল রাখার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালীও করবে।

হাঁটাহাঁটি: নিয়মিত হাঁটাচলা বা জগিং শরীরকে ভালো রাখার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেনকেও সুস্থ রাখে। সপ্তাহে দু-তিন দিন অন্তত ২০ মিনিট করে হাঁটলে বা জগিং করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

প্রতিদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন: মস্তিষ্ক যেন নির্জীব হয়ে না যায়, সে জন্য ব্রেনকে সব সময় নতুন কিছু শিখতে দিতে হয়। তাই প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে নতুন নতুন কাজ করার চেষ্টা করুন।

পায়ের আঙুলের ম্যাসাজ: প্রতিদিন পাঁচ মিনিট করে পায়ের আঙুলে ম্যাসাজ করুন। প্রথমে আঙুলের ওপর থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে টিপে টিপে নিচের দিকে যান। এই ম্যাসাজ মস্তিষ্কের কোষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।

মস্তিষ্কের খাবার: আখরোটের ‘পলিফেনলস’ ব্রেনের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়াও সামুদ্রিক মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, পালংশাক, ডার্ক চকলেট, গ্রিন-টি, অলিভ অয়েল, শাকসবজি ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় খুবই জরুরি।

Categories
স্বাস্থ্য

৫০০ টাকায় ক্যান্সার পরীক্ষার পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন ডঃ ইয়াসমিন

ইয়াসমিন হক দেশের একজন সফল পদার্থবিদ ও বিজ্ঞানী। ক্যান্সার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন তিনি ও তাঁর দল।

আমাদের দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পরিমাণে বাড়ছে আশংকাজনক হারে। খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাদ্য প্রস্তুতে নিম্নমানের রাসায়নিকের ব্যবহার, মাটি দূষণ, ঔষধের অপর্যাপ্ততা, বাজে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম না করা, ধূমপান, মাদকাসক্তি এবং সর্বোপরি অসচেতনতার কারণে ক্যান্সার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে ক্যান্সার রোগী এবং রোগীর পরিবারের জন্য। কেননা, বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রচুর সময় ও লাগে শুধু চিহ্নিত করতেই। ক্যান্সার ধরা পড়ার পরেও চলে এর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। তখন রোগীর পরিবারের প্রচুর অর্থ খরচ হয়, বেশীরভাগই নিঃস্ব রিক্ত ও হত দরিদ্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে ক্যান্সারের ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব, যদিও ক্যান্সারের অনিবার্য হাত থেকে এদের মুক্তি মেলেনা।

ডঃ ইয়াসমিন ও তাঁর দলের উদ্ভাবন

এরকম একটি পরিস্থিতিতে ডঃ ইয়াসমিনের কাছ থেকে আমরা পেলাম দারুণ একটি আশার বানী। ডঃ ইয়াসমিন হক একজন পদার্থবিদ, বিজ্ঞানী। তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ২৩ বছর ধরে তিনি এক্সপেরিমেন্টাল নন-লিনিয়ার অপটিক্স নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি গবেষণা দল গবেষণার এক পর্যায়ে আবিষ্কার করেন ক্যান্সার চিহ্নিতকরণের সহজ উপায়। তারা মানবদেহের রক্তের মধ্যে এমন কিছু ‘বায়োমার্কার’ খুঁজে পেয়েছেন, যা ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে সাড়া দেয়। নন-লিনিয়ার অপটিকসে’র পদ্ধতি প্রয়োগ করেই রক্তের মধ্যে ওই ধরনের বায়োমার্কার খুঁজতে শুরু করেছিলেন, যাতে অবশেষে সাফল্য মিলেছে।

তাঁরা আশা করছেন যে ক্যান্সার পরীক্ষার একটি ‘ডিভাইস’ বা যন্ত্র এক বছরের মধ্যেই তৈরি করে ফেলা সম্ভব হতে পারে যার মাধ্যমে মাত্র ৫০০ টাকায় ৫ মিনিটের মধ্যে ক্যান্সার চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,

“দেখুন, আমরা একটা যুগান্তকারী কাজ করেছি কিংবা ক্যান্সার শনাক্তকরণে বিপ্লব এনে দিচ্ছি – এত বড় বড় কথা আমরা বলতে চাই না।…কিন্তু আমরা অবশ্যই দারুণ এক্সাইটেড – কারণ আমরা ক্যান্সার রোগীদের রক্তে একটা মারাত্মক পরিবর্তন ধরতে পেরেছি, যেটা নীরোগ মানুষদের তুলনায় ভীষণ, ভীষণ আলাদা!”

