Categories
ময়মনসিংহ সারা দেশ

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ৬ দিন ধরে নিখোঁজ: মামলা নিতে পুলিশের অনীহা

ময়মনসিংহের CBST তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম সুরভি নিখোঁজ। গত ৬ দিনেও তাঁর সন্ধান মেলেনি।

এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করে। ভিকটিমের পিতা ইদ্রিস আলি থানায় কয়েক দফা গিয়ে ফিরে এসেছে মামলা নেয়নি পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার শহরের কাচিঝুলীর ইদ্রীস আলির মেয়ে সুমাইয়া ইসলাম সুরভি নিখোঁজ হন।

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার ওসি , বলেন, আপনারা বাসায় যান মেয়ে ভালো আছে।ওসির এমন কথায় তাজ্জব বনে যান ভিক্টিমের অভিভাবকরা। ওসি আরো বলেন, মেয়ে হয়তো প্রেম করে পালিয়ে গেছে কয়দিন পরই ফিরে আসবে। মামলা করে কি হবে?
অভিযোগ রয়েছে, শহরের আউটার স্টেডিয়াম এলাকার রায়হান নামের এক যুবক ফুসলিয়ে ভিক্টিমকে অপহরণ করে।

মেয়ের বাবা বলেন , আমার মেয়ে কোথায় আছে কিভাবে আছে । আমার মেয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবে প্রশাসনের কাছে এই সহযোগিতা কামনা করি । তিনি বলেন , আউটার স্টেডিয়ামের হেলাল উদ্দিন বাবুলের পুত্র রায়হান তার মেয়েকে অপহরণ করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি , দ্যা টাইমস অফ বাংলাদেশ কে জানান, মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে । তার বিয়ে হয়েছে ,ভাল আছে । কোথায় আছে , এমন প্রশ্ন করলে তিনি তা এরিয়ে যান ।

তবে তিনি এর আগে , প্রতিবেদককে জানান, তিনি জিডি নিয়েছে তদন্ত করা হচ্ছে । কিন্তু পরবর্তীতে তার কিছুই করা হয় নি। এই রিপোর্ট লেখা অবধি তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি ।

Categories
ময়মনসিংহ সারা দেশ

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে

কাউছার আহমেদ:ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে,ভোটারদের মাঝে অনেক উৎসাহ লক্ষ করা গেছে।

ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।এই মুহূর্তে ময়মনসিংহ একটি উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

৩৩টি ওয়ার্ডে ১২৭টি ভোট কেন্দ্রে ৮৩০টি বুথে ইভিএম প্রদ্ধতিতে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮ জন ভোটার ভোট প্রদান করছেন।

প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সব ধরণের নিরাপত্তা বিধানে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে সব ধরণের প্রস্তুতি।

প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১০জন আনসার সদস্য ও তিনজন করে পুলিশ সদস্য রয়েছে।

পাশাপাশি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের নিরাপত্তা ২২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩৩টি মোবাইল টিম (প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে), পুলিশের ৩৩টি মোবাইল টিম (প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে) ও ১১টি স্টাইকিং দল রয়েছে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও তিনজন অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও নির্বাচনকালীন সকল ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সাজা প্রদানে ১৬জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচনে ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪২জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেয়র নির্বাচিত হন।

Categories
নির্বাচন ময়মনসিংহ সারা দেশ

ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন কাল, ভোট হবে ইভিএমে

কাউছার আহমেদ:ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যদিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন সুষ্ঠ্র ও সফল ভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি প্রহন করেছে নির্বাচন কমিশন। সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

৩৩টি ওয়ার্ডে ১২৭টি ভোট কেন্দ্রে ৮৩০টি বুথে ইভিএম প্রদ্ধতিতে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৮ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন।

রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সব ধরণের নিরাপত্তা বিধানে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১০জন আনসার সদস্য ও তিনজন করে পুলিশ সদস্য থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের নিরাপত্তা ২২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩৩টি মোবাইল টিম (প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে), পুলিশের ৩৩টি মোবাইল টিম (প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে) ও ১১টি স্টাইকিং দল থাকবে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও তিনজন অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও নির্বাচনকালীন সকল ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সাজা প্রদানে ১৬জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
নির্বাচনে ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪২জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মেয়র পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেয়র নির্বাচিত হন।

