Categories
চট্টগ্রাম তারুণ্য

মানবিক পুলিশ শওকতের গল্প

ডাস্টবিনের পাশে কোনো ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগী পড়ে আছেন। ওই রোগীর এক পা অর্ধেকজুড়ে পচে গেছে, শরীর থেকে বের হচ্ছে উৎকট গন্ধ। এমন রোগী থেকে সবাই দূরে থাকলেও পরম যত্নে তাদের চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে তুলছেন সুপারহিউম্যান খ্যাত মানবিক পুলিশ সদস্য মুহাম্মদ শওকত হোসেন।

তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক পুলিশ শাখার টিম লিডার হিসেবে কর্মরত আছেন। ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে কাজ করছেন। বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাটে। বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো ভারসাম্যহীন রোগীকে শওকত হোসেন হাসপাতালে নিয়ে এসে সুস্থ করে তুলছেন। এসব রোগীকে দেখভাল করতে গিয়ে গত ১০ বছর ধরে নিজের জন্য একটি পোশাকও কিনতে পারেননি তিনি। বিভিন্ন পারিবারিক ও অফিসের অনুষ্ঠানে যেতেন সহকর্মীর পোশাক পড়ে। তার বেতনের অর্ধেকের বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে অসহায় এসব রোগীর পেছনে।

যেভাবে মানবিক পুলিশ হয়ে উঠলেন তিনি

মুহাম্মদ শওকত হোসেন পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে ২৪তম ব্যাচে যোগ দেন ২০০৫ সালে। তখন তার মূল বেতন ছিলো ২ হাজার ৮৫০ টাকা। সবকিছু মিলিয়ে বেতন পেতেন ৫ হাজার টাকা। ওইসময় আর্থিক অনটনে দিন অতিবাহিত করতেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ধৈর্য রাখতে বলতেন। বাবার অভয়ে তার পুলিশে পথচলা শুরু। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এরপর বদলি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে আসেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষার অধীনে মেডিক্যালের ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা ও দুই বছরের প্যারা মেডিক্যালের বিষয়ে লেখাপড়া করেন।

অসহায় রোগীর পাশে সুপারহিউম্যান খ্যাত মানবিক পুলিশ সদস্য মুহাম্মদ শওকত হোসেন২০০৯ সালে কিছুদিন রাঙামাটিতে কর্মরত থাকার পর শওকত হোসেনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে বদলি হন। দায়িত্ব ছিলো রাঙামাটি থেকে আসা আহত পুলিশ সদস্যের সেবা দেওয়া। একসময় তাকে ওটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন থেকে তার রোগীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতেন তিনি। প্রথম দিকে নিজেই একা কাজ করলেও এখন তার সহযোগী আছেন ১০জন। প্রতিদিনই কোনো না কোনো রোগীকে হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলছেন শওকত হোসেন।

শওকত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘রাস্তার পাশে পড়ে থাকা রোগী, যাদের শরীর থেকে ছড়াতো উৎকট গন্ধ, এমন মানুষের পাশে কেউ যেতেন না। আমি মনে করতাম, এই মানুষটি-তো আমিও হতে পারতাম বা আমার ভাইও হতে পারতো। এইভেবে নিজে উদ্যোগী হয়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে এনে সুস্থ করে তুলতাম।

তিনি বলেন, প্রায় সময় এমন রোগী পেতাম কারও হাত, কারও পা ও কারও মুখ পচে গেছে। এসব রোগীর শরীর থেকে পোকাও বের হচ্ছে। এমন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। নিজের টাকায় কয়েক সেট কাপড় কিনে তাদের পড়াতাম। সেই কাপড়ে প্রস্রাব, পায়খানা করলে কাপড়টি বদলিয়ে নতুন কাপড় পড়াতাম নিজ হাতে। এভাবে সুস্থ করে তুলতাম।

গত ১০ বছরে নিজের জন্য একটিও নতুন কাপড় কেনেননি উল্লেখ করে শওকত হোসেন বলেন, শত শত রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। তবে অনেকে এগিয়ে এলেও টাকার পরিমাণ অপ্রতুল। নিজেরে বেশিরভাগ টাকা এসব রোগীর পেছনে চলে যাওয়ায় ১০ বছরে নতুন কোনো পোশাকও কিনিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম সহকর্মীর পোশাক পড়ে। পরিচিতজনকে বলতাম, আমার কিছু গরীব মানুষের জন্য কাপড়-চোপড় দরকার। তখন তারা যে কাপড়গুলো দিতো, তা থেকে অসুস্থ রোগীকে দিতাম, নিজেও পড়তাম।

