সাংবাদিক লাঞ্ছিত, নাঈমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি : নাঈমুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক রমজান আলীসহ কয়েকজন সহ-সম্পাদক বিভাগের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই পত্রিকার প্রকাশক নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতির বরাবর অভিযোগ পত্র জমা দেন সাংবাদিক রমজান আলী।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, “গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে আমাকে নাঈমুল ইসলাম খান প্রায় দুই মাস আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ফলোআপ করতে বলেন। আমি তখন কিভাবে নিউজটি করবো সেই বিষয়ে নির্দেশনা চাই। এমন সময়ই তিনি সহ-সম্পাক বিভাগের কিছু কর্মীকে মারধর শুরু করেন। এমনকি একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের দাঁড়ি ধরে টানাটানি করেন।”

রমজান বলেন, “কোনো প্রকার পূর্বাভাস ছাড়াই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। যে ভাষা কোনো সভ্য মানুষ উচ্চারণ করতে পারে না। ঘটনায় আমি হতবিহ্বল হয়ে যাই।”

অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, “ নাঈমুল ইসলাম খান গ্রুপ প্রধান সম্পাদকও নোংরা ভাষায় গালাগাল করতে দেখেছি। এবং আমি অত্র অফিসে কর্মরত অবস্থায় একাধিক প্রতিবেদককে তার হাতে মার খেতে দেখেছি। তার মুখের ভাষা এতটাই অশ্লীল যে এখানে লেখার অযোগ্য।”

“আমি অত্র অফিসে কাজ করার পূর্বেও উনি আরও তিন জন সাংবাদিককে মেরেছেন বলে শুনেছি। তবে নিজেকে অনেক প্রভাবশালী ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দাবি করায় ভয়ে কেউ কখনো তার বিরুদ্ধে প্রতিবা করেনি। অথচ তার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন সিনিয়র থেকে জুনিয়র প্রায় সবাই।”

সাংবাদিক রমজান বলেন, “আমাকে ও অন্যান্য সাংবাদিকদের ওপর যে মারধোর করেছে এর সিসি ফুটেজেও আলামত পাওয়া যাবে। আমি গণমাধ্যমের কর্মীদের সম্মান রক্ষার্থে এবং আমার ওপর হামলার বিচার চাচ্ছি।”

রমজান অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, নাঈমুল ইসলাম কর্তৃক প্রকাশিত দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের নতুন সময়, আওয়ার টাইমস, আমাদের সময়ডটকম, আওয়ার ইসলাম, আমাদের কুমিল্লা, আমাদের দেবিদ্বরসহ অন্তত ২২টি পত্রিকা ও অনলাইনের সম্পাদক তিনি। অথচ তিনি এইসব পত্রিকায় কর্মরত কোনো সাংবাদিক বা কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার নিয়োগ পত্র দেন না। তার যখন মন চায় কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই জনবল ছাটাই করেন।

তিনি আরো জানান, তার অধিকাংশ পত্রিকায় ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের তথ্য সরকারকে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী ওনার পত্রিকাগুলো সরকারি বিজ্ঞাপন রেটও পায়। তার পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন রেটের সমান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের নতুন সময় ও আওয়ার টাইমে আলাদা কোনো প্রতিবেদক নেই। এক পত্রিকার সাংবাদিক দিয়ে সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এখানে কর্মরতদের কেউ কখনো ওয়েজ বোর্ডে বেতন পায়নি। এমনকি এখানে যারা কাজ করেন তাদের বেশির ভাগের বেতনই ১০ হাজারের কম। অনেকে ৫ হাজার টাকাও বেতন পায়। আবার যারা জ্যেষ্ঠ তাদের বেতন ২০ হাজারের নিচে।

আমার প্রত্যাশা, আমাদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আমার ওপর হামলা ও সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষার্থে দিষ্টান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জানা যায়, নাসিমা খান মন্টি সম্পাদিত এবং নাঈমুল ইসলাম খান প্রকাশিত ‘দৈনিক আমাদের অর্থনীতি’ পত্রিকায় রমজান আলী দীর্ঘ ১ বছর যাবত নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করছে। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সদস্য।

TopUP