ভুলতে পারি না ছোট বেলার সেই দিনগুলো

খুব ইচ্ছে করে প্রাইমারি স্কুলে পড়া সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে শৈশবে। আজকে সেই প্রাইমারি জীবন ও শৈশবের স্মৃতি নিয়ে থাকছে দুই পর্বের প্রথম পর্ব। লেখক- নাছির উদ্দিন সোহাগ

আমি ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না ছোট বেলার সেই দিনগুলোর কথা। মাঝে মাঝে স্মৃতির কাতর হয়ে পড়ি। টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেই মাটির আঁকা বাঁকা মেঠো পথে।  গ্রামের ছোট বেলার ছোট ছোট নালা-দীঘির জলে, আম গাছের তলায়, জাম গাছের তলায়।শীতের সকালে কুয়াশা চাঁদরে মোড়া খেঁজুর গাছের তলে।  

মাটির কলসে ভরা সেই টাটকা স্বাদের রসের কাছে।  আমার ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো আমাকে তাড়িত করে। আমি ভুলে যাই মেঠো পথ, সতেজ বাতাস, পাখির গান, ফুলে ফুলে প্রজাতির নাচ। শৈশবের প্রতিটি দিন যেখানে মধুভড়া আনন্দময় ছিলো সেখানে কোন দিনটা বিশেষ ভাবে স্মরন করি। শৈশবের প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দরী লাস্যময়ী নারীর ভুবন জয় করা হাসির মতো, ফুরিয়ে গেলেও হৃদয়ে থেকে যায়।ঠিক তেমনি ছোট বেলার দিনগুলি ফেলে এলেও দখল করে নেয় হৃদয়ের সমস্ত জামিনটা।

শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর ডানপিটে জীবন যাপন আমার মতো প্রতিটা মানুষের ফ্লাশ ব্যাক জীবন।  আমরা যারা শরীর থেকে সেই ছোট গ্রামের কাঁদা আর ধুলা মাটির গন্ধ মুছে দিতে বিদেশী পারফিউম ব্যবহার করে আধুনিক হওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকি।

তাঁরা কেউ বলতে পারবো ছোট বেলা খড়কুটো দিয়ে বল বানিয়ে বাড়ির উঠানে সাথীদের নিয়ে ফুটবল খেলিনি ? আমরা ছোট পুকুর গুলো লাফ দিয়ে সাঁতার কাঁটা আর আঁকা বাঁকা খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে সেচ করে মাছ ধরার সেই দিলগুলো ভুলতে পারি ? অবাধ্য জীবনের দুরন্ত স্মৃতিগুলো এখনো মনে হয় ছুটে যাই সেই  গাঁয়ে। ডেকে নেই সব বন্ধুদের আবার দল বেঁধে নিয়ে সেই শৈশব পথে ছুটে যাই।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। হাকিমপুর(হিলি)-দিনাজপুর

TopUP