Categories
জাতীয় ময়মনসিংহ

ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির দায়িত্ব প্রার্থীদের : প্রধান নির্বাচন কমিশনার

কাউছার আহমেদ:ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, বড় একটি রজিনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আমরা মাইকিং করিয়েছি, প্রশিক্ষণ দিয়েছি ভোটাদের কেন্দ্রে আসার অনুরোধ করি। কিন্তু সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচন গ্রহনের লক্ষ্যে আমরা একটি সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি করি। কিন্তু কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করানোর দায়িত্ব প্রার্থীদের।

সোমবার দুপুরে শহরের সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ময়মনসিংহে গত উপজেলা নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হওয়ায় কেউ জাল ভোট দিতে পারবে না। ভোটার তার ভোট সে দিতে পারবে। ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে সে পরিস্থিতিও আমরা সৃষ্টি করেছি।

ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার এ এইচ এম লোকমানের সভাপতিত্বে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন অনু বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার মো. সাইদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগের রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক ড.সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও মোঃ আলীমুজ্জামান।

Categories
অনুষ্ঠান খবর বিনোদন ময়মনসিংহ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী ভারতের সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ইয়ুথ ফেস্টিভালে

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২তম “সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ইয়ুথ ফেস্টিভাল “। এবারে ভেনু নির্ধারিত হয়েছে পন্ডিত রবি শঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় ।

 

১০ টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ইয়ুথ ফেস্টিভালে অংশ গ্রহন করবে । প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২/৩ জন লাইট ভোকাল গ্রুপ, ক্লাসিকাল ড্যান্স, ফোক ড্যান্স, ডিবেট, ইলেকিউশন, পোষ্টার মেকিং এ অংশ গ্রহন করতে পারবেন ।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী ভারতের সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ইয়ুথ ফেস্টিভালে

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর ড. মুশররাত শবনমের নেতৃত্বে সংগীত বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষের মৌমিতা বিশ্বাস,২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের কানিজ খন্দকার মিতু এবং থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ অপূর্ব চক্রবর্তী অংশ গ্রহন করবেন ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় হজরত শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ।

 

মোঃ হুমায়ুন কবির সরকার (টুটুল), জাককানইবি প্রতিনিধি,

Categories
খবর ময়মনসিংহ রাজনীতি

‘গোলন্দাজ বাহিনী’তে পিষ্ট গফরগাঁও আওয়ামী লীগ।

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে দুই মাস ধরে চিকিৎসাধীন ফারুক মিয়া। তাঁর দুই পা ভেঙে তিন টুকরা করা হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ফারুক নিজের সুস্থতার চেয়ে বাড়ি ফেরা নিয়ে বেশি শঙ্কায়। রড, হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পিটুনির পর স্থানীয় সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজের অনুসারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, বাড়ি ফিরলে আবার পেটানো হবে।

৪০ বছর বয়সী ফারুকও সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। ফারুক মিয়া বলেন, তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনের অনুসারী। গত ১২ আগস্ট রাতে তাঁকে পেটানোর কারণ ছিল, তিনি ময়মনসিংহ শহর থেকে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার গফরগাঁও নিয়ে গিয়েছিলেন। দলীয় নেতা মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজের রাজনৈতিক বিরোধ আছে।

ফারুকের ঘটনার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে যেন এক ভীতসন্ত্রস্ত নিপীড়িত জনপদের সন্ধান পাওয়া গেল। দলের সাংসদের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এমন কয়েক পরিবার গফরগাঁও ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। অত্যাচার, নির্যাতনের পরও যাঁরা নিজের ভিটেমাটির মায়া কাটাতে পারেননি, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন; নাগরিক হিসেবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এই ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছেন, কিন্তু প্রতিকার পাননি।

গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সাংসদের নির্যাতনে এলাকাছাড়া মানুষের সংখ্যা সহস্রাধিক বলে দাবি করেছেন। নামঠিকানা চাইলে তাঁরা ১০০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নম্বর দেন। তাদের মধ্যে ৩২টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রথম আলো। এসব পরিবারের সবাই গফরগাঁও ছাড়তে বাধ্য হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নির্যাতিত ব্যক্তিদের মধ্যে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা আছেন।