‘নিজের স্ত্রীকে নিয়েও দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। আমার স্ত্রীও বিষয়টি বুঝেন, তিনি বরং আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন। আমার আশা, দেশের মানুষ এসব রোগীর জন্য এগিয়ে আসবেন। সবাই এগিয়ে এলে তখনই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে’ যোগ করেন তিনি। সূত্র : বাংলানিউজ২৪

Categories
চট্টগ্রাম দেশ

আবর্জনার স্তূপে নবজাতক: ১ বছরে মিললো ১৬ শিশু

নবজাতক শিশুরা জন্মের পর চার দেয়ালের ভেতর নরম বিছানা বা মাতৃকোলে থাকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কিছু নবজাতক পৃথিবীর মুখ দেখে নির্মমতা সঙ্গী করে। তাদের ঠাঁই হয় না নরম বিছানা বা মায়ের কোলে। পৃথিবীর আলোটাই তারা দেখে ডাস্টবিন, নালা, ময়লার স্তূপ বা কুকুরের মুখে। চলার পথে এমন অনেক শিশুর দেখা মেলে। এদের কেউ মরে বেঁচে যায়, কেউ বেঁচে মরে থাকে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় চলতি বছর জানুয়ারিতে ৩ জন এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ জন নবজাতক কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। এদের কেউ পথের ধারে, কেউ রেললাইনে, কেউ ময়লার স্তূপে, আবার কাউকে পাওয়া গেছে ডাস্টবিনে।

যা খুবই অমানবিক। এর অন্যতম কারণ মানসিক ভারসাম্যহীন নারীরা কিছু নরপিশাচের লালসার শিকার হন এবং কিছু তরুণ প্রেমিক-প্রেমিকার ভুল সিদ্ধান্ত। পুরুষরা সন্তানকে অস্বীকার করার কারণে নারীরা বাধ্য হয় সন্তান নষ্ট করতে বা অপরিণত অবস্থায় অপারেশনের মাধ্যমে সন্তানকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে যেতে।

৩১ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ৯টায় ডবলমুরিং থানার রেলওয়ে ডকইয়ার্ড রেললাইনের পাশ থেকে সদ্য ভূমিষ্ট নবজাতক ও নবজাতক শিশুর মা মানসিক ভারসাম্যহীন রিনা আকতারকে (৩০) উদ্ধার করে ডবলমুরিং থানার পুলিশ, ১৯ জানুয়ারি নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার মোস্তফা কলোনির পশ্চিম শহীদনগর ওয়েল মিলস জিসি ফ্যাক্টরির পাশে ময়লার স্তূপ থেকে এক নবজাতক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

চিকিৎসার পর অভিভাবকহীন নবজাতকটিকে চমেক হাসপাতাল থেকে লালন-পালনের জন্য রৌফাবাদ সরকারি ছোট মণি শিশুনিবাসে পাঠানো হয়, ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আগ্রাবাদের গ্রামীণ ফোন সেন্টারের সামনে রাস্তার উপর সন্তান প্রসব করেন মানসিক ভারসাম্যহীন রোজিনা। এরপর রাস্তা থেকে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে। বর্তমানে শিশুটি একটি পরিবার লালন পালন করছে।

৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পশ্চিমচাল কবিরার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে রাতের আঁধারে এক মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী প্রসব বেদনায় গগনবিদারী চিৎকার শুনে গন্তব্যে ছুটে যান এলাকাবাসী। পরবর্তীতে কয়েকজন মহিলা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে গেলে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী এক নবজাতক ছেলে শিশুর জন্ম দেন।

১৮ নভেম্বর হালিশহরের এইচ ব্লকে দুপুরে ড্রেনের পাশে ময়লার স্তুপে সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বাচ্চাটি মারা যায়, ১৭ নভেম্বর চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেইটের পাশে একটি ডাস্টবিনে দুটি অপরিণত বাচ্চাকে কুকুরের দল থেকে উদ্ধার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ, ৩ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়ামতল এলাকায় সড়কের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

১৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের পতেঙ্গার নাজিরপাড়া এলাকার সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের (এসএপিএল) পাশে রাস্তার থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শাহানূর বেগম। তখন নবজাতকের মানসিক ভারসাম্যহীন মা পাশে ছিল। উদ্ধারের পর নবজাতককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কাউন্সিলর নিজেই এই শিশুটির পরিচর্যা করছেন। ২ অক্টোবর সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের বন্দরের ইস্ট কলোনির ড্রেন থেকে অপরিণত এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ।

১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় সার্কিট হাউজের দেয়ালের পাশে ব্যাগের ভেতর থেকে ৪০ দিনের এক শিশু উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