নন-লিনিয়ার অপটিক্স কি

কোনো বস্তুর সঙ্গে আলোর মিথস্ক্রিয়ায় বস্তুটিকে দৃশ্যমান করার বিষয় নিয়ে নন-লিনিয়ার অপটিক্স আলোচনা করে। তীব্র আলোর সংস্পর্শে এলে মাধ্যমগুলোর আলোকীয় ধর্মের পরিবর্তন হতে শুরু করে এবং তাদের নন-লিনিয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশিত হতে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ বা মাধ্যমকে তখন তাদের নন-লিনিয়ার অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য দিয়ে শ্রেণি বিভাগ করা সম্ভব হয়। যেহেতু আলোর তীব্রতাই মূল বিষয়, সে কারণে লেজার প্রযুক্তি গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নন-লিনিয়ার অপটিক্স বিকাশ লাভ করতে শুরু করে।

২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের নন-লিনিয়ার অপটিক্স গ্রুপ উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অর্থায়নে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম এক্সপেরিমেন্টাল নন-লিনিয়ার অপটিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি নির্মিত হয়। স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীরা এই ল্যাবরেটরিতে ভিন্ন ভিন্ন লেজার ব্যবহার করে নানা ধরনের জৈব, অজৈব এবং বায়ো-স্যাম্পলের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের কাজ শুরু করে। এই নমুনাগুলোর ভেতর দিয়ে শক্তিশালী লেজার রশ্মি পাঠিয়ে তাদের নন-লিনিয়ার বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়। এভাবে কোনো পদার্থের নন-লিনিয়ার অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রেই বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়া বা স্পেক্ট্রোস্কোপিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নমুনার গুণাগুণ বের করার চাইতে সহজতর ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া সম্ভব।

নন-লিনিয়ার অপটিক্স গবেষণার মাধ্যমে ক্যান্সার চিহ্নিতকরণ

২০১৫ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নন-লিনিয়ার অপটিক্স রিসার্চ গ্রুপ হেকেপের উইন্ডো ফোরের আওতায় ইউনিভার্সিটি-ইন্ডাস্ট্রি সমন্বিত গবেষণার জন্য একটি উদ্ভাবনীমূলক পরিকল্পনা জমা দেয়। এই পরিকল্পনাটি ছিল ক্যান্সার রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের নন-লিনিয়ার বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করে ক্যান্সারের সম্ভাব্য উপস্থিতি ও অবস্থা চিহ্নিত করার একটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন। অর্থাৎ প্রচলিত বায়োকেমিক্যাল ক্যান্সার নির্দেশক বায়োমার্কারের পরিবর্তে একটি অপটিক্যাল বায়োমার্কার উদ্ভাবন করা। সহজ ভাষায় বলা যায়, ক্যান্সার রোগাক্রান্ত রোগীদের রক্তে এমন কিছু একটা অনুসন্ধান করে বের করা যায়, যার নন-লিনিয়ার বৈশিষ্ট্যটি ক্যান্সার রোগের সম্ভাব্যতার একটি ধারণা দেবে। একই সঙ্গে খুব সহজে নন-লিনিয়ার বৈশিষ্ট্যটি অনুসন্ধানের জন্য একটা সহজ যন্ত্রও তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়। সজভাবে বলা যায়, এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শুধু ক্যান্সার রোগাক্রান্ত রোগীদের রক্ত নয়, অন্য যে কোনও নমুনার নন-লিনিয়ার ধর্ম খুবই সহজে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘নন-লিনিয়ার অপটিক্স ব্যবহার করে বায়োমার্কার নির্ণয়’ শীর্ষক প্রকল্পটি হেকেপের আওতায় সিপি-৪০৪৪ হিসেবে গৃহীত হয়। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নন-লিনিয়ার বায়ো-অপটিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি নতুন ল্যাবরেটরি নির্মিত হয়। এই ল্যাবরেটরিতে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের রক্তের সিরামে শক্তিশালী লেজার রশ্মি পাঠিয়ে নন-লিনিয়ার ধর্মের সূচক পরিমাপ করার কাজ শুরু হয়েছে।

