Categories
বিনোদন

ঈদে নজর কেড়েছে গল্পনির্ভর নাটক

করোনার কারণে এবারের ঈদে অন্য সময়ের মতো চার-পাঁচশো নাটক তৈরি না হলেও দেড়শর মতো নতুন নাটক প্রচারিত হয়েছে। দুই ডজন নন-ফিকশন অনুষ্ঠানও ছিল ঈদ আয়োজনে। কিন্তু সব নাটক বা অনুষ্ঠান দর্শকের সমান সাড়া পায় না। ঈদের সাত দিনের আয়োজন শেষে বোঝা যাচ্ছে, এ ঈদের সেরা কাজ কোনগুলো।

নাটকের মধ্যে ইউটিউব ভিউয়ে অপূর্ব, তাহসান, মেহজাবিন, তিশা এগিয়ে থাকলেও প্রশংসিত নাটকের তালিকায় তাদের কম নাটকই আছে। সবচেয়ে বেশি ইউটিউব ভিউয়ের নাটক মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘প্রাণপ্রিয়’ (অপূর্ব ওমেহজাবিন চৌধুরী), কাজল আরেফিন অমির ‘সিঙ্গেল’ (তাহসান খান, শায়লা সাবি), মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘অ্যা বিটার লাভ স্টোরি’ (তাহসান খান, সাফা কবির)। এগুলো প্রতিটি এক মিলিয়নের বেশি ভিউ হয়েছে। এবার ভিন্নধর্মী চরিত্র করে প্রশংসা এবং দর্শক সাড়া দুই-ই মিলেছে আফরান নিশোর ভাগ্যে। মেধাবী অভিনেত্রী অপি করিম ও রোমানা রশিদ ঈশিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। নতুনদের মধ্যে ইয়াশরোহান, ইরফান সাজ্জাদ, সাফা কবির, সাবিলা নূরের কাজ প্রশংসিত হয়েছে। এবার গল্পনির্ভর নাটকেই আগ্রহ বেশি। দর্শক সাধারণত এ ধরনের নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেও এবার চিত্র একটু ভিন্ন। গৎবাঁধা রোমান্টিক ও কমেডি নাটকের ভিউ হয়তো মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, কিন্তু ভালো গল্পের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের নাটকও দেখেছে দর্শক।সেগুলোর পাঁচ-সাত লাখ ভিউ হয়েছে ইউটিউবে।
বিষয়টি নিয়ে বেশ খুশি শোবিজ অঙ্গনের মানুষরা। অনেকেই বলেছেন, নাটকের সোনালি অতীতে যেমন রুচিশীল গল্পই সাড়া জাগাত, তেমনি ধীরে ধীরে হয়তো ভালো নাটকেরই জয় হবে সর্বস্তরে। এ ঈদে সর্বাধিক প্রশংসিত নাটকের মধ্যে রয়েছে আশফাক নিপুণের পরিচালনায় লাইভ টেকনোলজির দুই নাটক ‘ভিকটিম’ (অপি করিম, আফরান নিশো, সাফা কবির) ও ‘ইতি, মা’ (ঈশিতা, আফরান নিশো, আবীর মির্জা, শিল্পীসরকার অপু), মাহমুদুর রহমান হিমির ‘কেন?’ (ঈশিতা, আফরান নিশো, মেহজাবিন, তৌসিফ মাহবুব), শাফায়েত মনসুর রানার ‘মশাল’ (ইয়াশ রোহান, মাসুম বাশার), ‘প্রেসার কুকার’ (ইরফান সাজ্জাদ, অপর্ণা ঘোষ) ও ‘দ্য লাস্ট অর্ডার’ (অ্যালেন শুভ্র, লুৎফর রহমান জর্জ), প্রীতি দত্তের ‘মানুষের গল্প’ (ইরফান সাজ্জাদ), মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘শহর ছেড়ে পরানপুর’ (নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইয়াশ রোহান), অনিমেষ আইচের ‘টু লেট’ (আশনা হাবিব ভাবনা), কলকাতার আড্ডা টাইমসে প্রকাশিত ‘হাইজি¦ন’ (ইরফান সাজ্জাদ), সঞ্চয় সমদ্দরের ‘অপরূপা’ (অপূর্ব ও মেহজাবিন), রাফাত মজুমদার রিংকুর ‘বোধ’ (মোশাররফ করিম, রুনা খান, আশীষখন্দকার, তাসনুভা তিশা), সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘গিরগিটি’ (মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুঁই)।

ঈদের পছন্দের কাজ সম্পর্কে জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘আমি বেশকিছু কাজ দেখেছি। এবারের কাজ বেশ ভালো হয়েছে। আমি ইউটিউব ভিউ দেখে কোনোদিন নাটক দেখি না। মূলত যে নাটকগুলো দেখি তা কেউ না কেউ দেখার জন্য বলে। এজন্যভালো মানের কাজই দেখা হয়। আমার কাছে আশফাক নিপুণের “ভিকটিম” নাটকটি খুব ভালো লেগেছে। সে কথা তাকে ফোন করে জানিয়েছি। আমি সবসময় চেষ্টা করি, যারা ভালো কাজ করেন তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করতে। তাহলে তারা আরও বেশি উৎসাহ পায় ভালো কাজ করতে। ’ জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘আমার খুব বেশি কাজ দেখা হয়নি। যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আশফাক নিপুণের “ভিকটিম ”টেলিছবিটি। একেবারেই এ সময়ের গল্প বলেছেন তিনি। শিল্পীরাও দুর্দান্ত কাজ করেছেন। যৌন হেনস্তার বিষয়টি নিয়ে আরও কাজ হওয়া উচিত। ’