২০ আগস্ট আগ্রাবাদ এলাকায় ভোরে মানসিক ভারসাম্যহীন আয়েশা (২৬) সন্তান প্রসবের পর ছুঁড়ে ফেলে দেন রাস্তার পাশে। এরপর সেই বাচ্চাকে কুকুর নিয়ে টানাটানি করলে তাকে রক্ষা করেন ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর নবজাতক এবং মা দুজনকেই চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

২৮ জুন লোহাগাড়ার পদুয়ার মাদ্রাসা সড়কের পাশে রাত ৮টায় নবজাতক কন্যাশিশু পাওয়া যায়। ১৩ জুন আনোয়ারা উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টয়লেটের বাইরে সকাল ৮টায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

২২ মে চট্টগ্রামে নালা থেকে জীবিত একজন এবং ডাস্টবিন থেকে মৃত দুই নবজাতককে উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের কর্নেলহাট এলাকার ডাস্টবিনে পাওয়া যায় আরেক নবজাতক। তার নাম রাখা হয়েছিলো একুশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কুমার নাথ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীরা রাস্তায় থাকার কারণে নানাভাবে ধর্ষণের শিকার হয়। ফলে এসব নবজাতকের পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায় না। আসল অপরাধীরা থেকে যায় অধরা। আর ভারসাম্যহীন ওইসব মহিলারা সন্তানের মায়া না বুঝার কারণে তাদের রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, আবার কিছু কিছু তরুণ-তরুণী আছে যাদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তরুণী গর্ভবতী হয়ে যান। এ সময় বেশিরভাগ প্রেমিক তার প্রেমিকাকে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে সে তরুণী সমাজের কাছে হেয় হওয়ার ভয়ে গর্ভপাত করান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন বলেন, বয়সের সাথে সাথে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের যেমন পরিবর্তন ঘটছে, তেমনি মন মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটছে। মানুষ অনেক কিছু পেতে চায় সে প্রাপ্তির যদি সংযোগ না ঘটে তাহলে মানুষ অন্য পন্থা অবলম্বন করে। যার কারণে মানুষ পরকীয়া করে, ধর্ষণ করে, জোর করে প্রেম নিবেদন করে, প্রেম আদায় করে।

এ অপসংস্কৃতিগুলো তাদের অতিমাত্রায় উৎসাহিত করছে এবং প্রণোদিত হচ্ছে বিধায় এক ধরনের ভারসাম্যহীন বা অল্প বয়সী যাকে যেখানে পাচ্ছে তাদের শিকার করে নিচ্ছে। এসব তারা এতই অসচেতনভাবে করছে যার কারণে তারা কোনও পদ্ধতি ব্যবহার করে না। যাতে করে গর্ভে সন্তান জন্মায়। পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্যহীনরা রাস্তায় সন্তান প্রসব করে। এর ফলে এসব শিশু রাস্তায় পড়ে থাকে বা পথশিশু হিসেবে বেড়ে উঠে।

তিনি আরও বলেন, যারা সুস্থ স্বাভাবিক কিশোর-কিশোরী বা তরুণ- তরুণী তাদের অনেকেই গর্ভপাত করছে। এমন কিছু নির্লজ্জ বেহায়া এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসক আছে যারা বিপরীত পন্থায় গর্ভপাত করে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ সুযোগ পাচ্ছে গর্ভপাত করার। যদি এটি বন্ধ করা যায় তাহলে এসব করার সুযোগ পাবে না।

Categories
আমার ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম দেশ

দায়িত্ব গ্রহণ করল নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি

শাহরিয়ার নাসের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটি। বুধবার সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি প্রফেসর ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মজনুর রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে শিক্ষক সমিতির সদ্য সাবেক কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের পর নব নির্বাচিত কমিটির সকল সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল-আলম ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিনের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন তারা।

শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির নেতৃবন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব এবং শিক্ষকদের সকল নায্য অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকব আমরা। প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ- ২০২০ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়।

Categories
চট্টগ্রাম লাইফ

নিসর্গ আর নির্জনতার খুঁজে ‘ফটিকছড়িতে’ (ভ্রমণ কাহিনী)

জাহিদ হাসান :

ভ্রমণ কাহিনী : পাহাড় টিলায় উঁচু-নিচু বাগান দেখে মনে হয় সবুজ কার্পেট বিছানো আছে। মাঝে মধ্যে কয়েকজন চা শ্রমিককে চা তুলতে দেখা যায়। চা তোলার দৃশ্য দেখতে, দেখতে কানে আসে ঘুঘু কিংবা অন্য পাখির ডাক মাঝে,মাঝে নির্জনতায় মনটা কে আকুল করে ফেলে। লালচে মাটির উপর সবুজ এ বাগানের যেন শেষ নেই। যত গভীরে যাওয়া যায়,ততোই বাগানের সৌন্দর্য মনে অজানা প্রশান্তির আলো  জেগে ওঠে।চা বাগানের নির্জনতা বাগানের ভেতরে চোখে পড়তে পারে। এক স্বর্গীয় আবহ ভরিয়ে দেয় মনপ্রাণ। রাখালদের চা বাগানের বুক চিড়ে পথচলা মন নেচে উঠে। চা বাগানিদের জীবন যাত্রা  যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এসব প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি আরো নজরকাড়া বড় বড় গাছ।বলছি, ফটিকছড়ির কথা চট্টগ্রাম শহর থেকে  প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে ফটিকছড়ি।