ডঃ ইয়াসমিন হক দেশের একজন সফল পদার্থবিদ ও বিজ্ঞানী। তার অজস্র স্নেহধন্য শিক্ষার্থী রয়েছে যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল। স্বামী প্রথিতজশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও কল্পকাহিনী লেখক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ডঃ জাফর ইকবাল ও একই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়িয়েছেন। ডঃ ইয়াসমিন হক পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

ডঃ ইয়াসমিন ও তাঁর দলের জন্য গোটা বাংলাদেশ এখন অপেক্ষায় কবে এই গবেষণার ফসল হাসপাতাল আর ডাক্তারদের সঠিক সহযোগিতায় মানুষের হাতের নাগালে আসবে। অজস্র লাখো কোটি মানুষ বাঁচার আশায়, একটু সুস্থ থাকার আশায় স্বপ্ন দেখতে পারবে আবার।

তথ্যসুত্রঃ বিবিসি, বাংলা ট্রিবিউন, যুগান্তর।

Categories
লাইফ স্বাস্থ্য

শিশুর সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিতে এপটামিল দুধ

”এপটামিল ” আপনার শিশুর বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করে ।

জেনে নিন বিস্তারিত

এপটামিল আপনার শিশুর বিকাশকে ডেভেলপ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি । সেই সাথে ইমিউন সিস্টেমের স্বাভাবিক ক্রিয়াকে সমর্থন করার জন্য ভিটামিন ডি রয়েছে এপটামিলের মধ্যে ।

পন্যটি অনন্য প্রক্রিয়াটির সাথে মিশ্রণের উপাদানগুলিকে একত্রিত করে ।
আয়রন – ইমিউন সিস্টেমের সাধারণ ক্রিয়াকে সমর্থন করার জন্য রয়েছে, ভিটামিন এ, সি ও এবং ডি । সাধারণত বুদ্ধি বিকাশেও সহায়তা করে থাকে এই দুধ ।

প্রায় ৪০ বছর ধরে, প্রকৃতির সুবিধাগুলি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ৪০০ জন বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞরা শিশুদের জন্য সঠিক দুধের গবেষনা করেন । শিশুদের জন্য এপাটামিল সঠিক দুধ বলে তারা অবহিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ।

তবে এই পণ্যটি নিখুঁত অবস্থায় আপনার কাছে পৌঁছানো উচিত। কেনানা বাজারে একই ধরনের ভূয়া পন্য রয়েছে । পন্যটি যদি অস্ট্রেলিয়া থেকে আসে তবে সেটি আসল পন্য । আবার পন্যটি অস্ট্রেলিয়ার কিনা সেটাও যাচাই করতে হবে । সে ক্ষেত্রে আপনাকে পন্যের গায়ে কিউয়ার কোড দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে হবে । আমরা প্রিয় পাঠকদের সুবিধার জন্য সঠিক পন্য আমদিানি এবং বাংলাদেশে হোল সেল করে এমন একটি কোম্পানির ফেসবুক পেইজের ঠিকানা নিচে দিয়ে দিচ্ছি ।

শিশুর বয়স অনুযায়ী এপটামিল-১, এপটামিল-২,এপটামিল-৩ ইত্যাদি নির্বাচন করতে হেবে ।

এপটামিল-১ : ০ -১২ মাস ।

এপটামিল-২ : ১৩-২৪ মাস ।

এপটামিল-৩ : ২৫-৩৬ মাস ।

এপটামিল : ৩৭- ৪৮ মাস ।

পেইজ লিঙ্ক : https://web.facebook.com/Australianproductsinbd/?modal=admin_todo_tour

