ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল ‘ভূলে ভরা টেষ্ট রিপোর্ট ‘ পর্ব -১

মাহফুজুর রহমান, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার পর এবার ভুলে ভরা টেষ্ট রিপোর্টের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের সুনামধন্য খ্যাত ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে।


১৭ আগষ্ট শনিবার প্রচন্ড অসুস্থতা নিয়ে শহরের এক প্রবীণ ব্যক্তি সকালে ফরিদপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান কয়েকটি পরীক্ষা করাতে। সেখানে গিয়ে নানা ঝক্কি-ঝামেলায় পরতে হয় তাকে। যদিও নিয়মিত তিনি এ হাসাপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। রক্ত-প্রসাব দেবার পর কয়েক ঘন্টা পর তাকে রিপোর্ট দেয়া হয়। সেই রিপোর্ট দেখে প্রবীন ব্যক্তিটির মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তার শরীরের যে অবস্থা তাতে রিপোর্টের সাথে মিল মনে হয়নি তার। এমন সন্দেহ থেকে দ্রুতই তিনি শহরের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে যান একই পরীক্ষা করাতে। সেখানকার রিপোর্টের সাথে ডায়াবেটিক হাসপাতালের রিপোর্টের আকাশ পাতাল তফাৎ ধরা পড়ে। প্রবীন ঐ ব্যক্তিটি দুটি রিপোর্ট এ প্রতিবেদকের হাতে দিয়ে বলেন, ‘দেখুন ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসার কি অবস্থা। আমার শরীর খুব খারাপ হলেও রিপোর্টে খারাপ কিছু আসেনি। অথচ অন্য ক্লিনিকে একই টেষ্ট করিয়ে আসল অবস্থা বুঝতে পারি’, আমার শরীর কতটা খারাপ।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেই, সেখানে শুধুই বানিজ্যের ধান্ধা। টেষ্টের আড়ালে চলছে, মানুষ ঠকানোর ব্যবসা। শুধু এ প্রবীন ব্যক্তিটিই নয়, এমন শত শত অভিযোগ রয়েছে ডায়াবেটিক হাসপাতালে করা টেষ্ট রিপোর্ট নিয়ে। ডায়াবেটিক হাসপাতাল হওয়াতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। সকাল থেকে ডায়াবেটিক পরীক্ষা করাতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছে মতো চলে এখানকার সব কর্মকান্ড। যারা প্রভাবশালী কিংবা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচিত তারই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। ডাক্তার দেখানোর বিষয়টিও চলে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে।

ডাক্তারের চেম্বারের সামনে থাকা ব্যক্তিটির হাতে কিছু টাকা গুজে দিলেই সিরিয়াল আগে পাওয়া যায়। এ নিয়ে প্রতিদিনই রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে সেখানে থাকা কর্মচারীদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা চলে। অনেক সময় রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। হাসপাতালে থাকা বেশ কিছু কর্মচারী রয়েছে যারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়াতে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের খারাপ ভাষায় কথা বলে শাসানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা টাকা দিয়ে এখানে আসি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এখানকার কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের আচরন দেখে মনে হয় উল্টো তারা আমাদের বিনা টাকায় সেবা দিচ্ছেন।

এখানকার কোন কর্মচারীদের সাথে কথা বলা যায়না। তারা মাস্তানী স্টাইলে আচরন করেন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে। আর এখানকার চিকিৎসকদের কথা না বলাই ভালো। রোগীদের তেমন একটা কেয়ার না করেই বিভিন্ন টেষ্ট আর ঔষধ-ইনসুলিনের কথা লিখে দিয়েই বিদেয় করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, এখানকার কয়েকজন চিকিৎসক বিভিন্ন কোম্পানীর ঔষধ লিখে থাকেন। যেসব কোম্পানীর কাছ থেকে নিয়মিত চিকিৎসকগণ ‘মাসোয়ারা ’ নিয়ে থাকেন। রোগীরা চিকিৎসকের চেম্বার থেকে বের হতেই বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন।

কোন কোম্পানীর ঔষধ লিখেছেন এটা দেখতেই তারা হামলে পড়েন রোগীদের উপর। কোন কোন কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখেন। এতে রোগীরা বিরক্ত হলেও কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছে তারা অসহায়। অনিয়ম-দুর্ণীতিতে বাসা বাঁধা ফরিদপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি চলছে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। যেখানে কয়েকজন কর্তা-ব্যক্তির ইচ্ছের উপরই নির্ভর করে চলে হাসপাতালটি। কেউ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে নেমে আসে হুমকি-ধামকি ও নানা ভয়ভীতি। (চলবে)

TopUP