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল আটটা ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো। অন্যপাশে বন্ধু অপু ইব্রাহিম বলছে কিরে আজকে ক্যাম্পাসে আসবি না।আমি বললাম আসতেছি তুই থাক। ক্যাম্পাস গিয়ে দেখি বন্ধু আজকে বেশ সেজে গুজে এসেছে জিজ্ঞেস করলাম কিরে আজ কোথাও যাবি।

বললো ফটিকছড়ি যাবো। তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো তুই ও চল।যেই বলা সেই কাজ, কিছুক্ষণ ভেবে আমিও নিজের মনকে প্রস্তুত করলাম খুব একটা মন্দ হয় না। এমনিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের  ক্লাস, এস্যাইনমেন্ট,শর্ট-টার্ম, মিডটার্ম,লংটার্মের প্যারায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। ক্লাস শেষে তাই বেড়িয়ে পরলাম অজানা দূর পাহাড়কে আপন করতে।

যাত্রাপথঃ

চট্টগ্রাম থেকে ফটিকছড়ি গামী বাসযোগে ফটিছড়ি বাসস্টেশন নামলাম (আক্সিজেন থেকে বাসভাড়া মাথাপিছু ৪০ টাকা)। ফটিকছড়ি বাসস্টেশন থেকে লোকাল সিএনজি সার্ভিসে পৌঁছে গেলাম দাঁতমাড়া বাজার(মাথাপিছু ৫০ টাকা)। সেখান থেকে পাঁচমিনিট উত্তরেই চা বাগান।

একঢিলে কয়েক পাখি মারার মত সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন ফটিকছড়িতে অবস্থানরত স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদ শুভ।রাতটা অবশ্য তার বাসায় কাটালাম। সকাল হতেই নাস্তা শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে বেড়িয়ে পড়লাম।তারপর তিন বন্ধুর বাদ ভাঙা উল্লাস আর ঠেকায় কে। সবুজের সাথে মিশে গেলাম আমরা। সারাদিন চোখজুড়ানো এডভেঞ্চার প্লেস,চা-বাগান খাওয়া,দাওয়া আর অসাধারণ সব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করলাম।

Categories
চট্টগ্রাম সারা দেশ

পার্বত্য চুক্তির ২১ বছর, বাস্তবায়ন হয়নি আজও!

 

এম আর মামুন, রাবি প্রতিনিধি:

পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্র ভবনের সামনে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাজশাহী মহানগরী ও রাবি আদিবাসী ছাত্র পরিষদের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এসময় মানববন্ধনে প্রায় অর্ধ-শতাধিক পাহাড়ী শিক্ষার্থী অংশ নেন ।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল চাকমার সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১ বছর হয়েছে। কিন্তু আজও এই চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি। নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যা বেড়েই চলেছে। সরকার সব কিছু দেখার পরও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জনগন আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

সংগঠনটির সহ-সভাপতি অরুণ বিকাশ চাকমার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান, রাবি শাখার সভাপতি রোটেশ তপো প্রমুখ।

Categories
চট্টগ্রাম দেশ

বাজেটের মধ্যেই ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায় সৈকতে

মো.গিয়াস উদ্দিন বাবু,খুবি প্রতিনিধি

ইট-পাথরের বন্দি জীবন যখন রস-কষহীন লাগে, শহরের যান্ত্রিক জীবনের গতির সাথে তাল মেলাতে মেলাতে যখন জীবনের ওপর বিরক্তি নেমে আসে। রোজকার গতানুগতিক জীবনের সাথে সংগ্রাম করতে করতে যখন ক্লান্তি অনুভব করেন তখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিংবা সবান্ধব কিছুদিনের জন্য ঘুরে যেতে পারেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমূদ্র সৈকত সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ।

ভ্রমণ পিপাসুদের আনন্দ দিতে প্রকৃতি এখানে উদার হয়ে তার রূপ-লাবণ্যের সবটাই অবারিত করে রেখেছে । শরীর এবং মনের সুস্থতার জন্য কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের গর্জন এবং নির্মল বায়ু সকল ক্লান্তি-অবসাদ দূর করে আগতকে আনন্দ দিবেই । সৈকতের এক মাথায় সূর্যদয় এবং অপর মাথায় সূর্যাস্ত দর্শনের অভিজ্ঞতা ভ্রমনকারীকে নব আনন্দে মাতাবে ।

