ঘুরে আসুন সীমান্তের আইফেল টাওয়ার খ্যাত বারিক্কা টিলা

কামাল হোসেন,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ :

হাওরাঞ্চল খ্যাত  সুনামগঞ্জ একটি ছোট জেলা শহর। রয়েছে তার অনেক নান্দনিক রূপ সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর । যে রূপ আর সৌন্দর্য সব সময় মুগ্ধ করে পর্যটকের। সামান্য সময়ের জন্য হলেও অভিভূত হতে হয় রূপসৌন্দর্য দেখে।

ভেবে নিতে হয় আল্লাহর মহান অদৃশ্য হাতের কারুকার্য। নিজের ভিতরের সুপ্ত ভালো লাগাগুলো নিমিষেই বের হয়ে আসে, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে রূপ দেখে তোর হইলাম রে পাগল। ছোট ছোট আঁকাবাঁকা মেটো পথ নিয়ে যায় মনের সাজানো বাগানে, মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে সেই সুন্দর্য্যকে। নিজেকে কিছুক্ষনের জন্য ভাবা যায় আমি এক অন্য জগতে আছি।

বারিক্কা টিলা
বারিক্কা টিলা

চারপাশের সব কিছুই মুগ্ধ করছে আমায়। সেই সুনামগঞ্জ জেলার রূপ সুনামগঞ্জ শহর থেকে বেশি দূরে নয়। প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত তাহিরপুর উপজেলায়। হা আমি এতক্ষন যে জায়গাটির কথা বলছিলাম সেটা হলো বারিক্কাটিলা। এলাকায় এটি আইফেল টাওয়ার নামে খ্যাত।

কারন সমতল ভুমি থেকে এটি অনেক উচু একটি টিলা যেখানে দাঁড়ালে পাশের গ্রামগুলোকেও সমতল ভুমির মতো মনে হয়। আর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘালয় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা অপরূপা সীমান্ত নদী  জাদুকাটার । এই জাদুকাটা নদীর সচ্চ পানির নিচের বালিগুলো স্পষ্ট দেখা যায়।

আয়নার মতো দেখতে সেই নদীতে বালি ও পানি একসাথে খেলা করছে। উত্তরদিকে মেঘালয় পাহাড়ে খেলারত মেঘগুলো মনেহয় হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। বাংলাদেশের মানচিত্রে এটি যেন এক ছোট ভূ-স্বর্গ। একদিকে সবুজ পাহাড় আরেকদিকে নানা রঙের পানির হাওর,মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ।

বারিক্কা টিলা

পাহাড়ের গায়ে নানা রঙের মেঘের খেলা। মেঘ কখনো সবুজ পাহাড়কে ডেকে দিচ্ছে আবার কখনো বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার আপন ভালোবাসায়। পাহাড় আঃর মেঘের সঙ্গমের দৃশ্য,দম বন্ধ করা সুন্দর,এরি নাম বারিক্কা টিলা। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হাওর,বিল,নদী ও পাহাড় কন্যা বলে খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার উত্ত্র পশ্চিমে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই বারিক্কা টিলা।

বর্ষায় পাহাড়ী রূপবতী নদী জাদুকাটার বুকে স্রোতধারা আঃর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়া জাদুকাটার বুক জুড়ে ধু ধু বালুচর যা আইফেল টাওয়ার খ্যাত বারিক্কা টিলা থেকে বারোমাস উপভোগ করা যায়। পার্শ্বস্থ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সারি সারি উচু নিচু খাসিয়া পাহাড় ও সবুজ বনায়ন ও মাটিয়া পাহাড় যা প্রতিনিয়ত ছুটে আসা লোকজনের দৃষ্টি কাড়ে।

এখানে রয়েছে হরেক রকম গাছ গাছালী, রয়েছে বিশাল বনভুমিতে নিজস্ব ইতিহাস,ঐতিহ্য,সংস্কৃতিতে বলিয়ান আদিবাসী ও বাঙ্গালী বসতি। রয়েছে তাদের নিজেদের গোছানো বাড়িঘর। আদিবাসীদের পাহাড়ী আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে আপনি যখন বারিক্কা টিলায় উঠবেন তখন আপনার মনে হবে আপনি বাংলার আইফেল টাওয়ার থেকে পুরো তাহিরপুর উপজেলাকে দেখছেন।

একদিকে পাহার,একদিকে গ্রামগুলো দাঁড়িয়ে আছে গাছের মতো,হাওরভর্তি পানি। সবলিছু তখন আপনার ছখের সামনে স্মৃতি হয়ে ভেসে উঠবে। এই বারিক্কা টিলায় গেলে পাবেন সীমান্ত পিলার,একটি ছবি আপনাকে দুই দেশের দৃশ্যপটে রেখে দেবে। বারিক্কা টিলা থেকে দেখতে পাবেন দুই দেশের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা নদীতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মব্যস্ত জীবন।

নদী থেকে বালু পাথর উঠানোর এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। মনে হবে নিজেই পানিতে নেমে একটু গা ভিজিয়ে নেই। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিজেকে একজন সুখী মানুষ ভাবতে আপনার একটুও কষ্ট হবেনা। তবে একটা ব্যাপার আপনি লক্ষ্য করবেন,বাংলাদেশের সবগুলো পর্যটন এলাকাই শব্দ দূষণে এলাকার অবস্থা খারাপ করে তুলছে কিন্তু তাহিরপুরের এইসব নয়ন মুগ্ধকরা এলাকা এখনো দূষিত হয়নি।

প্রত্যন্ত এলাকা বলেই এসকল দর্শনীয় এলাকার কথা মানুষ-জন এখনো তেমন জানেনা। একবার গিয়ে দেখে আসুন না একটা সূর্যদ্বয় বা সূর্যাস্ত, এত উপর থেকে দেখে মনে হবে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটা দিন,যা আপনাকে বার বার স্মৃতির পাতায় নিয়ে যাবে। স্মরণ করিয়ে দিবে দর্শনীয় দিনগুলোর কথা। আশাকরি আপনার জীবনের একটা মুহুর্ত কাটবে এই বারিক্কা টিলায়।

TopUP