এ সময়ে ছোট পর্দার অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী মেহজাবিন। তিনি বলেন, ‘নিজের কাজই বেশি দেখা হয়েছে। কোন কাজটি দর্শক পছন্দ করছে তা জানার জন্যই কাজগুলো দেখেছি। এতে ভবিষ্যতে গল্প নির্বাচনে সুবিধা হয়। আমি তো দর্শকের জন্যই কাজ করি। তাই তারা কী পছন্দ করছে তা জানা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেদিক থেকে “প্রাণপ্রিয়” নাটকটির সাড়াসবচেয়ে ভালো। “অপরূপা” নাটকের চরিত্রটিও আমার প্রিয়। এতে আমার মুখ এসিডদগ্ধ। হিমির “কেন?” টেলিছবিটির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছি। অনেক কলিগ আমাকে ফোনে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈশিতা আপু, নিশো, তৌসিফও খুব ভালো অভিনয় করেছেন। অন্যদের কাজের মধ্যে “ভিকটিম” আমার খুব ভালো লেগেছে। অপি করিম, নিশো, সাফা দুর্দান্ত কাজ করেছেন। ’অভিনেত্রী রুনা খান বলেন, ‘আমি এখন ঢাকার বাইরে। তাই খুব বেশি কাজ দেখিনি। ইউটিউবে কিছু কাজ দেখেছি। আমার অভিনীত “বোধ” নাটকটির জন্য বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এটি সিরিয়াস গল্পের নাটক। রিংকু ভালো নির্মাণ করেছেন। কাজ করার সময়েই মনে হচ্ছিল ভালো কিছু হবে। আমি পেশাদার অভিনেতা। সবার সঙ্গে সব ধরনের কাজ করতে হয়। কিন্তু মোশাররফ করিমের সঙ্গে সিরিয়াস গল্পের নাটক করতেই বেশি ভালোলাগে। তার সঙ্গে জনপ্রিয় হাসির নাটক “যমজ”-এ কাজ করেছি। কিন্তু “বোধ”,সিরিয়াস গল্পে তার জুড়ি নেই। অন্যদের কাজের মধ্যে আশফাক নিপুণের দুটি কাজ খুব ভালো লেগেছে। “ভিকটিম” ও “ইতি, মা” টেলিছবি দুটিতে অপি ও ঈশিতা আপু দুর্দান্ত। ’

নির্মাতা দীপংকর দীপন বলেন, ‘এবার ঈদের যে কাজগুলো দেখেছি তার মধ্যে “ভিকটিম” আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। আমি এ নিয়ে ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছি। মনে হয়েছে নতুন ধারার গল্প বলার সূচনা হয়েছে টেলিছবিটির মাধ্যমে।
সূত্র : দেশ রুপান্তর

Categories
বিনোদন

আইসিইউতে সানাই

আইসিইউতে সানাই

গাজীপুর জার্নাল ডেস্কঃ

করোনায় আক্রান্ত মডেল-অভিনেত্রী সানাই মাহবুবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে তাকে।

আজ দুপুরে সানাইয়ের বড় ভাবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সানাইয়ের অবস্থা কিছুটা খারাপ হওয়ায় তাকে চট্রগ্রামের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। সবাই সানাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে সানাই জানিয়েছিলেন, দুই সপ্তাহ আগে তার শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়।

আতঙ্ক নিয়েই নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। অবশেষে বুধবার ফলাফল পজেটিভ আসে।

Categories
বিনোদন

ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন কুদ্দুস বয়াতি

দেশের জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কর্তৃক নির্মিত বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। এরপর অসংখ্য গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। লোকসঙ্গীতের এই মহাতারকা বর্তমানে ভালো নেই। করোনার কারণে সংকটের মধ্যে সময় পার করছেন।

রবিবার বিকেলে মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে কুদ্দুস বয়াতি জানান, ঋণ করে তার সংসার চালাতে হচ্ছে। করুণ এই সময়ে কেউ তার খোঁজও নেইনি।

দুঃখের সুরে তিনি বলেন, ‘খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। আজকে ২০০ টাকা ছিল। ঐটা দিয়ে বাজার করেছি। কালকে কীভাবে বাজার করবো জানি না। আবার হয়তো কারও কাছ থেকে চাইতে হবে। এভাবে আর কয়দিন চলতে পারবো জানি না।’

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র অনুদান পেয়েছিলেন কুদ্দুস বয়াতি। তিনি বলেন, ‘তিন মাস পর পর সাড়ে ১৭ হাজার টাকা পাই। করোনার আগে সেই টাকা তুলেছি। এখন টাকা শেষ, তাই ধার করতে হচ্ছে ।’

এছাড়া, গত বছর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কুদ্দুস বয়াতি। ফুসফুসে সমস্যা ছিল তার । পরবর্তীতিতে উন্নত চিকিৎসা নিতে তাকে ভারত যেতে হয়। চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচও হয় উল্লেখ করে কুদ্দুস বয়াতি বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে ধার করেছি। শোধও করেছি। আল্লাহর রহমতে এখন মোটামোটি সুস্থ। সবকিছু ভালো চলছিল। কিন্তু করোনার কারণে আবার ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেলাম।’

বর্তমানে পরিবার নিয়ে দিয়াবাড়িতে আছেন কুদ্দুস বয়াতি। তার পরিবারে ৬ জন সদস্য। তার বৃদ্ধ মাও তাদের সঙ্গে থাকেন।

উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে প্রায় তিন বছর পর কুদ্দুস বয়াতি সর্বশেষ করোনা সচেতনতায় ‘জাইনা চলেন, মাইনা চলেন’ শিরোনামের গান করেন। গানটি মানুষকে সচেতন করতে বেশ ভূমিকা রাখছে।

Categories
বিনোদন

আমি সত্যিই তাহসানকে খুব পছন্দ করি : সৃজিত

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তাহসানকে ভীষণ পছন্দ করার কথাও জানান তিনি।

সৃজিত বলেন, ‘সত্যিই তাহসান আমার থেকে অনেক গুণী মানুষ। এত সুন্দর গান গান, এত সুন্দর পিয়ানো বাজান, এত সুন্দর ছবিতে অভিনয় করেন। ডেফিনেটলি আমি খুবই লাকি যে এ রকম একটা কম্পারিজন উঠেছে, সেখানে তাহসান আবার রিপ্লাইও দিয়েছেন।’

কলকাতার জনপ্রিয় এই পরিচালক বলেন, ‘আমাকে বলতেই হবে যে, তাহসান একজন পুরোপুরি ভদ্রলোক। ওনার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। এই পরশু দিনই আমাদের দেখা হলো যখন তাহসান এসেছিল আইরাকে নিয়ে বেড়াতে। তো খুব কথা হলো, আড্ডাও হলো। আমার এত ভালো লাগল।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিথিলা এবং তাহসানের ভালো মানুষ হওয়ার ফসলই বোধ হয় আইরা। আমি জানি না এই সম্পর্কটা বাংলাদেশের মানুষ বুঝবেন নাকি বুঝবেন না। তবে আমি সত্যিই তাহসানকে খুব পছন্দ করি।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাহসানের সাবেক স্ত্রী দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিথিলাকে বিয়ে করেন সৃজিত। সেই বিয়েতে তাহসান-মিথিলার মেয়ে আইরাও উপস্থিত ছিল।