Categories
স্বাস্থ্য

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৬৫৩ ডেঙ্গু রোগী

রাজধানীসহ সারাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রবিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫৩ জন। এর আগে, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬১৯ জন।

Categories
সারা দেশ স্বাস্থ্য

ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল ‘ভূলে ভরা টেষ্ট রিপোর্ট ‘ পর্ব -১

মাহফুজুর রহমান, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার পর এবার ভুলে ভরা টেষ্ট রিপোর্টের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের সুনামধন্য খ্যাত ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে।


১৭ আগষ্ট শনিবার প্রচন্ড অসুস্থতা নিয়ে শহরের এক প্রবীণ ব্যক্তি সকালে ফরিদপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান কয়েকটি পরীক্ষা করাতে। সেখানে গিয়ে নানা ঝক্কি-ঝামেলায় পরতে হয় তাকে। যদিও নিয়মিত তিনি এ হাসাপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। রক্ত-প্রসাব দেবার পর কয়েক ঘন্টা পর তাকে রিপোর্ট দেয়া হয়। সেই রিপোর্ট দেখে প্রবীন ব্যক্তিটির মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তার শরীরের যে অবস্থা তাতে রিপোর্টের সাথে মিল মনে হয়নি তার। এমন সন্দেহ থেকে দ্রুতই তিনি শহরের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে যান একই পরীক্ষা করাতে। সেখানকার রিপোর্টের সাথে ডায়াবেটিক হাসপাতালের রিপোর্টের আকাশ পাতাল তফাৎ ধরা পড়ে। প্রবীন ঐ ব্যক্তিটি দুটি রিপোর্ট এ প্রতিবেদকের হাতে দিয়ে বলেন, ‘দেখুন ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসার কি অবস্থা। আমার শরীর খুব খারাপ হলেও রিপোর্টে খারাপ কিছু আসেনি। অথচ অন্য ক্লিনিকে একই টেষ্ট করিয়ে আসল অবস্থা বুঝতে পারি’, আমার শরীর কতটা খারাপ।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেই, সেখানে শুধুই বানিজ্যের ধান্ধা। টেষ্টের আড়ালে চলছে, মানুষ ঠকানোর ব্যবসা। শুধু এ প্রবীন ব্যক্তিটিই নয়, এমন শত শত অভিযোগ রয়েছে ডায়াবেটিক হাসপাতালে করা টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে। ডায়াবেটিক হাসপাতাল হওয়াতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। সকাল থেকে ডায়াবেটিক পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছে মতো চলে এখানকার সব কর্মকান্ড। যারা প্রভাবশালী কিংবা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিত তারই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। ডাক্তার দেখানোর বিষয়টিও চলে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে।

ডাক্তারের চেম্বারের সামনে থাকা ব্যক্তিটির হাতে কিছু টাকা গুজে দিলেই সিরিয়াল আগে পাওয়া যায়। এ নিয়ে প্রতিদিনই রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে সেখানে থাকা কর্মচারীদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা চলে। অনেক সময় রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। হাসপাতালে থাকা বেশ কিছু কর্মচারী রয়েছে যারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়াতে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের খারাপ ভাষায় কথা বলে শাসানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা টাকা দিয়ে এখানে আসি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এখানকার কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের আচরন দেখে মনে হয় উল্টো তারা আমাদের বিনা টাকায় সেবা দিচ্ছেন।

এখানকার কোন কর্মচারীদের সাথে কথা বলা যায়না। তারা মাস্তানী স্টাইলে আচরন করেন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে। আর এখানকার চিকিৎসকদের কথা না বলাই ভালো। রোগীদের তেমন একটা কেয়ার না করেই বিভিন্ন টেষ্ট আর ঔষধ-ইনসুলিনের কথা লিখে দিয়েই বিদেয় করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, এখানকার কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ লিখে থাকেন। যেসব কোম্পানীর কাছ থেকে নিয়মিত চিকিৎসকগণ ‘মাসোয়ারা ’ নিয়ে থাকেন। রোগীরা চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হতেই বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন।