ফাহমি গোলন্দাজ ছিলেন গফরগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান। জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি সাংসদ হন। তাঁর বাবা আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ ১৯৯১২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন। সে সময় দেশজুড়ে যে কজন সাংসদগডফাদারবলে পরিচিতি পেয়েছিলেন, আলতাফ গোলন্দাজ ছিলেন তাঁদের একজন। তাঁর মৃত্যুর পর ওই আসনে সাংসদ হন আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তখন ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের নির্যাতননিপীড়নেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন বলে দাবি করেছেন গফরগাঁওয়ের দলীয় নেতাকর্মীরা। তাই সাংসদ পরিবর্তন হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু এখন তাঁরা বলছেন, বর্তমান সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ আগের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, বালুমহাল দখল, জমি দখলসহ সব অপকর্মের অভিযোগের আঙুল তাঁর অনুসারীগোলন্দাজ বাহিনী দিকে।

অক্টোবর গফরগাঁও যান এই প্রতিবেদক। শুরুতেই স্থানীয় লোকজন সাবধান করেন, সাংবাদিক এসেছেন জানতে পারলেগোলন্দাজ বাহিনী হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে। রাতে কোনোভাবেই গফরগাঁওয়ে না থাকার পরামর্শও দেন তাঁরা। অগত্যা ময়মনসিংহ থেকে গফরগাঁওয়ে যাতায়াত করে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। দিনে গিয়ে উপজেলার রসুলপুর, বারবাড়িয়া, সালটিয়া যশরা ইউনিয়নে সাংসদের অনুসারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার নয়টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের আবার নির্যাতন করা হবে। একটি পরিবারের সদস্যরা জানান, একবার তাঁরা একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে অস্ত্রের মুখেতাঁদের সঙ্গে কিছু হয়নি’—এমন লিখিত বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন সাংসদের অনুসারীরা।

নির্যাতনের শিকার গফরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী কায়সার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আর দেশে কোথাও আছে বলে মনে হয় না। নুন থেকে চুন খসলেই পিটিয়ে এলাকাছাড়া করা হচ্ছে। সরকারি যেসব উন্নয়ন প্রকল্প আসছে, সেগুলোর যথাযথ কাজ হচ্ছে না। সাংসদের লোকজন ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছেন। কায়সার আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, আমাদের দলের সাংসদের সঙ্গে বিএনপির লোকজনও রাজনীতি করতে পারেন। কিন্তু দলীয় লোকজন অত্যাচারিত হয়ে এলাকাছাড়া হচ্ছেন।

এলাকাছাড়া হয়ে এখন ময়মনসিংহ শহরে থাকেন উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন। তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকও। প্রথম আলোকে জাহিদ জানান, ২০১৬ সালের সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু সাংসদ তাঁকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে দলের মনোনয়ন পাইয়ে দেন। তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত হন। সাংসদের অনুসারীরা তাঁকে তাঁর পরিবারকে হত্যার ভয় দেখানো শুরু করেন। পরিবার নিয়ে এলাকা ছাড়েন। এখন পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জায়গাজমি বিক্রি করে শহরে সংসার চালান তিনি।

একই অবস্থা রসুলপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মইনুল হকের। মনোনয়ন না পেয়ে তিনিও স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাংসদের অনুসারীরা জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল করে তাঁকে পরাজিত করেন। তাঁর লোকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। বাড়িতে হামলা হয়। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফরহাদ ছাত্রলীগের রাউনা ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শাওন হাসনাত সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদের অনুসারী। ফরহাদকে ২০১৫ সালে মারধর করেন গোলন্দাজের অনুসারীরা। এরপর বাবামা, ভাইবোনসহ ১৫ সদস্যের পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। ফরহাদ বলেন, ‘চাচার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য একবার বাড়ি গিয়েছিলাম। সাংসদের অনুসারীরা বাড়ি ঘেরাও করলে কোনোরকমে পালিয়ে চলে আসি।শাওনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক অভিযোগ করেন, ফাহমি গোলন্দাজ সাংসদ হওয়ার পর থেকে তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন সময় এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছেন। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর রাতে যশরা বিহারি মোড় বাজারে হামলাভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওবায়দুল আনোয়ারের সঙ্গে রাজনীতি করেন বলে গোলন্দাজের অনুসারী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান এবং মাহমুদুল হাসান ওরফে জায়েদের নেতৃত্বে একদল লোক ১০টি দোকানে ভাঙচুর লুটপাট করে। সময় বাজারসংলগ্ন আরও ৬টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

যশরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর তিনটি দোকানের সব কটি ভাঙচুর করা হয়। মো. মুস্তাকিন নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, বাজারে তাঁর মুদিদোকান ছিল। ওপরের টিনের চাল ছাড়া বাকি সবকিছু ভেঙে অনেক মালপত্র নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সময় তাঁর নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বোনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহমুদ হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে ফাহমি গোলন্দাজের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, সেদিন ওবায়দুল আনোয়ারের লোকজন হামলা করেছিলেন। বাজারে তাঁর দোকানও ভাঙচুর করা হয়। তিনি গফরগাঁও থানায় মামলা করেছেন। আতাউর রহমান বলেন, তাঁর নেতা ফাহমি গোলন্দাজ কখনো হামলা বা ভাঙচুরের শিক্ষা দেননি। তাই এসব করার প্রশ্নই ওঠে না।

জানতে চাইলে ওবায়দুল আনোয়ার বলেন, পাঁচ বছর ধরে সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ গফরগাঁওয়ে যে অত্যাচার, নির্যাতন দুর্নীতি করেছেন, তা থেকে দলের মানুষ এখন মুক্তি চায়। স্থানীয় পুলিশও সাংসদ নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে মারধর বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মামলা করতে চাইলেও পুলিশ নেয়নি। উল্টো তাঁর (ওবায়দুল) লোকজনের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। কর্মীদের বাড়িঘর দোকানপাট ভাঙচুরের ছবি তিনি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে (এসপি) দিয়েছেন। এসপি বিষয়টি দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গফরগাঁওয়ের দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সপ্তাহখানেক হলো কাজে যোগ দিয়েছি। মামলা করতে এসে মামলা করতে পারেনি এরকম কোনো তথ্য জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে থানা মামলা নেবে।

নিজ দলের লোকজনের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজের সঙ্গে কথা বললে অভিযোগকারী ব্যক্তিদের নাম জানতে চান তিনি। এলাকাছাড়া কয়েকজনের নাম বললে তিনি প্রথমে দাবি করেন, ‘এরা সবাই এলাকায় আছে। কিন্তু আমাকে হেয় করার জন্য বাইরে আছে বলে দাবি করছে।প্রায় ২১ মিনিটের আলাপে সাংসদ ফাহমি একপর্যায়ে বলেন, এদের ছেলেমেয়েরা ময়মনসিংহে লেখাপড়া করে বলে তারা সেখানে থাকে।

একে একে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য জানানো হলে সাংসদ একপর্যায়ে বলেন, ‘প্রথম আলোর কাজ হচ্ছে সব সময় আওয়ামী লীগের যারা জনপ্রিয় এমপি আছে, তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করে বিতর্কিত করা।এলাকার দলীয় লোকজনই তো আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো করেছেন কথা বললে সাংসদের গলা চড়ে যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘যারা জনপ্রিয় ব্যক্তি আছে, তাদের বিরুদ্ধে লিখে আপনারা নির্বাচনের আগে বিতর্কিত করেন। আমি যদি সেই মিশনে পড়ি, তাহলে তো আপনি আপনার কথাই লিখবেন। আমার পক্ষে লিখবেন না।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক গফরগাঁওয়ের বিষয়ে কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। তবে গফরগাঁও এবং ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ ফাহমি গোলন্দাজ তাঁর অনুসারীদের অত্যাচারে দলের লোকজন যে এলাকাছাড়া, তা কেন্দ্রীয় নেতাদেরও জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহউদ্দিন সিরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাংসদের কারণে দলীয় লোকজনের এলাকাছাড়ার বিষয়টি আমরা জানি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে।সাংসদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না, বা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সবার নজরেই আছে।তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