এর আগে ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট তাহসানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয়। তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে।

Categories
বিনোদন

মিথিলা আমাকে আব্বু বলে ডাকেন : সৃজিত

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জুটি সৃজিত-মিথিলা । বিয়ের পরেই সমালোচিত হতে হয় তাদের । বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, মডেল ও উপস্থাপক মিথিলাকে বিয়ে করেছেন ভারতের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি।

এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । আর এতেই ফের আলোচনায় সৃজিত-মিথিলিা । ভিডিওতে দেখা যায় , সৃজিত বলেন মিথিলিা আমাকে তিনটি নামে ডাকেন । একটি হল সৃজিত একটা বো ও অন্যটি হল আব্বু ।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট। তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। তাঁদের একমাত্র সন্তান আইরা এখন মিথিলার কাছেই আছে। অন্যদিকে সৃজিতের ‘রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস’ ছিল সিঙ্গেল।

মিথিলা এখন ব্র্যাকে কর্মরত আছেন। তিনি ব্র্যাকের আরলি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বিভাগের প্রধান।

Categories
বিনোদন

ভালবাসা দিবসে জেমস আসছে মেহেদি ফুড কোর্টে

নতুন সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পয়লা ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনে হচ্ছে এবারের ভালোবাসা দিবস। ইংরেজি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পয়লা ফাল্গুন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। সংশোধনের পর একই দিনে পড়ছে বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস।

বসন্ত ও ভালবাসা দিবস উপলক্ষে মেহেদি ফুড কোর্ট আয়োজন করছে দুই দিন ব্যাপী বসন্তের ছোঁয়ায় ভালবাসা উৎসব -২০২০ ।

অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন নগর বাউলি খ্যাত দেশের নাম্বার-১ ব্র্যান্ড সংগীত শিল্পী জেমস । ইতোমধ্য গান প্রেমিক মানুষের মধ্য উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারী ৩০০ ফীট রাস্তা সংলগ্ন মেহেদি ফুড কোর্টে আয়োজিত হবে এই উৎসব ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে গান গায়বেন জনপ্রিয় শিল্পী এস.আই.টুটুল । থাকবেন জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী শাকিব খান ।

Categories
বিনোদন

তামিল নায়ক বিজয়ের বাড়িতে আয়কর বিভাগ: উদ্ধার ৭৭ কোটি!

কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে তামিল সুপারস্টার অভিনেতা বিজয়ের বাড়িতে আয়কর দফতরের হানা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। হানা দিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা (ভারতীয় রুপি)!

সর্বশেষ ‘বিগিল’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল বিজয়কে। তামিল ইন্ডাস্ট্রির সব থেকে বড় হিট ছিল এই সিনেমাটি। আরও জানা গেছে, অফিসাররা ৩৮টি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে, তাদের তালিকায় রয়েছেন এই অভিনেতা, প্রযোজক এবং আরও অনেকেই। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর ফাঁকির পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে গল্প বলছে অন্য কথা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বিজয়ের ‘মার্শাল’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। আর সেখানেই নোট বাতিলের বিষয়টি দেখানো হয় এবং তা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। ছবির সংলাপে নোট বাতিল নিয়ে কটাক্ষ করায় বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। জানা যায়, সেই সংলাপগুলো বাদ দেওয়ারও কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনও কিছুই করা হয়নি।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Categories
বিনোদন

মারজুক রাসেলের কবি ও গীতিকার হয়ে উঠার গল্প

এই মানুষগুলো এত কষ্ট করেছেন বলেই আজ এতদুর।বিশাল লেখা,তবে পড়তে গিয়ে মনে হবে গল্প,কিন্তু সত্যি।পুরো লেখার মধ্যে একটা লাইন আমার মনে দাগ কেটেছে তা হলো “মারজুক গীতিকার হতে চেয়েছিলো”।এই লেখাটায় যতটা আনন্দ,তারচেয়েও তীব্র কষ্ট লুকিয়ে আছে।কারন এদেশের গীতিকারদের অবস্থা এখনো সেই আগের মতই বেহাল দশা।অনেকেই ঠিক গীতিকার হয়ে উঠতে পারেননি কঠিন বাস্তবতায়।

যাই হোক আমার কথা শুনে লাভ নাই।বরং বিখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন মারজুক রাসেল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন।সেটাই পড়ুন।

“বাহির বলে দূরে থাকুক ভিতর বলে আসুক না

ঢাকা থেকে আমরা লেখক-শিল্পী-সাংবাদিকদের বড়সড় একটা গ্রুপ বিরোধীদলের নেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়া গিয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। সাল ১৯৯৪। উঠেছি গোপালগঞ্জ সার্কিট হাউজে। কবি ফারুক মাহমুদ আর আমি একটি কক্ষে উঠেছি। কবি রফিক আজাদ,রশীদ হায়দার পাশের কক্ষে।পরে আমাদের কক্ষে অতিথি হিশেবে এসে উঠলেন মোহন রায়হান আর মুহম্মদ সামাদ। তারা দেরিতে পৌঁছার কারণে সার্কিট হাউসে রুম পাচ্ছিলেন না। আমি আর ফারুক মাহমুদ স্বাগত জানালাম তাদের,আমাদের কক্ষেই।

দু’রাতেরই তো ব্যাপার। সমস্যা একটাই,আমাদের কক্ষে দুটো সিঙ্গেল বেড। এক বেডে দু’জনে ঠাঁসাঠাঁসি পরিস্থিতি হয়। তাই মোহন রায়হানের জন্যে বেডটা ছেড়ে দিয়ে তোষকটা মাটিতে পেতে আমি ঘুমুলাম। আমি এই টুঙ্গিপাড়ায় আগেও এসেছি নেত্রীর সঙ্গে। কিন্তু মোহন রায়হান এই প্রথম। মোহন ভাইকে সম্মান জানাতেই এই ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধুর বিরোধীতাকারী অনেকেই তখন গোপালগঞ্জে আসছেন। বঙ্গবন্ধুর সমাধি জেয়ারত করছেন। (অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অর্থাৎ সিক স্যার এবং অভিনেতা মামুনুর রশীদের নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে।)