এছাড়া বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থানের দর্শন আপনাকে ইতিহাসের সাথে পরিচায় করিয়ে দেবে । তবে সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, সমুদ্রস্নান । আপনি সাতার জানেন কিংবা না জানেন, ভীত কিংবা সাহসী, বারণ কিংবা শাসন-কোন কিছুই আপানে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত রাখতে পারবে না । দূর সমূদ্র থেকে ভেসে আসা উঁচু উঁচু ঢেউ যখন পাড়ে আঁছড়ে পরবে তার ওপর ঝাঁপানোর মজাই আলাদা । সমুদ্রের একবার নামলে ঢেউয়ের সাথে খেলতে খেলতে এতোটাই মজে যাবেন যে হয়তো আর উঠতেই ইচ্ছা করবে না।

কুয়াকাটাতে দেখার মত অনেক কিছুই রয়েছে। সৈকতের কাছেই রয়েছে একটা বৌদ্ধ মন্দির যা কিনা আপনার মন কেড়ে নেবে। এই বৌদ্ধ মন্দিরের পাশেই রয়েছে কুয়াকাটার সেই বিখ্যাত কুয়াটি। পাশেই আছে রাখাইন মার্কেট। কেনাকাটা যা করার এখান থেকেই করতে পারেন। এখানে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর সব তাতের কাজ। আর বার্মিজ আঁচারের পশরা। সৈকত থেকে ৬ কিমি দূরে মিছরি পাড়াতে রয়েছে ৩ তলা সমপরিমাণ উচ্চতার আরেক বৌদ্ধ মূর্তি।

সৈকতের ঝাউ বন থেকে কিছু দূরেই রয়েছে কুয়াকাটা ইকো পার্ক। খুব-ই নয়নাভিরাম পার্ক। এছাড়া কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে সাগরের মাঝখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন কিছু সময়ের জন্য। সাথে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মত দেখে আসতে পারবেন সুন্দরবনের কিছু অংশ।

সূর্য উদয় হল সাগর পাড়ের আরেক সৌন্দর্য। যারা কুয়াকাটা আসেন তারা কেউ-ই এই দৃশ্যটা মিস করেন না। সূর্য উদয় দেখতে হলে আপনাকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং যেতে হবে সৈকত থেকে কিছুটা দূরে কাউয়ার চর নামক জায়গায়। যেতে পারেন মোটর সাইকেলে করে। সূর্য উদয় দেখার দৃশ্য যে একবার দেখেছে সে কখনো ভুলতে পারবে না। এছাড়া কাউয়ার চরে দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়ার ছুটোছুটি। কুয়াকাটাতে রয়েছে জেলে পল্লী। সৈকতের পশ্চিম দিকেও চাইলে দেখে আসতে পারেন।

আর সমুদ্রের পানি যদি গায়ে লাগাতে চান, তাহলে বিনা দ্বিধায় নেমে পড়তে পারেন সাগরের পানিতে। এখানে কক্সবাজারের মত চোরাবালি টাইপের কিছু নেই। আর কোনো চোরা খাদও নেই। সৈকতে যারা বাইক চালাতে চান তাদের জন্যও আছে সুখবর। কিলোমিটার হিসেবে বাইক ভাড়া পাওয়া যায়। প্রতি কিলো ১০ টাকা। সবশেষে প্রিয়জনের সাথে এক মনে দেখে নেবেন সূর্য অস্তের সেই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য।

কবির ভাষায় বলতে গেলে ‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি’- প্রকৃতির কাছাকাছি আসুন । জীবনের মানে জানুন । জীবন যখন দুর্বিষহ লাগবে তখন চলে আসুন কুয়াকাটায় । কথা দিচ্ছি, সব ভুলে যাবেন, মন আবার নতুনভাবে জাগবে । ও হ্যা ! কুয়াকাটায় যেতে হলে আপনাকে বরিশালের বুকের ওপর দিয়েই যেতে হবে । আর আমি বরিশালের ওপরেই থাকি । আসা কিংবা যাওয়ার পথে এক কাপ চা নিশ্চয়ই খেতে যাবেন । সকল প্রকৃতিপ্রেমিকদের জন্য শুভ কামনা রইলো

Categories
চট্টগ্রাম

একদিনেই ঘুরে আসুন সুন্দরবনের নয়নাভিরাম করমজল পর্যটন কেন্দ্র

মো.গিয়াস উদ্দিন বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

সুন্দরবনের আকর্ষণীয় যে কয়েকটি স্থান রয়েছে এদের মধ্যে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক পর্যটক আসে। পশুর নদীর তীরে ৩০.০ হেক্টর আয়তনের আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনের মডেল হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