 

 

Categories
আইন ও অপরাধ ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ এখন রক্তাক্ত জনপদ।

                                     ঢাকা, সোমবার, ০১ অক্টোবর ২০১৮ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ

রক্ত ঝরছে। লাশ পড়ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে ঝকঝকে অবৈধ অস্ত্র। পেশাদার অপরাধী ছাড়াও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এখন সশস্ত্র কিশোর গ্যাং। খুনের পর লাশ কেটে কলিজা ও ফুসফুস বের করে গডফাদারকে উপহার দেওয়ার মতো পৈশাচিক ঘটনায় আতঙ্ক চারদিকে। খুন রক্ত আর অস্ত্র—সব মিলিয়ে ময়মনসিংহ এখন রক্তাক্ত জনপদ। সরেজমিন জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় উত্থান ঘটেছে শীর্ষ সন্ত্রাসীর একাধিক গ্রুপের, যাদের বিরুদ্ধে জনগণ মুখ খোলার সাহস পায় না। মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি আর রাজনৈতিক ক্যাডার ও উঠতি অপরাধীদের গ্যাংস্পট হয়ে উঠেছে আকুয়া এলাকা। নানা নামে গড়ে ওঠা অন্তত দুই ডজন গ্রুপের দৌরাত্ম্যে পুরো ময়মনসিংহ কাঁপছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে রহস্যজনকভাবে সম্মোহিত করে অবাধে চালানো হচ্ছে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ বেআইনি কর্মকাণ্ড। অস্ত্রবাজ গ্রুপগুলো আধিপত্য বিস্তার করতে গুলি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখছে। তারা প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে নিজেদের ভয়ঙ্কর অবস্থান জানান দিতে চালাচ্ছে গুলি। মামলা দিতে চাইলে বাড়িঘরে উঠে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বজনদের হত্যা, গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফী শাওন (২৮)। ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে নগরীর মৃত্যুঞ্জয়ী স্কুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। এর ১১ দিন পর তিনি মারা যান। ঘটনার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি তাকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি।

৩১ জুলাই আকুয়া এলাকায় প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সদস্য সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ ওরফে আজাদ শেখকে (৩৩)। প্রথমে দুই রাউন্ড গুলি এবং পরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এক হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক হত্যাকাণ্ড। এমন অবস্থায় জেলার নাগরিক সমাজ মনে করছে, ধীরে ধীরে সন্ত্রাসীর শহর হয়ে উঠছে ময়মনসিংহ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার না করাতেও উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। নিহত আজাদের সদ্য বিধবা স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু (৩২) ও আজাদের হতভাগ্য মা সুফিয়া খাতুনসহ (৫০) স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, এক সপ্তাহ আগে খুনিরা হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘আজাদ আমার মহল্লায় বাস করেও অন্য গ্রুপের রাজনীতি করে কোন সাহসে? আজাদ শেখের কলিজাটা কত বড়, সেইটা আমি দেখতে চাই।’ এ হুমকির পর থেকেই সকাল-বিকাল বিভিন্ন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা আজাদ শেখের বাড়ি চড়াও হয়ে ককটেল-বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। রাত হলেই দফায় দফায় হানা দিত থানা পুলিশ আর ডিবির টিমগুলো। এর মধ্যেই ৩১ আগস্ট দুপুরে আজাদ শেখ চুপিসারে নিজ বাড়িতে ঢুকতেই অজ্ঞাত গ্রুপের সদস্যরা আকুয়া হারুন ব্যাপারী মোড়ের বাড়িতে হানা দেয়। জীবন রক্ষার জন্য আজাদ শেখ বাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়াতে থাকেন।

নাজির বাড়ি মসজিদের কাছে তার ওপর গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যেতেই সেখানে বন্দুক, পিস্তল ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অর্ধশত সন্ত্রাসী তাকে ধরে পাশেই জুবিলি কোয়ার্টার বিহারি ক্যাম্পের উল্টো দিকের গলিতে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা সেখানে ধারালো ছুরি দিয়ে আজাদ শেখকে জবাই এবং পেট ও বুকে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার দেহ থেকে কলিজা ও ফুসফুস বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে সেই কলিজা আর ফুসফুস তাদের গডফাদারকে উপহার দিয়ে আসে খুনিরা।

