ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী বৈশাখির সঙ্গে প্রেম ছিল সম্রাটের

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে চলেছেন ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অপরাধ জগত, ব্যক্তিগত জীবন, জুয়া খেলা ও রাজনীতি সম্পর্কে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক নেত্রীর সঙ্গে প্রেম ছিল সম্রাটের। তার নামে ঢাকায় একাধিক দোকানও কিনেছেন সম্রাট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুনমুন নাহার বৈশাখী এর আগে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। যশোরের ঝিকরগাছার কায়েমকোলা গ্রামের মেয়ে মুনমুনের পরিবার জামায়াত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছিল।

সূত্র বলছে, ক্যাসিনো কিং সম্রাটের অর্থ-সম্পদের একটি লম্বা ফিরিস্তি পাওয়া গেছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে টাকা জমা রেখেছেন সম্রাট। তার ভাই বাদলের নামে রাজধানীর আশপাশে কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন তিনি।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রী মুনমুন নাহার বৈশাখী সঙ্গে সম্রাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৈশাখীর নামে পুলিশ প্লাজায় একাধিক দোকান কিনেছেন।

র‌্যাবের ওই সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাকা জমা রেখেছেন ক্যাসিনো সম্রাট। আর ওই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাই সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড। এছাড়া তার ভাই বাদলের নামে রাজধানীর আশেপাশে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও প্লট কিনে রেখেছেন ক্যাসিনো কিং সম্রাট।

যুবলীগ নেতা খালেদ ও আরমানের বিপুল অংকের টাকা আছে থাইল্যান্ড, দুবাই ও সৌদি আরবে। জুয়ার টাকায় আরমান সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেন। দেশবাংলা চলচিত্র নামে একটি প্রডাকশন হাউস খোলেন তিনি। সিনেমা জগতে নাম লেখানোর পর আরমানের সঙ্গে শিরিন শিলা নামের জনৈক চিত্রনায়িকার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব হলেও পরে শিলার সঙ্গে আরমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় শিলার নামে একাধিক ফ্ল্যাট কেনেন আরমান।

সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা সম্রাটের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সম্রাটই ঢাকার ক্যাসিনো জগতের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার মাধ্যমেই প্রভাবশালী মহলে বিপুল অংকের অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়েছে। আপনারা জানেন, যেখানেই অঢেল অর্থ সেখানেই অবধারিতভাবে অস্ত্র, মাদক ও নারী সম্পৃক্ততা চলে আসে। সম্রাটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।’

এ বিষয়ে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সম্রাটের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সম্রাট ঢাকার ক্যাসিনো জগতের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন। তার মাধ্যমেই প্রভাবশালী মহলের মধ্যে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থের লেনদেন হয়েছে। আপনারা জানেন, যেখানেই অঢেল অর্থ সেখানেই অবধারিতভাবে অস্ত্র, মাদক ও নারী সম্পৃক্ততা চলে আসে। সম্রাটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

এর মধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে।

দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।