মোংলা ফেরিঘাট থেকে করমজলের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার, জাহাজ বা ট্রলারে পৌঁছে যাবেন ঘণ্টা দেড়েক এর মধ্যে। ঘাটে নামার আগেই নদীর পাড় দিয়ে বানরের খেলা দৌড়ঝাঁপ আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। পশুরের ঘোলা পানির মৃদু ঢেউ নৌযানের সঙ্গে দুলিয়ে দেবে আপনার মনটাকেও।
ঘাটে নামতেই পাবেন বন বিভাগের কার্যালয়, সুন্দরবনের বড় একটা মানচিত্র। চোখ বুলিয়ে এগোতেই দেখতে পাবেন, দেয়ালে, গাছে বসে আসে, ঝুলছে অনেক রেসাস বানর, কৌতূহলী দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে জানাচ্ছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। তবে বানর থেকে সাবধান, আপনাকে জ্বালাতে তারা কিন্তু আছে সব জায়গাতেই। এর সঙ্গেই লাগোয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, দেয়ালে আবদ্ধ হরিণের গায়ে হাত বুলিয়ে সামনে এগোলেই পাবেন ডলফিন শেড। এখানে দেওয়া বিভিন্ন ডলফিনের ছবি ও তথ্য থেকে ডলফিন সম্পর্কে পাবেন বিস্তর ধারণা।
একটি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়াও এখানে আছে হরিণ ও কুমির প্রজনন ও লালন পালন কেন্দ্র। এটি।যারা একদিনেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য আদর্শ জায়গা এই করমজল পর্যটন কেন্দ্র।মংলা হতে করমজল লঞ্চ/ ট্রলারে মাত্র ৪৫ মিনিটের পথ হওয়ায় দিনে যেয়ে দিনে ফিরে আসার সুবিধা এবং ভ্রমনে তুলনামূলক কম খরচের কারনে অধিকাংশ পর্যটকেরই সুন্দরবন ভ্রমণে প্রথম পছন্দের স্থানি করমজল।
পর্যটন কেন্দ্রটির শুরুতেই বিশাল আকৃতির মানচিত্র সুন্দরবন সম্পর্কে সাম্যক ধারণা দেবে। মানচিত্র পেছনে ফেলে বনের মধ্যে দক্ষিণে চলে গেছে আঁকাবাঁকা কাঠের তৈরি হাঁটা পথ। পথের নাম মাঙ্কি ট্রেইল।
এই নামের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় ট্রেইলে পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই। পুরো ট্রেইল জুড়েই দেখা মিলবে সুন্দরবনের অন্যতম বাসিন্দা রেসাস বানরের।
পথের দুই ধারে ঘন জঙ্গল। এ বনে বাইন গাছের সংখ্যা বেশি। কাঠের পথ কিছু দূর যাওয়ার পরে হাতের বাঁয়ে শাখা পথ গিয়ে থেমেছে পশুরের তীরে। শেষ মাথায় নদীর তীরে বেঞ্চ পাতানো ছাউনি।
মূল পথটি আরও প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে ছোট খালের পাড়ে থেমেছে। পথের মাথায় এখানেও আরও একটি শেইড। সেখান থেকে আবারও পশ্চিম দিকে কাঠের ট্রেইলটি চলে গেছে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের পাশে। এই ট্রেইলের মাঝামাঝি জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ বুরুজ। এর চূড়ায় উঠলে করমজলের চারপাশটা ভালো করে দেখা যায়।
কাঠের তৈরি ট্রেইলের একেবারে শেষ প্রান্তে কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সেখান থেকে সামান্য পশ্চিম দিকে হরিণ ও কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র। সামনেই ছোট ছোট অনেকগুলো চৌবাচ্চা। কোনটিতে ডিম ফুটে বের হওয়া কুমির ছানা, কোনটিতে মাঝারি আকৃতির আবার কোনটিতে আরও একটু বড় বয়সের লোনা জলের কুমিরের বাচ্চা।
একেবারে দক্ষিণ পাশে দেয়াল ঘেরা বড় পুকুরে আছে রোমিও, জুলিয়েট আর পিলপিল। জেলেদের জালে ধরা পড়া এই তিন লোনা পানির কুমিরকে ২০০২ সালে সুন্দরবনের করমজলে আনা হয়। রোমিও-জুলিয়েটের বয়স এখন ২৩। এই জুটি প্রজননক্ষম হয় ২০০৫ সালে।
করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি ওইল্ড লাইফ ব্রিডিং সেন্টার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। এখানে বন্য প্রানী হাসপাতালও আছে। ১২৫টি ফরেষ্ট অফিসের অধীন জব্দকৃত অসুস্থ বন্য প্রাণীর চিকিৎসা দেওয়া হয় এখানে। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমির প্রজনন কেন্দ্রে প্রজননক্ষম ২টি কুমির (রোমিও এবং জুলিয়েট) দ্বারা চলছে কুমিরের বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। পৃথিবীর মোট ২৬ প্রজাতীর কুমিরের মধ্যে বাংলাদেশে ৩ প্রজাতীর কুমির ছিল। ২টি প্রজাতী বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে কেবলমাত্র বিলুপ্ত প্রায় ১টি প্রজাতী সল্ট ওয়াটার ক্রোকোডাইল পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপায়ে কুমির উৎপাদনে মূল অবদান তাদেরই। জুলিয়েট আকারে রোমিওর চেয়ে সামান্য ছোট। লোনা পানির এই প্রজাতির কুমির আশি থেকে একশো বছর বাঁচে।এর পাশেই চোখে পড়বে চিড়িয়াখানার মতো খাচায় ঘেরা খোলা জায়গা। ভেতরে চিত্রা হরিণ। খাঁচার ভেতরে পশ্চিম কোণে ছোট আরেকটি খাঁচা। ভেতরে রয়েছে কয়েকটি রেসাস বানর।