বিকেলে অনুষ্ঠান মঞ্চের অদূরে টং দোকানে চা খাচ্ছি। টিংটিঙে স্বাস্থ্যের লম্বা একটা ছেলে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। চায়ের কাপ হাতে আমি বসেছিলাম বেঞ্চিতে। ছেলেটা রুল টানা একটা খাতা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো—একটা অটোগ্রাফ প্লিজ! কাপটা বেঞ্চিতে রেখে খাতাটা হাতে নিয়ে লেখার আগে জিজ্ঞেস করলাম—নাম কী তোমার। খুব স্পষ্ট উচ্চারণে ছেলেটা বললো—মার্জুক রাসেল। আমি বললাম—বাহ্ বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়ায় আরেকটা রাসেল আছে?
ছেলেটা বিনয়ের হাসি হাসলো। আমি বললাম—রাসেল তো বুঝলাম কিন্তু তার আগের শব্দটা আরেকবার বলো মিয়া। পারলে বানানটা বইলা দেও।

ছেলেটা হাসলো। তারপর বললো— ম এ আকার, ব-এ শুন্য র, বর্গিয় জ-এ হৃস্যুকার ক। মারজুক।
গোপালগঞ্জের দ্বিতীয় রাসেলকে শুভেচ্ছা বা এই জাতীয় কিছু একটা লিখে আমি খাতাটা ওকে ফেরত দিয়েছিলাম। এরপর ছেলেটা রফিক আজাদ এবং রশীদ হায়দারের অটোগ্রাফ নিলো। লক্ষ্য করলাম অটোগ্রাফ নেয়া শেষ হলেও ছেলেটা চলে গেলো না। বরং আমার কাছাকাছি অবস্থান করলো। ওকে চা খেতে বললে রাজি হলো সহজেই। ওর চোখে মুগ্ধতা মেশানো কৌতূহল। আমার দিকে একটু ঝুঁকে ছেলেটা বললো—’…ইদানিং সিনেমায় গান লিখে গীতিকার/হয়েছে সে, তাতে কী?/এই নিয়ে ভীতি কার?
আমি সত্যি সত্যি চমকালাম খানিকটা— আরে মিয়া এইটা তো আমার ছড়ার লাইন!
—জ্বি,ইত্তেফাকে আপনি নিজেকে নিয়ে ছড়া লিখছিলেন।

আলাপে আলাপে জানলাম ছেলেটা একজন কবি। এবং,গীতিকার হবার স্বপ্ন তার বহুদিনের। আমি সিনেমার জন্যে তখন কয়েকটা গান লিখেছিলাম। আমার ছড়ায় সেই কথাটাই এসেছিলো। নিজের স্বপ্ন ও আগ্রহের বিষয়টা ওখানে আছে বলে আমার ছড়াটা তার মুখস্ত হয়ে গেছে। ছেলেটা আমাদের কাছাকাছিই থাকলো পুরোটা বিকেল এবং সন্ধ্যা। রাতে খাওয়ার পালা শেষ করে রুমে ফিরে আসার সময় দেখি ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে সার্কিট হাউসের লবিতে। আমাকে দেখে সামনে এলো। আমি ওকে সঙ্গে নিয়ে আমার কক্ষে এলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফারুক মাহমুদ এলেন রফিক আজাদকে সঙ্গে নিয়ে।

পাশের কক্ষটি রফিক ভাইয়ের হলেও তিনি আমাদের কক্ষে চলে এসেছেন আড্ডা দিতে। আমাদের জম্পেশ আড্ডায় শামিল হয়ে মারজুককে খুব আনন্দিত মনে হলো। রাত বাড়তেই রফিক ভাইয়ের পানাকাঙ্খা জাগ্রত হলো। তিনি ফারুক ভাইকে তাগাদা দিলেন—ও ফারুক ব্যবস্থা করো। ফারুক ভাই বললেন—রফিক ভাই টাকা আমি দিতে রাজি কিন্তু আমি এই এলাকার কিছুই চিনি না জানি না। জিনিস কোথায় পাবো? আমাদের এতোক্ষণের আড্ডায় রফিক আজাদের জানা হয়ে গেছে যে আমাদের আড্ডায় শামিল হওয়া ছেলেটা স্থানীয় তরুণ কবি। রফিক ভাই খুব সুমিষ্ট ভঙ্গি ও উচ্চারণে ছেলেটাকে বললেন—বেটা তুমি কবি হতে চাও?

ছেলেটা মাথা নাড়ালো—জ্বি রফিক ভাই।
—তাহলে যাও, সিনিয়র কবির সেবা করো। কবি হতে হলে সিনিয়র কবির সেবা করতে হয়। আমি তাহলে তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেবো বেটা, তুমি একদিন কবি হবেই হবে।

অসাধ্য সাধন করলো ছেলেটা। গভীর রাতে কবিসেবার নিমিত্তে কেমন করে যেনো জিনিস যোগাড় করে ফেললো! আনন্দে আপ্লুত রফিক ভাই সত্যি সত্যি ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন—যা বেটা তুই কবি হবিই। তোকে ঠ্যাকায় এমন সাধ্য কারো নেই।

সেই রাতে দারুণ আড্ডা হলো। জিনিসের খাদক রফিক আজাদ আর ফারুক মাহমুদ। আমি আর ছেলেটা পান ও ফান সঙ্গী। এক ফাঁকে, ঢাকায় আমাকে কোথায় পাওয়া যাবে জানতে চেয়েছিলো ছেলেটা। আমি বলেছিলাম—বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এলেই আমাকে পাবে।

এরপর আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম। এবং যথারীতি ভুলে গেলাম ছেলেটাকে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনটি আমরা মহা আনন্দ ও ব্যস্ততায় কাটাই। সায়ীদ স্যারের আমন্ত্রণে দিনব্যাপি দেশের বিশিষ্টজনদের আগমনে কেন্দ্রের মাঠ লবি ছাদ থাকে উৎসব মুখর। দিনভর চলতে থাকে খানাখাদ্যি। আইটেম হিশেবে থাকে মোয়া, মুড়ি,নারকেলের নাড়ু,সন্দেশ,নকশি পিঠা,ভাঁপা পিঠা আর চায়ের অফুরান যোগান। ‘যখন খুশি,যতোক্ষণ খুশি এবং যতোবার খুশি’ খাওয়ার কথাটা বিশেষ ভাবে মুদ্রিত থাকে নিমন্ত্রণপত্রে। মানুষ ‘আসছে যাচ্ছে খাচ্ছে/আসছে খাচ্ছে যাচ্ছে’ টাইপের একটা হুল্লোড় চলতে থাকে সেদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি অতিথিদের দেখভালের দায়িত্বও পালন করি কিছুটা,আমীরুল মাযহারদের সঙ্গে।