কোন কোম্পানীর ঔষধ লিখেছেন এটা দেখতেই তারা হামলে পড়েন রোগীদের উপর। কোন কোন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখেন। এতে রোগীরা বিরক্ত হলেও কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে তারা অসহায়। অনিয়ম-দুর্ণীতিতে বাসা বাঁধা ফরিদপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চলছে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। যেখানে কয়েকজন কর্তা-ব্যক্তির ইচ্ছের উপরই নির্ভর করে চলে হাসপাতালটি। কেউ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে নেমে আসে হুমকি-ধামকি ও নানা ভয়ভীতি। (চলবে)

Categories
লাইফ স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে ১০টি তথ্য জেনে নিন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ অতীতে যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি।

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত দুই সপ্তাহে অন্তত আটজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসকও আছেন।

স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে মানুষের মাঝে প্রবল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কোন শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে?

১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

২. জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়।

জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

তিনি বলছেন, ”ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।”

৩. বিশ্রামে থাকতে হবে

সরকারের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল বা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ”জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।”

৪. কী খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন – ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়

অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, ”ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।”

চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।

তিনি বলেন, ”প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।”

সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।

৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে।

এ ভাগগুলো হচ্ছে – ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’।

প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির।

তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না।

অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।

‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে।

৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল

সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে।

কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গুজ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়

ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।

১০. পানি জমিয়ে না রাখা

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলছেন, ”এডিস মশা ‘ভদ্র মশা’ হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে।

এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। সূত্র : বিবিসি

Categories
লাইফ স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ ও সমাধান

এবারের ডেঙ্গু জ্বরের সাথে আগের মিল নেই। নতুন কোন শক্তিশালী স্ট্রেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস দিয়ে ছড়ানো এই অসুখ এবার ঢাকায় রীতিমতো মহামারি আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৫০০+।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর খুব দ্রুত হার্ট, কিডনি, ব্রেইনকে এফেক্ট করছে, যার ফলে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঝুকি বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে। প্লাজমা (রক্তের তরল অংশ) লিকেজ হয়ে রোগী দ্রুত শকে চলে যেতে পারে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তা আরো ভয়ঙ্কর

ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ। এডিস মশা থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যতটুকু সম্ভব গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর কোন বিকল্প নেই। বিকাল-সন্ধ্যার দিকে ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে দিন। মশানিরোধক এরোসল ব্যবহার করুন। ফুলের টব, কৌটা ইত্যাদি জায়গায় পানি জমে থাকলে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।

জরুরি বিষয়, জ্বর আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে CBC(Complete Blood Count) এবং Dengue NS1 antigen test করবেন। উল্লেখ্য যে, Dengue NS1 Antigen সাধারণত জ্বরের প্রথম তিনদিন পর্যন্ত পজিটিভ রেজাল্ট শো করে। এরপরে করালে এই টেস্ট নেগেটিভ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, এবারের জ্বর কোন হেলাফেলার ব্যাপার নয়। শুরুতেই ডেঙ্গু এক্সক্লুড করাটা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

Dengue NS1 test নেগেটিভ অথবা CBC রিপোর্টে স্বাভাবিক প্লেটলেট (১,৫০,০০০-৩,০০০০০) হলেই কিন্তু ডেঙ্গুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। তীব্র জ্বর/ গা ব্যথা, চোখের পেছনদিকে ব্যথা, শরীরে চুলকানি বা র‍্যাশ, বমি, পেটে ব্যথা ইত্যাদি ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ। Dengue NS1 নেগেটিভ হলেও প্রতিদিনের CBC রিপোর্টে ক্রমাগত কমতে Platelet count এবং স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি Hematocrit level (স্বাভাবিক Hematocrit = হিমোগ্লোবিন লেভেলের তিন গুণ) ডেঙ্গুর ডায়াগনোসিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।

