সোস্যাল মিডিয়া বিশ্ববাসীর আতঙ্ক: মোস্তাফা জব্বার


গত ২৯ জুন ১৯ ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০ বছর পূর্তিতে তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আমি মন্তব্য করেছিলাম যে সামনের সেপ্টেম্বর নাগাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরাজ করা খারাপ উপাত্ত নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা সরকার অর্জন করবে। দেশের সাধারণ মানুষ তাতে দারুণভাবে খুশি হয়েছে।

এর আগে আমরা যখন ২২ হাজার পর্নো সাইট ও কয়েক হাজার জুয়ার সাইটসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খারাপ উপাত্ত সরাতে সক্ষম হই তখনও সাধারণ মানুষ তাকে অভিনন্দিত করেছে। এই প্রচেষ্টাটি আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কেননা আমরা ছোট শিশুসহ দেশের সকল নাগরিককে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আহ্বান জানাই এবং ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌছানোর আন্দোলন করছি।

মেক্সিকো যেমন করে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে তেমন করে সম্ভব হলে আমরা একে ষষ্ঠ মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেব। আর সেজন্যই আমাদেরকে অবশ্যই ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা বলে ওয়েবসাইট যে কোন দেশ তার নিজের দেশে যাতে দেখা না যায় তার ব্যবস্থা করা তেমন কোন চ্যালেঞ্জিং নয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত মন্তব্য, ভিডি, অডিও এবং অন্যান্য উপাত্ত সুনির্দিষ্টভাবে সরানো কঠিনতম কাজ। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব পুরাটা বন্ধ করা বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এবং প্লাটফরমগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় বিধায় এসব সাইট উন্মুক্ত রেখে নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং। অথচ এটি যে কতো জরুরি সেটি কেবল আমরা নই পশ্চিমা গণতন্ত্রের দেশগুলোও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

আমরা যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করি তখন একদশ পণ্ডিত আইনটি নিয়ে নানা কথা বলেছেন। কিন্তু এখন তাদের উচিত পশ্চিমা দেশগুলো যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তার দিকে তাকানো। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বিশ্বের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেশের ব্যবস্থাগুলোর কথা উল্লেখ করেছে। বিবিসির প্রথম মন্তব্য, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন চেষ্টা চলছে কিভাবে বড় বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বেপরোয়া কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়।” আমরা যখন এসব কথা বলেছি তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকার রাষ্ট্রদূতরা আমাদেরকে জ্ঞান দিতে এসেছেন।


বিবিসির খবরে বলা হয় যে ফেসবুক-িইউটিউব নাকি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে তাদের প্লাটফরমে প্রকাশিত উপাত্ত। “ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মগুলো এতদিন ধরে দাবি করে এসেছে যে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এক ধরণের ব্যবস্থা চালু আছে, যেখানে তারা নিজেরাই আপত্তিকর বিষয়বস্তু সরিয়ে নেন।
ইউটিউব দাবি করে, তাদের সাইটে যখন কোন আপত্তিকর কনটেন্ট দেয়া হয়, তারা সেটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।২০১৮ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউটিউব প্রায় ৭৮ লাখ ভিডিও তাদের সাইট থেকে অপসারণ করেছে। এর মধ্যে ৮১ শতাংশই সরানো হয়েছে যন্ত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এই ভিডিওগুলোর তিন চতুর্থাংশই কেউ দেখার আগেই সরিয়ে ফেলা হয়।


শুধুমাত্র আপত্তিকর ভিডিও সরিয়ে নেয়ার জন্য সারা বিশ্বে ইউটিউব দশ হাজার লোক নিয়োগ করেছে। তাদের কাজ মনিটরিং করা এবং আপত্তিকর ভিডিও সরিয়ে নেয়া।
ফেসবুক, যারা ইনস্টাগ্রামেরও মালিক, বিবিসিকে জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানে এরকম কাজের জন্য আছে ৩০ হাজার লোক।
কেবল গত বছরের অক্টোবর হতে ডিসেম্বরের মধ্যেই ফেসবুক ১ কোটি ৫৪ লাখ সহিংস কনটেন্ট সরিয়ে নিয়েছে তাদের সাইট থেকে। আগের তিন মাসের তুলনায় এটা প্রায় ৭৯ লাখ বেশি।


কিছু কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শনাক্ত করা যায়, কেউ দেখে ফেলার আগেই। সন্ত্রাসবাদী প্রপাগান্ডার ক্ষেত্রে, ফেসবুক দাবি করছে, ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ কনটেন্টই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি দিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে, তারপর সেগুলো মুছে দেয়া হয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায়
প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কেউ যখন কারও নগ্ন ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় বা কোন জঙ্গি মতাদর্শের কিছু শেয়ার করে, তখন এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে এতদিন দায়ী করা যেতো না। এজন্যে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতো কেবল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে।”

কিন্তু সারা দুনিয়াতে এখন ফেসবুক-ইউটিউবের শুধ কথার চিড়া ভিঝছেনা। ফলে অনেক দেশেই আইন বদলানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে, অনেকে আইন করেও ফেলেছে। বিবিসি যে বিবরণগুলো প্রকাশ করেছে সেগুলো তুলে ধরলে অনুভভ করা যাচ্ছে সারা বিশ্বের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কতোটা ভীতিকর অবস্থান তৈরি করেছে। আসুন একের পর এক দেখি কি হচ্ছে বিশ্বে।
ব্রিটেন: সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেছে। এর উদ্দেশ্য, ক্ষতিকর কোন ‘কনটেন্ট’ কোন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তার জন্য কোম্পানির কর্মকর্তাদেরও যেন দায়ী করা যায়।


ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়ম ভঙ্গকারী সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে বিপুল অংকের জরিমানা থেকে শুরু করে তাদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ বা ব্লক করে দেয়ার কথাও রয়েছে।
ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার থেকে শুরু করে নানা ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া যারা ব্যবহার করেন, তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকার একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের কথা ভাবছে। এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এজন্যে আলোচনা-পরামর্শ গ্রহণ চলবে আগামী ১লা জুলাই পর্যন্ত।


ব্রিটেনের বর্তমান আইনে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় না। ব্রিটিশ সংস্কৃতি মন্ত্রী মারগট জেমস বলছেন, এই অবস্থান পরিবর্তন দরকার। তিনি চান, ব্রিটেনে এমন আইন তৈরি করা হোক, যাতে করে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো বাধ্য হয় এরকম অবৈধ কনটেন্ট সরিয়ে নিতে।


জার্মানি: জার্মানিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে এক নতুন আইন কার্যকর হয়। জার্মানিতে যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিশ লাখের বেশি ব্যবহারকারি আছে, তারা সবাই এই আইনের আওতায় পড়বে।
জার্মানির এই নতুন আইনে বলা আছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কনটেন্ট সম্পর্কে

TopUP