সেদিন,১৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব চলছিলো কেন্দ্র প্রাঙ্গনে। শেষ বিকেলের যাই যাই রোদে দেখলাম কেন্দ্র কম্পাউন্ডে লাজুক ভঙ্গিতে পায়ে পায়ে টুঙ্গীপাড়ায় দেখা সেই কবি ছেলেটা ঢুকলো। আমি মাঠের ঘাসে ডেকোরেটর থেকে আনা ফোল্ডিং চেয়ারে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম বন্ধু ও অতিথিদের সঙ্গে। আমাকে দেখে উচ্ছ্বসিত ছেলেটা এগিয়ে এলো—ভাই আমি মারজুক। টুঙ্গিপাড়ায় আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। আমি বললাম—কবে আইলা? বসো বসো। ছেলেটা বসলো। আমি উঠে গিয়ে নাড়ু সন্দেশ মুড়ি মোয়া আর গরম ভাঁপা পিঠার একটা প্লেট ওর জন্যে নিয়ে এলাম—খাও মিয়া। আমি একটু ব্যস্ত আছি। তুমি খাইতে থাকো।

ছেলেটা খুব আগ্রহ নিয়ে মোয়া-পিঠা-নাড়ু খাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে দেখি ওর প্লেট সাফা। শুন্য প্লেট হাতে একা একা বসে আছে ছেলেটা। আমি জিজ্ঞেস করলাম—আরেক প্লেট খাইবা নাকি? ছেলেটা সম্মতিসূচক মাথা নাড়লো। আমি দ্বিতীয় একটা প্লেট নিয়ে এলাম ওর জন্যে। আমার কঠিন ব্যস্ততার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ভিড়ের মধ্যেই এক ফাঁকে বিদায় নিলো ছেলেটা। তারপর অনেক দিন আর দেখি না ছেলেটাকে। ভাবলাম আবারো হয়তো ফিরে গেছে গোপালগঞ্জে তার চিরচেনা এলাকায়।

এর কিছুদিন পর ছেলেটা এক বিকেলে এসে জানালো—কবি ফারুক মাহমুদ ওর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এলিফ্যান্ট রোডের একটা প্রেসে। প্রেসটা চালান ফারুক মাহমুদ। মারজুক রাতে ঘুমায় ওখানে। আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায় ঢাকা শহরের লেখক-কবিদের আড্ডায়, পত্রিকা অফিসে। আমি বললাম—আমিও তো এলিফ্যান্ট রোডেই থাকি। ভালোই হলো। তোমার সঙ্গে নিয়মিত দেখা হবে।

সন্ধ্যায় আজিজ মার্কেটে ফারুক মাহমুদ মারজুককে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। মারজুকের মাথায় চে গুয়েবাড়ার লাল ক্যাপ। ফারুক ভাই ঠাট্টা করে মারজুককে ‘বাংলা কবিতার নাইট গার্ড’বলেন। মারজুক সেটা হাসিমুখেই মেনে নেয়। ফারুক ভাইয়ের ঠাট্টায় কিছুটা তাচ্ছিল্য থাকলেও মারজুক প্রতিবাদ করে না। আফটার অল বড় ভাই তিনি। মারজুকের আশ্রয়দাতা।

আমাদের এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় মারজুকের আগমন মোটামুটি নিয়মিতই বলা চলে। ছুটির দিন সকালে মারজুক চলে আসে আমার কাছে। কুশনে মাথা রেখে ড্রয়িং রুমের কার্পেটে শুয়ে শুয়ে আমি গান শুনি ফুল ভল্যুমে। আমার মাথার পাশে বসে থাকে মারজুক। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ তখন হিট গান। এই গানের সুর ছন্দ আমার পছন্দের। মারজুকও দেখলাম গানটার ফ্যান। গান শুনি আর চোখ বন্ধ রেখেই ওর কথা শুনি। ওর জীবনের অনেক গল্প করে সে আমার সঙ্গে। জেরিন নামের একটা মেয়ের গল্প বলে সে আমাকে। মেয়েটাকে সে ভালোবাসতো। এইসবের পাশাপাশি মারজুক তার বিশ্বষ স্বপ্নের কথাটাও প্রায়ই বলে। গান লিখতে চায় সে। গীতিকার হতে চায় সে। বিখ্যাত গীতিকার। এক পর্যায়ে মারজুক আমার ‘ছোটদের কাগজ’-এর প্রুফ দেখার দায়িত্ব নিলো। এতে সামান্য কিছু বাড়তি উপার্জন হবে। ঢাকায় ওর চলাচল কিছুটা ছন্দ পাবে। আমার সঙ্গে ওর খাতিরটা মোটামুটি জমজমাট।

এক সকালে ওকে নিয়ে বাংলা বাজার গেলাম আমার প্রকাশকদের কাছ থেকে রয়্যালিটির টাকা আনতে। স্টুডেন্ট ওয়েজের লিয়াকত উল্লাহ হিশাব নিকাশ করে আমার সমুদয় প্রাপ্য নগদে তুলে দিলেন। টাকার অংকটা খুব ছোট ছিলো না। স্টুডেন্ট ওয়েজ থেকে বেড়িয়ে বিস্মিত মারজুকের মহাবিস্মিত উচ্চারণ—’ভাই, ছড়া লেইখ্যা আপ্নে এতো ট্যাকা পান!’ আমি হাসলাম। চলো তাইলে আরো কিছু যোগাড় করি।

আরো দুজনের কাছ থেকে নগদ টাকা নিলাম। বিদ্যাপ্রকাশের মজিবর রহমান খোকা টাকা দিতে গড়িমসি করছিলেন। কিন্তু আমি কিছুটা অনমনীয় থাকলাম। আগে থেকে বলা থাকলেও তিনি বললেন পরশু আসেন রিটন ভাই। আমি বললাম—পরশু না। আজকে আসার কথা ছিলো, আজকেই নেবো। পরশু আসার টাইম নাই। কিছুটা মন খারাপ করে খোকা ভাই আমাকে একটা চেক লিখে দিলেন এক সপ্তাহ পরের তারিখ দিয়ে। চেকটা মানিব্যাগে ঢুকিয়ে খোকা ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাংলা বাজারের রাস্তায় যখন হাঁটছি মারজুক তখন বিস্ময়ের মহাসাগরে নিমজ্জিত—’ভাই, আপ্নে দেখি মারাত্মক জিনিস! ক্যাশ না থাকলে চেক-এ ধরেন! আহা কী দিলেন!’ আমি বললাম—হ মিয়া। মারজুক বললো—ট্যাকা তো ভালোই পাইলেন।
—হ। চলো তোমারে খাওয়াই। বিউটি বোর্ডিং এ খাইছো কুনুদিন?
মারজুক খুশি হয়ে ওঠে—বিউটি বোর্ডিং? শামসুর রাহমান শহীদ কাদরীদের আড্ডার জন্যে বিখ্যাত সেই বিউটি বোর্ডিং?
আমি বললাম—হ মিয়া। বিউটি বোর্ডিং-এর খাওন-দাওনও হেবি টেস্টি।