ডেঙ্গু জ্বরের পঞ্চম-ষষ্ঠ দিনে জ্বরের মাত্রা কমে যায়, কিন্তু এই সময়টায় complication develop করে সবচেয়ে বেশি। দ্রুতহারে প্লেটলেট কমে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি অথবা মলমূত্রের সাথে রক্তক্ষরণ, রক্তনালী থেকে অতিরিক্ত প্লাজমা (রক্তের তরল অংশ) ক্ষরণ হয়ে দেহের অভ্যন্তরীন ফাঁকা অংশে ( ফুসফুসের পর্দার মাঝামাঝি/ পেটে) জমে যাওয়া, Brain, kidney অথবা Heart এর প্রদাহ – এগুলো ডেঙ্গু জ্বরের complication.

Dengue NS1 negative হলে অথবা প্রথম তিনদিনের ভেতর করানো না গেলে, জ্বরের ষষ্ঠ দিন পেরোনোর পর কনফার্মেটরি টেস্ট হিসেবে Anti-Dengue Antibody (IgM, IgG) test করাতে হবে। Igm পজিটিভ মানে এবার Dengue fever হয়েছে। IgM নেগেটিভ অথচ IgG পজিটিভের অর্থ – এবার Dengue হয়নি, তবে আগে কখনও হয়েছিল। সেক্ষেত্রে অন্য কোন উপসর্গ না থাকলে অথবা স্বাভাবিক cbc থাকলে Dengue এক্সক্লুড করা যায়। তবে হ্যা, IgM নেগেটিভ হয়েও যদি, IgG level স্বাভাবিক মাত্রার চারগুণ বেশি হয়, তাহলে Dengue positive ধরে নিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। ব্যথার জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনরকম পেইন কিলার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী, যারা নিয়মিত aspirin/clopidogrel জাতীয় ওষুধ খান, ডেঙ্গু জ্বরের সময়ে তা বন্ধ থাকবে। একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট। প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। তবে বাজারের জ্যুস এড়িয়ে চলবেন, ডেঙ্গু থাকা অবস্থায় Loose motion হলে তা জটিলতা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক মাত্রায় প্রস্রাব হচ্ছে কিনা, তার হিসাব রাখতে হবে। তিনবেলা ব্লাড প্রেশার মনিটর করা অতি মাত্রায় জরুরি।

প্রচলিত গুজব, পেপে পাতার রস খাওয়ালে Platelet count বেড়ে যায়। এই ধারণার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কোন ওষুধ অথবা পথ্যের মাধ্যমে platelet count বাড়ানো যায় না। Dengue virus এর সংক্রমণের কারণে রক্তের platelet ভেঙে যেতে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় পর আপনা-আপনিই তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এছাড়াও উল্লেখ্য যে, ডেঙ্গুর চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক অথবা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের কোন ভূমিকা নেই।

ডেঙ্গু ধরা পড়লে প্রতিদিন CBC টেস্ট করাতে হবে। repeated cbc এর মাধ্যমে আমরা হেমাটোক্রিট এবং platelet breakdown rate মনিটর করি। আপনার ব্লাড গ্রুপ জানুন এবং সেই একই ব্লাড গ্রুপের পরিচিতদেরকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন। Bleeding manifestation অথবা platelet count কমে ১৫ হাজারের নিচে নামলে আমরা সেফটি মিজার হিসেবে platelet transfue করে থাকি।

তবে হ্যা, Platelet কমে যাওয়ার প্রবণতাকে প্রচলিত ধারণায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসা হলেও, সেটা main concern নয়। Fluid management is the most important thing.

ডেঙ্গু কনফার্ম হলে শারীরিক অসুবিধা থাকুক আর না থাকুক, দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভালো সিদ্ধান্ত হবে। কারণ এবারের ডেঙ্গু অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে ভয়াবহ এবং দ্রুত জটিলতার সৃষ্টি করছে।

সবাই সাবধানে থাকুন। ডেঙ্গু জ্বর বিষয়ে নিজে জানুন এবং অন্যদের জানান।

লেখক : ড. ওয়াসী আহমেদ রাফী