ভালোবাসা দিবসে অশ্লীলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে!

আজিজুর রহমান,হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

জন্মের পর থেকেই মানুষের বেড়ে উঠা ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই।ভালোবাসা না থাকলে কোন পরিবার থাকতো না।থাকতো না পৌরাণিক উপাখ্যান।সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালোবাসার সন্ধান।ঠিক কবে এই ভালবাসার উৎপত্তি হয়েছে তা জানা সম্ভব না হলেও এতটুকু জানা যায় ইতিহাস বিবর্তনের চেয়েও আদিম ও পুরোনো।

হয়ত ‘ভালোবাসা-ভালোবাসি’ শব্দটি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটি।বাংলা বর্ণমালার কয়েকটি বর্ণের সমষ্টিতে সৃষ্ট শব্দ ‘ভালোবাসা’।এই বর্ণসমষ্টি বন্ধনের জড়িয়েছেন স্রষ্টার-সৃষ্টি,বাবা-মা,ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী,প্রেমিক-প্রেমিকাসহ সকল মানব-মানবী।

আগামীকাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস!বিদেশি সংস্কৃতির এ দিবসটি দিন দিন বাঙালিরাও আপন করে নিচ্ছে।বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি নিয়ে কৌতূহলের যেন অন্ত নেই।

১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত দিন।দুনিয়াজুড়ে এ দিনটিকে অত্যন্ত আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে। তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও দিনটি নিয়ে থাকে প্রচুর মাতামাতি।হঠাৎ করেই যেন আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলনটা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।গত এক যুগ ধরে ভালোবাসা দিবসে উপহার ও ফুলের দোকানগুলোর ব্যবসা থাকে রমরমা।

কিন্তু এই ভালোবাসা দিবসের নামে বাঙালীরা আজ শুধু অধঃপতনের দিকেই যাচ্ছে।নিজের শালীন সংস্কৃতি ভুলে আধুনিকতার নামে দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে বেছে নিচ্ছে ভিনদেশী অপসংস্কৃতি। ভালোবাসা দিবসও এর বহির্ভুত নয়।১৪ই ফেব্রুয়ারিতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যাকে কেন্দ্র করে করা হয় হাজারো বেহায়া ও বেলেল্পাপনাময় কর্মকান্ড।পার্ক জুড়ে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ঢল।ফুল দিয়ে মন বেচা-কেনাসহ কত যে অযাচিত ঘটনা।উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরাই সাধারণত এতে অগ্রগামী।

অনেকেই বলেন ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।প্রেম হতে পারে প্রেমিকার সঙ্গে,প্রকৃতির সঙ্গে, কিংবা স্রষ্টার সঙ্গে।তবে ভালোবাসা দিবসটি যেহেতু প্রেমিক-প্রেমিকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে,তাই সমসাময়িক ভালোবাসা দিবসে তরুণদের ভাবনা কেমন সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন,১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।”ভালোবাসা” এই শব্দটি এর চেয়ে কোমল শব্দ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি অাছে বলে অামার জানা নেই।এই ভালোবাসা টা অামরা শুধুমাত্র প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই অামি সীমাবদ্ধতায় রাখতে চাই না।সন্তানের প্রতি বাবা’র ভালোবাসা,স্বামী প্রতি স্ত্রী’র ভালোবাসা,পিতামাতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রাধান্য পায় এটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরও জানান,তবে ইদানিং ভালোবাসার নামে সেসব নোংরামি প্রদর্শন করা হয় তাতে শয়তানও লজ্জিত হয়।সভ্যতার অার সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে নোংরামি বন্ধ করার দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেই নিতে হবে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে অশ্লীলতার আগ্রাসন থেকে মুক্ত করে পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বশেমুরবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী বিজয় বলেন,ভালোবাসা দিবস এটা অবশ্যই ভালো দিক।কিন্তু বতর্মানে এই পবিত্র দিনে বাঙালী সংস্কৃতি পরিবর্তে পশ্চিমা সংস্কৃতি চলে আসায় নানান অনৈতিক কার্যক্রম চলে যা আমাদের দেশের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চলে যায়।

আমরা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস মানে প্রেমিক যুগল ভেবে থাকি।কিন্তু আমরা এটাকে বাবা-মায়ের ভালবাসা,ভাই বোনের ভালবাসা,প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা হতে পারে।প্রাধান্য দেওয়ার দিক থেকে বাবা-মায়ের ভালবাসাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন,আঁশি/নব্বই দশকের ভালবাসার সাথে বিংশ শতকের ভালবাসায় অনেক ফারাক বিদ্যমান।বর্তমান ভালবাসার সর্ম্পকে ৫০ শতকরা ব্যক্তিস্বার্থ থাকে যার জন্য ২০ শতকরা প্রেমিক প্রেমিকারা বিয়ে পর্যন্ত এগোতে পারে।বাকীগুলো বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের কারণ হিসেবে দাড়িয়ে যায়।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কেয়া জানান, ভালোবাসা চিরন্তণ এবং সব মানুষের মধ্যেই এটি সবসময় বিরাজ করে।অতীতে ভালোবাসা ছিলো নিতান্তই আত্নিক,তাই প্রকাশ ছিলো শুধু ভালোবাসার মানুষগুলোর মধ্যে,লোক দেখানো ব্যাপারটি অনেকে চিন্তাও করতো না।এখন হয় এর উল্টোটি।এখন ভালোবাসা অনেকাংশেই লোক দেখানো ব্যাপারটি জড়িত থাকে।বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভালোবাসার অর্থ টা ভিন্ন।তাই নতুন প্রজন্মের অনেকেই ভালবাসা দিবস‌কে পুঁজি করে অশ্লিল কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।দিনে দিনে এই ভয়াবহ প্রবণতা বেড়েই যাচ্ছে।যা ভালোবাসার মত পবিত্র বন্ধনকে প্রশ্নসিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও,ভালোবাসা বিরাজ করুক প্রতিটি পরিবারে এটাই কামনা।

আজিজুর রহমান,
দপ্তর সম্পাদক, হাবিপ্রবিসাস