বিউটি বোর্ডিং-এ আমরা দুজন মন ভরে দ্বিপ্রাহরিক আহার সমাপন করলাম। ওদের সর্ষে ইলিশটা মারজুককে বিমোহিত করলো দেখলাম। রিকশায় ফিরতে ফিরতে মারজুক কতো যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলো। বললো—আজকের দিনের কথা ভুলুমনা ভাই। কী দিলেন! আহা।

ছোটদের কাগজের সুবাদে মারজুকের সঙ্গে আমার সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা-রাত্রি যোগাযোগ থাকতো। ওর অন্য কোনো কাজ না থাকলে আমার সঙ্গে ছায়ার মতো লেপ্টে থাকতো সে। এক সন্ধ্যায় হাতিরপুল বাজারে গেছি স্ত্রীর লেখা লিস্টি হাতে। মারজুক আমার সঙ্গী যথারীতি। সবজি অঞ্চলে গিয়ে মারজুক কার যেনো একটা কবিতার পঙ্‌ক্তি আওড়ায়—কাহিনিটা এরকম,সবজি বাজারে গেলে কবির মনে হয় যেনো বা সে কোনো গ্রামে চলে এসেছে। গ্রোসারির দোকান থেকে ডাল-চিনি-লবণ-গরম মসল্লা ইত্যাদি নিতে নিতে লক্ষ্য করলাম মারজুক খুব আগ্রহ নিয়ে দোকানের জিনিসপত্রের দিকে ওর কৌতূহলী দৃষ্টির ক্যামেরাটা প্যান করছে। বললাম—কিনবা কিছু? লাগবো কিছু তোমার?

—ন্নাহ্‌ কিছু লাগবো না ভাই।

আমি দোকানিকে দাম মেটাচ্ছি এমন সময় মারজুক বললো—তাইলে রিটন ভাই আমারে একটা শ্যাম্পু কিন্না দ্যান। বিজ্ঞাপনের সুবাদে তখনকার একটা বিখ্যাত ব্রান্ডের শ্যাম্পু নিলো সে। ওর রুচি আমাকে মুগ্ধ করলো।

এইরকম দিনযাপনের এক সন্ধ্যায় বন্ধু কবি আবু হাসান শাহরিয়ার এবং মারজুক রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় এলাম আমি। আমার স্ত্রী শার্লি চা পরিবেশনের ফাঁকে আমাকে বললো আমি যেনো ওদের রাতের খাবার খেয়ে যেতে বলি। আমরা গল্প করতে করতে শার্লি খাবার সার্ভ করে ফেললো। ডায়নিং টেবিলে আমরা খেতে বসেছি। অন্যান্য আইটেমকে পরাভূত করে বিশাল একটা সিরামিক বাটিতে গরুর ভুনা মাংশ তার সম্মোহনী সুবাস ছড়াচ্ছে। মারজুক দেখলাম খুশিতে টইটম্বুর—আহা গরুর মাংশ! ফাটাফাটি! এইরকম দুর্দান্ত গরুর মাংশ তো পুরা বাটি আমি একলাই মাইরা দিতে পারুম ওস্তাদ!

শাহরিয়ার বললো—তাই নাকি? এর পুরোটা তুমি একাই খেতে পারবে?
মারজুক বললো—পারুম মানে! এইটা ধরেন আমার জন্যে ব্যাপার না।
আমি বললাম—এইখানে মিনিমাম চারজনের খাওয়ার উপযোগী মাংশ আছে মিয়া। তুমি একলা যদি সাঁটাইতে পারো তো সাঁটাও। আমি আমার ভাগটা তোমার লাইগা উৎসর্গ করলাম।

শাহরিয়ারও তাই করলো। এবং আমাদের অবাক করে দিয়ে বাটির পুরো মাংস হাপিশ করে দিলো মারজুক! ভরপেট গোমাংশ খাওয়া শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে মারজুক ওর গরুপ্রিয়তার কাহিনি বলতে শুরু করলো। ওর একটা গল্প ছিলো এরকম—এলিফ্যান্ট রোডে গাউসিয়ার কাছাকাছি ফারুক ভাইয়ের প্রেস থিকা বস সকাল এগারোটা সাড়ে এগারোটায় বাইরাইছি। রাস্তার ধারের একটা হোটেলের সামনে দিয়া যাইতাছি। বাবুর্চি হালায় বিরাট ডেকচিতে রানতাছে গরুর মাংস। গন্ধটা নাকে আইসা ইমুন একটা কিক দিলো যে আমার সবকিছু গেলো আউলা হইয়া। আমি গিয়া বইয়া পড়লাম। দুইটা পরোটা আর এক প্লেট গরু সাঁটাইলাম। এমুন টেস্টি যে কী কমু বস দিলাম আরেক প্লেটের অর্ডার। লগে আরো কিছু পরোটা। দুই প্লেট মাইরা বিল দিতে গিয়া দেখি সত্তুর ট্যাকার মামলা। আমার একদিনের বাজেট ওস্তাদ এক বেলাতেই ফিনিস হইয়া গেলো গা। ইমুন হারামি শালার এই গরুর মাংস। আর আমি বস এই জিনিস হেভি টানতে পারি।

ঘটনা শুনে এবং মারজুকের গরুর মাংস খাওয়া দেখে শার্লি একই সঙ্গে মুগ্ধ এবং বেদনার্ত হয়ে উঠলো। ওরা চলে যাবার পর শার্লি আমাকে বললো—এখন থেকে বাড়িতে গরুর মাংস রান্না হলে আমি তোকে ফোনে জানিয়ে দেবো। তুই ফেরার সময় মারজুককে নিয়ে আসবি। আহারে ছেলেটা বাবা মাকে ছেড়ে একলা একা এই শহরে থাকে। গরুর মাংস এতোটা প্রিয় ওর!

