ছেলের ইভটিজিংয়ের পক্ষে সাফাই গাইলেন শিক্ষক বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
পটুৃয়াখালীর গলাচিপা থানার চর বিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক মোজাম্মেল হাওলাদারের বখাটে ছেলে আব্দুল্লাহ আল জিহাদ (১৫) এর নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছে তিন শিক্ষার্থী।

গতকাল ১লা অক্টোবর মঙ্গলবার ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর তিন শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী জানান, মোজাম্মেল স্যার আমাদের বিদ্যালয়েরই শিক্ষক হওয়ায় তার ছেলে জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাথে বিভিন্ন সময় অশোভন আচরণ করে যাচ্ছে। স্যারের ছেলে হওয়াতে আমরা কখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পাইনি। তবে গতকাল আমাদের বিদ্যালয়েরই ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছোট বোনদের সাথে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে জিহাদ।

ভোক্তভোগী ঐ তিন শিক্ষার্থীর কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার সর্তে তারা বলেন, যেখানে দেশে নারী পুরুষের সমতার স্লোগান দেওয়া হয়,সেখানেই মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয় তবে নারীরা কোথায় নিরাপদ!এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হবে, কারন আমাদের পরিবারের লোকজন এমন ঘটনা শুনলে আর বিদ্যালয়ে আসতে দিবেনা। তারা জিহাদের উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।

উক্ত ঘটনা জানতে অত্র বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক এবং বখাটে জিহাদের বাবা মোজাম্মেল স্যারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি মিথ্যা বলে দাবী করেন এবং নিজের বখাটে ছেলের প্রশংসা করে সাফাই গাইতে থাকেন। আপনার ছেলে যেই সব মেয়েদের উত্যক্ত করেছে তারাতো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেছেন ও বিচার দাবী করেছেন। প্রয়োজনে ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আপনার ছেলের বিচারের দাবীতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয় প্রধানের কাছে বিচারের আবেদন করবে বলে জানিয়েছেন, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের পর তিনি ফোনের লাইনটি কেটে দেন। কেটে দেওয়ার পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে জানতে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.নেসার উদ্দিন স্যারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোজাম্মেল স্যারের ছেলে জিহাদ যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা সত্য। তবে বিষয়টা আমি দেখবো, সমাধানের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা সাহেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোক্তভোগী মেয়েরা এখনো অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো তবে জিহাদের বাবা অভিযোগ করেছেন তার ছেলেকে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.মাঈনুদ্দিন বেত্রাঘাত করেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরো বলেন, ছেলে ইভটিজিং করেছে মেয়েদের অভিযোগের পরে অন্য শিক্ষক বেত্রাঘাত করেছে এটা নিয়ে একজন শিক্ষিত শিক্ষক বাবা উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার পর্যন্ত এসেছেন বিষয়টা আসলেই দু:খজনক বলে দু:খ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, জিহাদের বাবা জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কোচিং বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। সরকারের শিক্ষা নীতিমালা অমান্য করে নীতিমালার আলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

TopUP