করমজল গিয়ে পর্যটকগন সহজেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিষ্টেম সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ধিদ ও বন্য প্রাণীর সাথে পরিচিত হতে পারেন।পরিচিতির সুবিধার্থে এখানে বিদ্যমান গাছের সাথে নামফলক যুক্ত করে রাখা আছে।

Categories
চট্টগ্রাম রাজনীতি

ইভিএম ব্যবহারে ভোট কারচুপি ও দখলের কোন সুযোগ নেই: ইসি সচিব

ঢাকা, শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ভোটারদের অভ্যস্ত করতে হবে। নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি হওয়ায় এটি সবার কাছে ভীতিকর মনে হতে পারে। তা দূর করতে হবে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট কারচুপি ও দখলের কোন সুযোগ নেই। স্মার্ট কার্ড, ভোটার কার্ড ও ভোটারের উপস্থিতি ছাড়া ভোট দিতে পারবে না।’

তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ইভিএম প্রদর্শনী মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। ‘পরবর্তীতে কুমিল্লা, নরসিংদী, টাঙ্গাইলসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা শহরে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। কোন অসুবিধে হয়নি। ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে দ্রæত সময়ের মধ্যে ভোট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেকে ইভিএম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। নতুন প্রযুক্তিতে আসলেই প্রথম দিকে ভয় কাজ করে। প্রথম দিকে মোবাইল ব্যবহারে নানা সমস্যা দেখা দিলেও, বর্তমানে মোবাইল ছাড়া প্রায় সবাই অচল। কেননা, মোবাইল দ্রæত যোগাযোগের এখন অন্যতম বাহন। আমাদের মধ্যে আস্থার অভাব, পরষ্পরের মধ্যে সন্দেহ আছে।

আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ) সংশোধন হলে জাতীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে শহর এলাকায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।

পরে ইসি সচিব ফিতা কেটে ইভিএম প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ইভিএম মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।

Categories
খবর চট্টগ্রাম

সীতাকুন্ডকে দেশের মধ্যে রোলমডেল হিসেবে উপহার দিবো:মোহাম্মদ ইমরান

ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মোঃ নুরউদ্দীন খান (সাগর), চট্টগ্রাম: বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান সকল উন্নয়ন এবং সেবা দেখে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অনুপ্রানিত হয়ে সীতাকুন্ডকে দেশের  মধ্যে রোলমডেল হিসেবে উপহার দিতে চান আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমরান।

সমাজসেবা, সামাজিক কাজ, মানবসেবা, ক্রীড়ামুদি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতাসহ প্রত্যেক ভালো কাজে রয়েছে তার সহযোগিতার হাত।

 

১৯৬৪ সালে সীতাকুÐের সলিমপুরে এই সমাজ সেবকের জন্ম। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। লেখাপড়া শেষ করে শুরু করেন ব্যবসা। বর্তমানে ব্যবসায়িক জীবনে দারুণ সফল তিনি। বিগত ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে শিপিং এবং শিপ ব্রেকিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন ।

 

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরের জীবনে তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছেন যার মাধ্যমে সীতাকুÐ তথা জাতির মুখ বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার  বাংলা তৈরির স্বপ্ন সেই শৈশব থেকেই তাকে আন্দলিত করেছেন । জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চেতনার আওয়ামীলীগ তার প্রেরণার বাতিঘর এবং তার পথচলার শক্তি। সময়ের জনপ্রিয় নেতা এম আর সিদ্দিকির সীতাকুন্ড, বর্তমানে উপযুক্ত নেতৃত্ব শূন্য।