এরপর, বেশ কয়েকবারই মারজুককে নিয়ে আসতে হয়েছে আমার। উপলক্ষ্য সেই গরুর মাংস। দিন যায়। মারজুকের চেহারা পোশাক আর চুলের স্টাইলে পরিবর্তন আসতে থাকে।
মারজুক দিন দিন কী রকম দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠলো। ওকে আর যখন তখন পাওয়া যায় না। কোথায় গেলো ছেলেটা!

একদিন সকালে আমার বাসায় এলো মারজুক। ওর চোখে মুখে উচ্ছ্বাস। মকসুদে মঞ্জিলে পৌঁছে গেছে সে। এখন, ওর দিবানিশির অধিকাংশ সময় সে থাকে জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পী জেমসের সঙ্গে। বেশ ক’টা গানও নাকি লিখেছে সে জেমসের জন্যে। তার মধ্যে ‘মীরাবাঈ’ নাকি খুবই পপুলারিটি পেয়েছে। আপ্নে শোনেন নাই বস? আমি বললাম—এখনো শুনি নাই তবে শুনবো অবশ্যই। জেমসের আগে তুমিই একটু শোনাইয়া যাও,দেখি শোনোন যায় কী না। কোনো রকম সংকোচ না করেই কার্পেটে বসে ঝাঁকড়া চুল দুলিয়ে মারজুক গাইলো—’ঝাঁকা নাকা ঝাঁকা নাকা ঝাঁকা নাকা দেহ দোলা না/ মীরা বাঈ…।’ জেমসের গান এবং পানসঙ্গী মারজুক আমাদের কাছ থেকে খানিকটা দূরে সরে গেলো। বলা চলে নগর বাউল জেমস কেড়ে নিলো আমাদের মারজুককে।

দিন যায়। মারজুকের চেহারা পোশাক আর চুলের স্টাইলে আরো ব্যাপক পরিবর্তন আসতে থাকে। নিয়তির খপ্পরে পড়ে দেশ থেকে ছিটকে পড়ি আমি। থিতু হই কানাডায়। বাংলাদেশে আমার প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আর দেখা হয় না আমার। দেখা হয় না মারজুকের সঙ্গেও। ইতোমধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘বেচেলর’ নামের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বিখ্যাত হয়ে ওঠে মারজুক। এই ছবিতে ওর লেখা গানও জনপ্রিয়তা পায়। ওর কারণে ছবিটা যোগাড় করে দেখি। গোপালগঞ্জের সহজ সরল শাদাসিধে মারজুকের পনিটেল দেখে আমি অভিভূত হই। আমি খবর পাই—স্যাটেলাইট টিভিগুলোর নাটকেও মারজুক অভিনয় করে। পরিচালনা করে। এক কথায় স্টার হয়ে ওঠে আমাদের মারজুক। ঢাকা থেকে মারজুকের পরিচিত আমার এক বন্ধু কানাডায় আসেন স্থায়ীভাবে বসবাসের সন্ধানে। আমি মারজুকের কথা জানতে চাই। বন্ধুটি বলে—সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না যেই ছেলে, শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে পারে না যেই ছেলে, সেই ছেলের বিরাট ছবি ঢাকার বিলবোর্ডে ঝুলতাছে!

বুঝতে অসুবিধে হলো না মারজুকের উত্থান বা প্রতিষ্ঠায় আমার বন্ধুটি কিঞ্চিৎ ঈর্ষান্বিত।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে গিয়ে মারজুকের সঙ্গে দেখা হলো। ততোদিনে টিশার্ট জিন্স হুডি আর ক্যাপ ওর নৈমিত্তিক ব্রান্ডেড পোশাক হয়ে উঠেছে। মারজুক আমার সঙ্গে দেখা করতে চ্যানেল আইয়ের সিদ্ধেশ্বরী কার্যালয়ে এলো। তখন দুপুর। নামাজের আজান হলো। পুরো বিল্ডিং-এ আজানের সম্প্রচার হয় লাউড স্পিকারে। মারজুক কিছুটা হতচকিত—’রিটন ভাই মসজিদে আইয়া পড়লাম নাকি!’

বইমেলায় মারজুকের নতুন বই বেরিয়েছে। বাংলা একাডেমিতে চ্যানেল আইয়ের লাইভ অনুষ্ঠানে এলো মারজুক বইটা নিয়ে। আমি ওর সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। ওকে আপনি সম্বোধন করে আমি প্রশ্ন করতেই অসম্মতিসূচক মাথা নেড়ে প্রতিবাদ করে উঠলো মারজুক—আরে এইটা কিছু হইলো? আমারে আপনি কইরা বলেন কেনো? আমি বললাম—একজন কবিকে সম্মান জানিয়ে আমি আপনি সম্বোধন করছি। মারজুক তাতেও রাজি হয় না—না রিটন ভাই আপ্নে আমারে আপনি করে বলতেই পারেন না। এইটা যায় না। অতঃপর আমাকে ফিরে আসতেই হলো তুমিতে। এই হলো মারজুক। আমাদের মারজুক।

মারজুকের লেখা একটা গান আমার খুবই পছন্দের। ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ ছবির ‘বাহির বলে দূরে থাকুক ভিতর বলে আসুক না’ গানটির গীতিকার মারজুক। মারজুক গীতিকার হতে চেয়েছিলো। হয়েছে। সেই হিশেবে মারজুক একজন সফল প্রতিষ্ঠিত তরুণ এখন। সাংস্কৃতিক অঙ্গণে প্রতিষ্ঠা পাবার জন্যে কী অমানুষিক সংগ্রাম আর কষ্টের মধ্যেই না যেতে হয়েছে ছেলেটাকে!