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার : বৃহত্তর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুরের সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ময়মনসিংহে ঢুকছে অবৈধ পিস্তলসহ ক্ষুদ্র অস্ত্র। মেইড ইন ইউএসএ লেখা এসব পিস্তল ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ চক্র ভারতের তৈরি করা ফাইভ স্টার পিস্তল আমদানি করে থাকে সবচেয়ে বেশি। সীমান্তে খুব একটা ধরা না পড়লেও ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশ থেকে প্রায়ই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর জানা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বীকার করেন, চোরাচালান হয়ে আসা অস্ত্রের তুলনায় আটক হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ অনেক কম। চোরাচালানে আসা অবৈধ অস্ত্রের যে পরিমাণ ময়মনসিংহে থেকে যায়, তা-ই

ময়মনসিংহকে অশান্ত করে রাখে। অবৈধ অস্ত্রধারীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তারা বলেন, অস্ত্র চোরাকারবারিরা সাধারণত একসঙ্গে একটা-দুইটার বেশি অস্ত্র বহন করে না। ফলে সীমান্তের যে কোনো দিক দিয়েই আসা-যাওয়ার সুবিধাটা ব্যবহার করতে পারে তারা। আকারে ছোট হওয়ায় চোরাই পথে এসব অস্ত্র আনা-নেওয়া সহজ হয় এবং সহজে লুকিয়ে রাখা যায় বলে ব্যবহারকারীরাও এসব অস্ত্র বেশি পছন্দ করে। ময়মনসিংহে অস্ত্রের বাজার আছে এ কথাটা এখানে বেশ আলোচিত। তবে এই বাজারে

কীভাবে কেনাবেচা হয়, তা জানা নেই বেশির ভাগ মানুষের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত দালালরা ক্রেতা ও বিক্রেতার যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়। বিক্রেতারা মাল দেওয়ার আগেই টাকা আদায় করে নেয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চোরাচালান সামগ্রী আটক করা হলেও অস্ত্র আটক হয় খুবই সামান্য। ময়মনসিংহে র‌্যাব-১৪ সদস্যরা শহরতলি থেকে নজরুল নামের এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। এর কয়েক দিন আগে ময়মনসিংহের জেলা ডিবির সদস্যরা

আবিষ্কার করেন অস্ত্রের কারখানা। ময়মনসিংহের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশের অন্য সব জেলা শহরের তুলনায় ময়মনসিংহের সন্ত্রাসীরা অনেক বেশি সশস্ত্র। প্রায়ই এখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যায়। সারা দেশের মতো ময়মনসিংহের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। রাজনীতিবিদরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এ কাজ করেন। অস্ত্রধারীরাও ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা চালানোর কাজে

রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে। ময়মনসিংহে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন অভিযানে সম্পৃক্ত থাকা র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও স্বীকার করে জানিয়েছেন, গত দুই বছরে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর বেশির ভাগই ছিল নতুন চকচকে। ময়মনসিংহের জেলা পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে বিভিন্ন অভিযানে ভাঙাচোরা, পুরনো এবং দেশে তৈরি পাইপগান মার্কা অস্ত্রশস্ত্রই বেশি পাওয়া যেত। কিন্তু ইদানীং সন্ত্রাসীদের হাতে উঠে এসেছে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন আর্মস।’ তিনি জানান, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে প্যাকেটজাত এ অস্ত্রশস্ত্র এনে দেশজুড়ে ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে।সূত্র:বিডিপ্রতিদিন

Categories
ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ পৌরসভার আয়োজনে এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে বিদায় সংবর্ধনা।

দ্যাটাইমসঅফবিডি.কম: ঢাকা -বৃহস্থপতিবার -০৯ আগস্ট ২০১৮ : ২৫ শ্রাবণ ১৪২৫

আনিসুর রহমান ফারুক, ময়মনসিংহ প্রতিনিদি:- ময়মনসিংহ জেলার সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নূরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম কে বদলী জনিত কারনে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে ময়মনসিংহ পৌরসভা।