 

অশিক্ষা আর অপরাধ প্রবণতা সীতাকুÐকে কুরে কুরে খাচ্ছে। যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেমিক সরকার উন্নয়নের জন্য ব্যাপক বরাদ্দ এবং কর্ম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও ব্যবসা ক্ষেত্রে সফল এবং বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শে উত্তরসুরি হিসেবে চুপ করে বসে থাকা তার বিবেকের কাছে সমীচীন বলে মনে হচ্ছে না বিধায় আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, সীতাকুÐবাসীর দোয়া এবং সহযোগিতা উনার প্রয়োজন, যা ছাড়া জনগনের সেবায় নি:স্বার্থভাবে ঝাপিয়ে পড়ার যে প্রতিজ্ঞা তিনি করেছেন তা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সোনার মানুষ প্রয়োজন, জনগন তাকে সেই সোনার মানুষ হিসাবে পাবেন, কথায় নয় কাজেও।

ব্যক্তিগত জীবনে ৪সন্তানের জনক মোহাম্মদ ইমরান। সামাজিক জীবনে তিনি চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং, চট্টগ্রাম মা ও জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিপিং ব্রেকার্স এন্ড রিসাইকেলার্স এবং বাংলাদেশ  শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন ইত্যাদি সংগঠন সমূহের  সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Categories
আমার কৃষক চট্টগ্রাম

যে মাঠে লবণের চাষ হয় সেই মাঠেই সোনালী ধানের বাম্পার ফলন

ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ফসলের মাঠে এখন থোকায় থোকায় দুলছে আউশ ধান। এই মৌসুমে আউশের ভাল ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

 

যে মাঠে লবণের চাষ হয় সেই মাঠেই সোনালী ধান। তাও বাম্পার ফলন। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এখন দেখা মিলে চোখ জুড়ানো এমন দৃশ্যের।

 

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাঁশখালী উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমিতে প্রতিবছর লবণ উৎপাদন হয়। লবণ উৎপাদন শেষে আবহাওয়া পরিবর্তনে অতি বৃষ্টির কারণে লবণ সহিষ্ণু এলাকায় ব্রি-ধান ৪৭ ও ব্রি-ধান ৩৯, জাতের ধান রোপণ করেন কৃষকরা।

 

অসময়ে উৎপাদিত এই মৌসুমকে ব্রাউশ ধান হিসাবে চিহ্নিত করেছেন কৃষিবিদরা। আউশ ও আমনের মাঝামাঝি সময়ে গত ৩ বছর ধরে বাঁশখালীতে এই ধান উৎপাদন হচ্ছে।

 

আমন ও আউশ মৌসুম ছাড়াও নতুনভাবে ফসলি জমিতে জুন-জুলাই মাসে এ ধান বীজ রোপণ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেন। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাঁশখালীতে অসময়ের এই ধানকাটা শুরু হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলোতে নতুন জাতের এ ধান কাটা শুরু হওয়ায় খুশির আমেজ বইছে।

 

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বাঁশখালী উপজেলায় ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে জুন মাস থেকে ৬৫০ হেক্টর জমিতে ব্রাউশ ধান চারা রোপণ শুরু হয়। উপকূলীয় ইউনিয়ন গন্ডামারা, ছনুয়া, শেখেরখিল, সরল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কৃষকরা ব্রি-ধান ৪৭ ও ব্রি-ধান ৩৯ ধান রোপণ করে থাকেন। এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নেও এ ধান চাষাবাদ করে থাকেন কৃষকরা। প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে আউশ ধান রোপণ এবং জুলাই-আগস্ট মাসে আমন ধান চাষাবাদ শুরু করলেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সবজি মৌসুমে জুন মাসেই দুই জাতের ধান রোপণ করে ব্যাপক সফলতা পাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

 

গত তিন বছর ধরেই লবণ চাষের জমিতে বাঁশখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ব্রাউশ নামের ধানের চারা রোপণ করে চাষিরা অক্টোবর থেকেই ফলন ঘরে তুলতে শুরু করেন।

 

স্থানীয় কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে অসময়ে লবণ মৌসুমের পর কৃষকরা ধান চারা রোপণে উৎসাহী হয়ে পড়েছে। নতুন জাতের ব্রি-ধান ৪৭ রোপণ করার সুযোগ পেয়ে সার, বিষ প্রয়োগ করে ব্রাউশ ধান ফলাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফিরেছে। ফিরেছে স্বচ্ছলতাও।