একটা ঘটনা বলি।
নব্বুই-এর দশকের শেষ দিকে এক বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে আমার সঙ্গে নানান প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলো ছেলেটা। কিছুক্ষণ আগে কষে একটা ধমক দিয়েছিলাম ওকে। সম্ভবত প্রুফ দেখা বিষয়ে ওর অমনোযোগ এবং দায়িত্বহীনতা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছিলো। মারজুক তো আমার ছোটভাইই। ওকে তো আমি ধমক একটা দিতেই পারি। কিন্তু ধমক পরবর্তী ছেলেটার জলটলমল আবেগ আমাকেও কাবু করে ফেললো। মারজুক বললো—‘টুঙ্গিপাড়ায় আপনারে রিটন ভাই আমার এতোই ভালো লাগছিলো যে আমি গোপালগঞ্জ থিকা ফাইনালি ঢাকা চইলা আসলে বিপদে পড়লে আপনের কাছেই আইসা দাঁড়ামু এইরকম একটা চিন্তা আমার মাথার মইধ্যে ছিলো। কবি হইতে হইলে ঢাকায় আইতেই হইবো। চান্স খুঁজতেছিলাম। ফ্যামিলির লগে লাগলো ক্যাঁচাল। আইসা পড়লাম ঢাকায়। দুইদিনেই পকেটের ট্যাকা শেষ।

যাই কই আর খাই কি? দুইদিন আনালে বিনালে থাইকা ক্ষুধায় তো কাতর হইয়া পড়লাম। বিকালে বিশ্বাস করেন ভাই মাথাটা ইমুন চক্কর দিলো যে আমি তো মাটিতে বইস্যা পড়লাম। চোখে আন্ধার দেখি। খাইতে হইবো। কিন্তু কে খাওয়াইবো! আঁতকা বস আপ্নের কথা মনে হইলো। আপ্নে ঠিকানা কইছিলেন বাংলা মোটর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। তো চইলা আসলাম আপ্নের উদ্দেশ্যে। আইসা দেখি ব্যাপক ঘটনা। বিখ্যাত অখ্যাত মানুষে ভর্তি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। খিদায় মাথাটা আরেকবার চক্কর খাইলো। পৃথিবীটা দুইল্লা উঠলো। যদি আপ্নেরে না পাই! কিন্তু বস আপ্নেরে পাইয়া গেলাম কয়েক সেকেন্ডের মইধ্যেই। আপ্নে বন্ধুবান্ধব লইয়া ব্যস্ত আছিলেন। আমারে চিনবেন কিনা সেইটাও একটা টেনশন ছিলো।

কিন্তু আমারে আপনে চিনলেন তো চিনলেনই কিছু কওনের আগেই আমারে চেয়ারে বসাইয়া নিজের হাতে খাওনের প্লেট আগাইয়া দিলেন। আপ্নে খেয়াল করেন নাই আমি কী রকম ভুবুক্ষের মতন খাইতেছিলাম। বিশ্বাস করেন এতোই ক্ষুধার্ত ছিলাম যে এক প্লেটে আমার পেট ভরে নাই। আমি আপ্নের কাছে আরেক প্লেট চামু ভাবতে ভাবতেই দেখি আপ্নে আইসা জিগাইলেন—আরেক প্লেট খাইবা নি? আমি হ কইলাম। আপ্নে আরেক প্লেট আইন্না দিলেন আমার হাতে। তারপর চইল্লা গেলেন। বিশ্বাস করেন ভাই আমার চোখ ঝাপসা হইয়া যাইতেছিলো। আমি লুকাইয়া কানতেছিলাম। আপ্নে কেম্নে বুঝলেন যে আমার খিদা লাগছে!’

প্রিয় মারজুক, গত কয়েকদিন ধরে তোমার কথা খুব মনে পড়ছিলো। কেমন আছো তুমি? দুদিন আগে তোমার জন্যে লিওনার্দ কোহেন-এর ‘লাইভ ইন লন্ডন’ কনসার্টের ডিভিডিটা কিনে এনেছি। আমি তো জানি এটা পেলে আনন্দে একটা শিশুর মতোই নেচে উঠবে তুমি।

Categories
বিনোদন

বিয়ে করে পপির দায়িত্ব নিতে চান হিরো আলম!

‘বস্তির রানী সুরিয়া’ খ্যাত চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন বলে সম্প্রতি চাউর হয় দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে। সৎ ও যোগ্য পাত্র পেলে চলতি বছরই তিনি বিয়ের পিড়িতে বসবেন বলেও জানান সংবাদকর্মীদের। এমন আলোচনার মধ্যে হিরো আলমের একটি মন্তব্য অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। প্রায় এক বছর আগের ওই ভিডিওতে হিরো আলমকে বলতে শোনা যায়, তিনি পপিকে বিয়ে করতে চান।

শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সঞ্চালনায় ইউটিউবের জন্য নির্মিত একটি অনুষ্ঠানে পপিকে বিয়ের ইঙ্গিত দেন হিরো আলম। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক নায়িকা আছেন। এখনো তারা বিয়ে করব করব করছেন। কিন্তু বয়স তো পেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ এরা বিয়ে করছেন না। কোনো নায়িকার যদি দায়িত্ব নিতে হয় তাহলে নিতেই পারি।

এরপর সঞ্চালক জয় হিরো আলমকে প্রশ্ন করেন, এ রকম কোনো নায়িকার নাম আপনি বলতে পারবেন যিনি আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আপনি রাজি হয়ে যাবেন?

উত্তরে হিরো আলম বলেন, পপির কথাই বলি। খালি বিয়ে করব, বিয়ে করব বলে যাচ্ছেন। এখনো বিয়ে করছেন না। এ রকম অনেক নায়িকা আছেন যারা হয়তো বিয়ে করার জন্য রাজি হবেন। কলকাতা থেকেও অনেকে প্রস্তাব দেয়।

প্রসঙ্গত, চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি ১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের কুলি সিনেমার মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা, গঙ্গাযাত্রা ছায়াছবিতে অভিনয়ের করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন পপি। আর তারপরই হিরো আলমের ওই ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

Categories
বিনোদন

গীতিকার কবির বকুলকে গ্রেপ্তার করতে বাসায় পুলিশ

গীতিকার ও সাংবাদিক কবির বকুলকে গ্রেপ্তার করতে তার বাসায় গিয়েছিল পুলিশ। ১৮ জানুয়ারি, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তার স্ত্রী কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নি।

ওই পোস্টে মুন্নি লিখেন, ‘বাসায় পুলিশ এসেছে কবির বকুলকে গ্রেপ্তার করতে। আমার বাচ্চাগুলো শক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে!! জীবনে এমন অনুভূতির সামনে পড়তে হবে-তা কখনো কল্পনাও করিনি!!’

কবির বকুলের বাসায় পুলিশ যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তার বাসায় পুলিশের একটি টিম গিয়েছিল। কিন্ত তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি।’

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নাইমুল আবরার। এ ঘটনায় শুরু থেকেই আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, পত্রিকাটির সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন আবরারের বাবা মুজিবুর রহমান। পরে গত ১৬ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- কবির বকুল, শুভাশিষ প্রামানিক শুভ, মহিতুল আলম পাভেল, শাহপরান তুষার, জসিম উদ্দিন অপু, মোশারফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হায়দার।