বুধবার (৮আগষ্ট) বিকেলে নগরীর শহীদ শাহাবউদ্দিন মিলনায়তনে ময়মনসিংহ পৌরসভার উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্টিত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদায়ী পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, একটা সময় ছিল যখন থানাগুলোতে দালালের কারণে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারত না। আমি আসার পর থানাগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করেছি। সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে তাদেরকে পুলিশের কাছাকাছি নিয়ে এসেছি। সবার সহযোগিতা পেয়েছি বলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, চাকরি জীবনে আমার সবচেয়ে বেশি প্রাপ্তি ময়মনসিংহ জেলাতেই। আমি কখনই ময়মনসিংহবাসীর ভালোবাসা ভুলতে পারব না।আমি আসার পর মূলত জঙ্গি, মাদক ও জনহয়রানী বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পুরোপুরি না পারলেও কিছুটা হয়তো সকলের সহযোগীতায় নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

আমি যেখানেই থাকি সারাজীবন পৌরসভার দেয়া এ সংবর্ধনা আমার মনে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন,আমি বুঝতে পারি নাই,এভাবে আমাকে ময়মনসিংহ পৌরসভা সংবর্ধিত করবে।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ পৌরসভার জননন্দিত মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্ব মো:ইকরামুল হক টিটুর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্যানেল মেয়র-২ মো: নজরুল ইসলাম,পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা, সচিব আব্দুল হালিম, নাগরিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন, কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান,আলহাজ্ব গোলাম রফিক দুদু, পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলরবৃন্দ,সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

অনুষ্টানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র টিটু বলেন,একজন পুলিশ সুপার হয়েও বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সকলকে আপন মনে নিয়ে কাজ করে গেছেন।আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে পুরোপুরি না পারলেও সকলের সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা করেছেন।একজন পুলিশ সুপার হয়ে সকলকে নিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন রাখার প্রচেষ্টা নিয়ে কাজ করেছেন।আমরা পৌর পরিষদ এ পুলিশ সুপারের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলামকে সংবর্ধনা স্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডাঃ এইচ কে দেবনাথ ও সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আমিনুল ইসলাম  জাহাঙ্গীর।#

Categories
আমার ক্যাম্পাস ময়মনসিংহ

জাককানইবি অর্থনীতি বিভাগে প্রথম অ্যালামনাই ও পুনর্মিলনী।

দ্যাটাইমসঅফবিডি.কম: ঢাকা -শনিবার -০৪ আগস্ট ২০১৮ : ২০ শ্রাবণ ১৪২৫

সজীব আহমেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে তথ্য সংগ্রহ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন এবং প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ অাগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. রশিদুন নবী, প্রফেসর ড. মোঃ সাহাবউদ্দিন বাদল, প্রফেসর এমদাদুল হুদা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি তপন কুমার সরকার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর, প্রমূখ।

অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যথেকে বক্তব্য রাখেন, সায়েম হাসান (বিসিএস শিক্ষা), তৌহিদুল ইসলাম (বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক), মিনহাজ উদ্দিন ও লায়লা আক্তার (শিক্ষক শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়), প্রমূখ।

Categories
ময়মনসিংহ

বাকৃবি তে ছাত্রলীগের হল কমিটি অনুমোদন হওয়ায় আনন্দ মিছিল।

বাকৃবি প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রদের ৮টি আবাসিক হলে ছাত্রলীগের হল কমিটি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী ও সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যািলয়ের শহীদ জামাল হোসেন হল, ঈসা খাঁ হল, শাহজালাল হল, শহীদ নাজমুল আহসান হল, শহীদ শামসুল হক হল, আশরাফুল হক হল, ফজলুল হক হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে ছাত্রলীগের হল কমিটি দেওয়া হয়েছে।

নতুন হল কমিটি দেওয়া উপলক্ষে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের কার্যালয় থেকে এক আনন্দ মিছিল বের করা হয়। আনন্দ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শাখা ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল ইউনিট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেলসহ নবগঠিত বিভিন্ন হল কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

সমাবেশে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী বলেন, “আগামি নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে হল কমিটি গুলো দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের হল কমিটি এখনো দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই মেয়েদের হল কমিটি দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের হল কমিটি আরো অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে।