Categories
রাজনীতি

সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের কমিটি

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্রলীগের সব ইউনিট কমিটি পূর্ণগঠন ও পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে উপ-মহাদেশের প্রাচীন সংগঠন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, থানার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার তাগিদ অনুভব করছে দলটি। ঐক্যবদ্ধ কর্মী সৃষ্টি করতে,রাজনৈতিক প্রয়োজনে ডাক দিলে এক ঘণ্টার নোটিশে যেন হাজার নেতা কর্মী রাজপথে নেমে আসতে পারে সেই তাগিদ থেকেই আ.লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোকে সক্রিয় রাখতে নতুন কমিটি গঠন ও গঠিত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে যাচ্ছে দলটি।

গতকাল এসব কমিটি গঠনে জোরালো দাবি তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও।

বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ দাবি জানান।

নানক বলেন, শেখ হাসিনা যখন দেশের মানুশের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে তখন তার জীবনে হুমকির মুখে পড়বেই।

স্বার্থান্বেষীরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে প্রতিনিয়ত। ছাত্রলীগের কর্মীদের যেমন সেগুলো নজর রাখতে হবে। তেমনি ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালানো সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের ষড়যন্ত্র থেমমে নেই, বর্তমানে সুশীলের রূপ ধরে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন তারা এখনও দেখে। ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সচেতন থাকতে হবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জিয়া রহমান ও খন্দকার মোস্তাক একই সত্তা। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে ইনডেমনিটি অ্যাক্ট জারি করে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সবাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে উল্লেখ করে সেটি প্রতিরোধে ছাত্রলীগকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ।

কেন্দ্রিয় নেতাদের এ বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে দলটি।গতকাল ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন পর্দার আড়ালের গভীর চক্রান্তের কথা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এসব ঘটনাকে সংকট বলে মনে করছেন।শেখ হাসিনা’র জীবন নাশ ও তার সরকারের পতনের পর্দার আড়ালের গোয়েন্দা তথ্য এবং নীলনক্সাও রয়েছে সরকারের হাতে।

এসব নানাবিধ কারনে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব কমিটিসমুহকে পূর্ণাঙ্গ করে রাজপথ দখল ও জাতিয় রাজনীতিতে নিজেদের সামর্থের জানান দিতে সক্রিয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে আ.লীগ।

কমিটি গঠনের বিষয়ে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি গুলো আগে করব। তিনি জানান,দ্রুত সব কমিটি গঠন করা হবে।

Categories
নিউজ কর্নার রাজনীতি

পররাষ্ট্রনীতির কারণেই শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছে

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন: যারা বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কারণেই শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে ৩এ প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

১৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার কথা তুলে ধরে নানক বলেন: সে সময় আমরা প্রতিবাদের ডাক পাইনি। আমরা প্রতিরোধের ডাক পাইনি। আমরা যুদ্ধের ঘোষণা পাইনি। একটি নেতার অভাবে। সেদিন নেতৃত্বের মধ্যে ভীরুতা, কাপুরুষতা, দোদল্যুমানতা এবং আপোষকামীতার কারণে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকার্মীরা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে, আহাজারি করেছে।

‘কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ, সেই মুজিব আদর্শের কর্মীরা প্রমাণ করে দিল এক-এগারোর সময়।এই নগর আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করেছিলেন, প্রতিরোধ করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন: নেত্রীকে গ্রেফতারের সাথে সাথে আপনারা হুঙ্কার দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। তাই সেই শক্তি এক-এগারোর অপশক্তি; তারা শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে রাখতে পারেনি। মহানগর নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সংগঠনের কোন বিকল্প নেই।

নানক বলেন: মনে রাখতে হবে, ৭৫’র ১৫ আগস্ট যারা ঘটিয়েছিল, একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ, পাকিস্তানী গোষ্ঠী; তারা চুপ করে বসে নেই। কারণ একাত্তরে যে রাজাকার, আলবদর, আলশামস পরাজিত হয়েছিল তারা চুপ করে বসে ছিল না। আমরা তাদের সেই ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারিনি। সেদিন আমাদের দলের ভিতরে আত্মকলহ ছিল। সেদিন ছিল ভাইয়ের রাজনীতি। আর সেই আত্মকলহ থাকার কারণে আমাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতির ছোবলে জাতিকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য বলেন: দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা; অনেকে সন্দেহ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলে, পৃথিবীর অনেক দেশের নাম বলা হতো, তারা নাকি উল্টে-পাল্টিয়ে দেবে? কিন্তু শেখ হাসিনা এমন এক নেত্রী তিনি জনগণের ভিত্তির উপর রাজনীতি করেন।

যোগ করেন: তাই যারা বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। মির্জা ফখরুল সাহেব; আওয়ামী লীগ সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মানে না বলেই শেখ হাসিনা আজ শুধু বাংলাদেশের নেতা নয়, বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখন মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক মির্জা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশে আরও বলেন: আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। মানবতার নেত্রী এই ১০ লাখকে সেদিন যদি আশ্রয় না দিতেন তাহলে নাফ নদীতে মানুষগুলির আত্মাহুতি দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। সেদিন বিশ্ব মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইনশাল্লাহ, শেখ হাসিনার চৌকষ ও বিচক্ষণ পররাষ্ট্রনীতির কারণে এই রোহিঙ্গারাও ফেরত যাবে। কোন রাজনীতি করার সুযোগ আপনাদের দেয়া হবে না।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন: আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে, ৭৫’র হত্যাকাণ্ডের সাথে খলনায়ক জিয়াউর রহমানসহ যারাই জড়িত আছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য অবিলম্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিশন গঠন করে সকল তথ্য উদঘাটন করে জাতিকে জানানো।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম মান্নান কচি।

Categories
রাজনীতি

দলীয় প্রতীকেই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে বলে গত ২ দিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরগরম চলছিল এমন নিউজ।  সাবেক ছাত্রনেতা জুবাইদুল হক রাসেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে এমন তথ্য শেয়ার করলে মুহুর্থে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানান, দলীয় প্রতীকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। দলীয় প্রতীক ছাড়া এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। আসন্ন সিটি, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকেই হবে বলে তিনি জানান।

 

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই আইন পরিবর্তন করা যায় না। এখানে অনেক কিছু সিদ্ধান্তের ব্যাপার থাকে। আসন্ন পৌরসভায় দলীয় প্রতীক বাতিল করতে হলে অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেমন- ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনও বাতিল করতে হবে।

সুতরাং সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়ার ব্যাপারে কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে প্রচারণা চলছে তাকে ‘রীতিমতো’ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো গুজব শুরু হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী যেমন বিষয়টি, তেমনি দলীয়ও বিষয় থাকে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।

Categories
রাজনীতি

ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

আওয়ামী লীগ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে পুরানো এবং সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল, যে দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে এ দলটিই সর্বোচ্চ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, আর স্বাধীনতার মহান সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়।

এটি যেমনি দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয়, তেমনি আওয়ামী লীগের জন্যও ইতিহাস হয়ে রইলো, কিন্তু আশঙ্কা এবং ভীতির বিষয় হচ্ছে, দলের এই সুবর্ণ সুসময়ে ব্যক্তিপর্যায়ে যেমন অনেক সুযোগসন্ধানী এবং সুবিধাবাদীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে দলটিতে, তেমনি দলের বা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে অসংখ্য ভুঁইফোঁড় সংগঠনের জন্ম হয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের সংখ্যা হবে শতাধিক!
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেসব সংগঠনের কোনো বৈধতা নেই, সমগ্র বাংলাদেশে এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠন আছে অনেক।
অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সহযোগী সংগঠন হচ্ছে মাত্র (৯) নয়টি।

এর বাইরে অন্য যা কিছু হবে সবই ধান্দাবাজি ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এদের কাজই হচ্ছে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, তদবির করা ও বিভিন্নভাবে সুবিধা নেয়া। অথচ দল বিরোধী দলে থাকাকালীন বা দলের দুঃসময়ে এদের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া ছিলো দুষ্কর।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সহযোগী সংগঠন হচ্ছে নয়টি। যা দলের গঠনতন্ত্রের ২৫-এর (২) ধারাতে ‘সহযোগী সংগঠন’ শিরোনামে উল্লেখ রয়েছে। সে (০৯) নয়টি সংগঠন হচ্ছে–

(গঠনতন্ত্রের ধারায় ক্রমানুসারে

০১. বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ
০২. বাংলাদেশ কৃষক লীগ
০৩. বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
০৪. আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ
০৫. আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ
০৬. বাংলাদেশ তাঁতীলীগ
০৭. বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ

আর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন (০২) দুটি তাদের স্ব-স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে।

০৮. জাতীয় শ্রমিক লীগ
০৯. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের উক্ত ২৫-এর ২ ধারাতে এভাবেই উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু সারাদেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলাতে ভূঁইফোড় সংগঠন খোলে লাখ লাখ টাকার অর্থ বানিজ্য করে যাচ্ছে একটি চক্র।

যেসব সংগঠনের নামে কমিটি বানিজ্য করা হয় : আওয়ামী তরুণ লীগ, রিক্সা শ্রমিক লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মোটর শ্রমিক লীগ, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী ওলামা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, পরিবহন শ্রমিক লীগ, অটোরিক্সা শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ ইত্যাদি।

এসব সংগঠনের নেতৃত্বে যাদের দেখা যায়, তাদের পরিবারের বর্তমান বা পূর্বপুরুষদের কেউ আওয়ামী লীগ করেছে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
তারপরও এখন যারা এসব সংগঠন করছে, তাদেরকেও যদি বিগতদিনে দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দেখা যেতো তাতেও হয়তো কারো তেমন কোনো আপত্তি থাকতো না।
কিন্তু দেখা গেলো যে, এদের কারো ১৯৯৬ সালে আবার কারো ২০০৯ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নাম ব্যবহার করে এরা চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও তদবির বাণিজ্য করে থাকে।

অনেকে সরকারি জমি দখল এবং অবৈধ ব্যবসা বেশ রমরমাভাবে করছেন।
এসব দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এরা প্রশাসন থেকে সুবিধা এবং আনুকূল্য পেয়ে থাকে।
দেখা গেছে যে, মাঠপর্যায়ে এরাই সাধারণ মানুষের উপর নানাভাবে অত্যাচার, নির্যাতন এবং হয়রানি করে থাকে।

এদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে চিন্হিত করে এর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া বলে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক সভাপতি মন্ডলির সদস্য জানান, ভুঁইফোড় সংগঠনগোলোর হওয়ার মূল কারন ছাত্রলীগ সহ অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর ইউনিয়ন-উপজেলায় দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়াতে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে নয়টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে, এর বাইরে অন্য কোনো ভুঁইফোঁড় সংগঠনকে যেনো দলের কেহ প্রশ্রয় না দেয়।

Categories
রাজনীতি

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন: চলছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার প্রতিযোগিতা

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন: চলছে আ.লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে পোস্টার প্রতিযোগিতা

গাজীপুর জার্নাল ডেস্কঃ

    ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে পোস্টার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। 

এ নির্বাচনি এলাকার রাস্তা-ঘাট, উল্লেখযোগ্য মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ছেয়ে গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ‘শুভেচ্ছা বার্তা’ আর সমর্থকদের ‘অমুক ভাইকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই’ পোস্টারে।

এর পাশাপাশি সমানতালে যে-যার জায়গা থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন তদবির-লবিং। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রচারণা শুরু হয়েছে এ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রয়াণের দিন থেকেই।

যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে যেমন কোনও তৎপরতা শুরু হয়নি, তেমনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগেও নেই কোনও ভাবনা-চিন্তা। কিন্তু জোরসে চলছে মনোনয়ন প্রার্থীদের ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের কোনও তৎপরতা নেই, নেই কোনও আলোচনা। এ নিয়ে দলীয় ফোরামে বা অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও কোনও কথা হয়নি এখন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এর কোনও আলামত নেই। দলের কোনও পর্যায়ে এ নিয়ে কথা হয়নি।’

দেখা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়েও নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৫ আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

একই সঙ্গে বড় বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিসহ সব স্থান পোস্টারের দখলে। আর এর বাইরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ নিজ পছন্দের সম্ভাব্য নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সমর্থকরা।

ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকায় দেখা গেছে, এই আসনে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বড় ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল মনোনয়ন চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। সাঁটিয়েছেন ব্যানারও।

জাতির জনক ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবির পাশাপাশি তার ছবি শোভা পাচ্ছে এসব পোস্টার-ব্যানারে।

সজল গণমাধ্যমকে জানান, তার বাবার শূন্যস্থানে তিনি কাজ করতে আগ্রহী। দলে অবদান, ত্যাগ ও এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে দল এ আসনে প্রার্থী মনোনীত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, দলের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই।’

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ মুন্না। তার কর্মী ও সমর্থকরা ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়েছেন।

তারা পোস্টারে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে হারুনর রশিদ মুন্না ভাইকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।’

ঢাকা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি। তার পক্ষে মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানায় পোস্টার টাঙিয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা।

‘কামরুল হাসান রিপন ভালো লোক/ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে জয়ের মালা তারই হোক’ শীর্ষক ব্যানার-ফেস্টুনেও ছেয়ে আছে এই এলাকার রাজপথ।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান হাজী আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সভাপতি ও যাত্রাবাড়ীর আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাকিব ভূঁইয়া।

ইতোমধ্যে ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকার অলিগলি ছাড়িয়ে রাজপথের দুইধারে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে তার সমর্থকদের সাঁটানো নির্বাচনি পোস্টার।

এছাড়া ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ।

মাসুদের কর্মী-সমর্থকরা তার মনোনয়ন চেয়ে ঢাকা-৫ আসনে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়ে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খান মাসুদ ভাইকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই।’

এছাড়া একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মুন।

এলাকার অলিগলিসহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের ছোট ভাইয়ের মেয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি।

ইতোমধ্যে তার কর্মী-সমর্থকরা পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে লিখেছেন, ‘ঢাকা-৫ আসনে মাতুয়াইলের কৃতী সন্তান নেহরীন মোস্তফা দিশি আপাকে এমপি হিসেবে দেখতে চাই।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কোনও আসন শূন্য হলে সেটাতে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা নানা মাধ্যমে তা প্রকাশ করবে, সেটাই স্বাভাবিক।

তবে, নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে বা তফসিল ঘোষণা করার পরই দল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানায় এবং সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে।

নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে এবারও নিশ্চয় সেই প্রক্রিয়া-ই অনুসরণ করা হবে।’

গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রয়াণে এ নির্বাচনি আসনটি খালি হয়। পরে গত ২০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-৫ ও পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া করোনাকালে অনুষ্ঠিত অন্যান্য উপনির্বাচনের মতো সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনও পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আলমগীর।

কিন্তু এখনও এসব আসনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও নির্বাচনী মাঠে সরোব ও সক্রিয় অসংখ্য সম্ভাব্য প্রার্থিরা।

Categories
রাজনীতি

খালেদার মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে ত্রিমুখী চেষ্টা

নিউজ ডেস্কঃ

 বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে ত্রিমুখী চেষ্টা চলছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর সুযোগ চেয়ে আবেদন করা হবে।

এছাড়া স্থায়ী জামিনের বিষয়ে দলের আইনজীবীরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। পাশাপাশি একই দাবিতে প্রয়োজনে দলীয়ভাবেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে পারে বিএনপি।

টানা ২৫ মাস কারাভোগের পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

সেই হিসেবে আগামী মাসে তার মুক্তির ৬ মাস পূরণ হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের আবেদনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু খালেদা জিয়া করোনার মধ্যে মুক্তি পাওয়ায় তার চিকিৎসার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাজধানীর গুলশানের বাসায় একান্ত পরিবেশেই চিকিৎসকের পরামর্শে দিন কাটছে তার। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিতে চায় তারা।

কিন্তু মুক্তির সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসছে। তাই পরিবার ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

৭৭ বছর বয়সি খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কিন্তু সেখানে তার কোনো সঠিক চিকিৎসা হয়নি বলে বিএনপির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে পরিবারের ভাবনার বিষয়ে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই আবেদন করা হবে। তবে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার দলের স্থায়ী কমিটি ও আইনজীবী নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানের বাসভবনে দেখা করেন। সেখানে মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে দলীয় ও আইনি তৎপরতা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতে তার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়ার বিশেষ শর্তে মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হবে।

কারণ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ম্যাডামের যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই ওনার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দ্রুত সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।

কবে নাগাদ আবেদন করা হতে পারে- জানতে চাইলে খোকন বলেন, আবেদন করার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে আবেদন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে খোকন বলেন, ওনার চিকিৎসা তো বাংলাদেশেই হবে। যদি বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তখন আশা করি সরকার বিবেচনা করবে।

কারণ করোনা পরিস্থিতির কারণে বিএনপি প্রধান চিকিৎসা করতে পারছেন না, কোনো হাসপাতালেও যেতে পারছেন না। চিকিৎসকরা প্রতিদিন বাসায় এসে দেখছেন।

কিন্তু ইমপ্রুভ করছে না। আরও জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এখন চিকিৎসা বা টেস্ট করার জন্য হাসপাতালে যেতে হবে, কিন্তু হাসপাতাল ঝুঁকিপূর্ণ। ওনার যে বয়স সেজন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।

মুক্তির ৬ মাসের সময়সীমা প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে পরবর্তী কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি। সময় এলে আলোচনা হবে।

তবে খালেদা জিয়া এতই অসুস্থ যে, নিজের বাসার নিচে নামতে পারেন না, হাঁটতেও পারেন না। তার এখনো খাওয়া-দাওয়ায় সমস্যা, খেতেও সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন রকমভাবে। আসলে তার উন্নত চিকিৎসা যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে না। হাসপাতালেও যাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে তার শারীরিক অবস্থাটা ভালো না।

একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। তারাই তখন বিষয়টি মধ্যস্থতা করেছেন। এখন আবারও পরিবারের পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হবে।

ওই নেতা জানান, বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টি নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। কারণ এর আগেও খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর, লন্ডন এবং আমেরিকায় চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়েই চিকিৎসার কথা ভাবা হচ্ছে।

আর যেহেতু তার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন, তাই খালেদা জিয়া যদি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান তবে সেখানে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, সরকারের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রয়োজনীয় প্রামাণিক কাগজপত্রও চিকিৎসক টিমের কাছে চাওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই সেগুলো সংযুক্ত করে আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

এছাড়া স্থায়ী জামিন চাওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। দলের এক আইনজীবী জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এরই মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী দেখা করে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

খালেদা জিয়াকে তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৭ মামলার সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এই ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না। হাতের আঙুলগুলোতে সমস্যা ছিল, হাতটা বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তারপর হাঁটুর রিপ্লেসমেন্ট বিদেশে হয়েছিল। হাসপাতালে থাকাকালে ব্যথা ছিল, এখন আরও বেড়ে গেছে। পায়ের হাঁটুর যে রিপ্লেসমেন্ট সেটা মেইনটেনেন্স করার কোনো ব্যবস্থা নেই, চেকআপও করার ব্যবস্থা নেই। হাতের আঙুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করে। সবমিলে অসুস্থ খালেদা জিয়ার দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, টানা ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। শর্ত ছিল, এই সময়ে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন, যেতে পারবেন না দেশের বাইরে।

কিন্তু খালেদা জিয়া করোনার মধ্যে মুক্তি পাওয়ায় তার চিকিৎসার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগই নিতে পারেনি বিএনপি।

Categories
রাজনীতি

পাবনা-৪ আসনঃ প্রার্থি এক ডজন, কেন্দ্রের দৃষ্টি ৪ জনে

পাবনা-৪ আসনঃ প্রার্থি এক ডজন, কেন্দ্রের দৃষ্টি ৪ জনে

সদরুল আইনঃ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পাবনা জেলা আ.লীগের সভাপতি ৫ বার নির্বাচিত সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে শুন্য হওয়া পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের তফসীল আগস্ট মাসের শেষ সপ্তায় নির্বাচন কমিশন এমন ঘোষণায় দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছেন এখানকার সম্ভাব্য প্রার্থিরা।

ঈদ উৎসবের পূর্বেই প্রার্থিরা এলাকামুখি হয়ে যে যার মত জমাজমাট প্রচারণা,লবিং গ্রুপিং,দলে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতাসহ এলাকার উন্নয়নে দানের হাত প্রসারিত করে বহুমুখি তৎপরতা চালাচ্ছেন।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে দেড় ডজন নেতার নাম শোনা গেলেও মূখ্য আলোচনা ও কেন্দ্রের দৃষ্টিতে রয়েছেন ৪ জন,এমন তথ্য পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট আসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে।

নির্বাচন কমিশনের তফসীল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থিরা এখন এলাকায় এবং নেতারা কর্মী ও জনসমর্থন বাড়াতে নানামুখি কৌশল ও ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের এবং অা.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিজের পক্ষে টানতে নানা পন্থা অবলম্বন করছেন।

শেষ পর্যন্ত কে নৌকার হাল ধরতে পারবেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা, বিচার বিশ্লেষণ ও নানা সমীকরন।

গত ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে গত ১৩ এপ্রিল থেকে এই আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করে ইসি।

উল্লেখ্য, আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হওয়ার ঘোষণা হওয়ায় প্রার্থিরা মাঠে এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয়। ২৮ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচন হওয়ার আইনী বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও প্রয়াত এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এক ডজনেরও বেশি নেতা মাঠে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করলেও মূল আলোচনায় রয়েছেন ৪/৫ জন প্রার্থি।কেন্দ্রিয় দৃষ্টিও রয়েছে এদের দিকে, এমন দাবি করেছেন এখানকার নেতা কর্মিরা।

তাদের অনেকেই করোনাকালে অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ, করোনা প্রতিরোধে ব্যবহার্য মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি বিতরণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, মসজিদ মাদ্রাসায় দানসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিশেষ করে ঈদ ও ঈদ পরবর্তি নানাবিধ কার্যক্রম নিয়ে সরোব ও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই আসন থেকে লড়বেন এমন সম্ভাব্য প্রার্থিরা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসমর্থন বাড়াতে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন অনেকেই।দিন রাত সম্ভাব্য প্রার্থিদের ঘিরে রয়েছেন স্থানীয় নেতা কর্মিরা।তারা নানা কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে জনপ্রিয়তা বাড়াতে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছেন।

উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল আলিম, প্রয়াত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ,শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মেয়ে ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা মাহজেবিন শিরিন পিয়া, শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সহধর্মীনি ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন্নাহার শরীফ,হাইকোটের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু সরদার,জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস,ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ,জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক এমপি পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক বশির আহমেদ বকুল, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম রবি, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপন, ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন তুহিন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রকি প্রামানিক, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মাদ রশিদুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ড. মুসলিমা জাহান ময়না প্রমুখ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভিআইপি এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থি ওক ডজনের উপরে থাকলেও পাবনা জেলা অা.লীগ থেকে প্রেরিত তথ্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জরিপে কেন্দ্রের বিবেচনায় রয়েছেন ৫ জন প্রার্থি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও এলাকার নেতা কর্মিদের থেকে প্রাপ্ত সবশেষ অভিমত থেকে জানা গেছে, কেন্দ্র ও এলাকায় মূল অালোচনায় থাকা প্রার্থিরা হলেন,প্রয়াত ভূমিমন্ত্রীর স্ত্রী উপজেলা মহিলা অা.লীগের সভাপতি কামরুন্নাহার শরীফ,কেন্দ্রিয় মৎসজীবী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার অাব্দুল আলীম, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক এমপি পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

এর পরেই অবস্থান রয়েছে প্রয়াত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ, হাইকোটের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু সরদার ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস’র নাম।

ধারনা করা হচ্ছে, উল্লেখিত প্রথম চারজনের মধ্যে যে কেউ হতে পারেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর উত্তরসূরী।

ধারনা করা হচ্ছে, প্রয়াত ডিলু পরিবার থেকে ৪ জন প্রার্থি হওয়ায় এবং পারিবারিক দ্বন্দ্ব তাদেরকে উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পথে কাঁটা হয়ে দাড়াতে পারে।

এই পরিবারের বিষয়টি মনোনয়ন বোর্ড ও দল প্রয়াত ডিলুর দলের প্রতি স্বর্ণালী অতীতের কারনে বিশেষ বিবেচনায় নিলেও পারিবারিক দ্বন্দ্ব প্রকট থাকায় তাদের হাত থেকে ছিটকে পড়তে পারে দীর্ঘ বছরের ক্ষমতার মসনদ।

তাছাড়া দশম সংসদে এই পরিবারের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকান্ডে দল, সরকারকে যেমন বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল তেমনি তাদের অত্যাচার নির্যাতনে এই জনপদের মানুষের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ।

যোগ্য জনপ্রিয় প্রার্থি না থাকায় এই পরিবার থেকে এবার মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন ভোটাররা।

তবে কেন্দ্রিয় পরিচিতি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রীর অতীত অবদানকে বিশেষ বিবেচনায় নেবেন মনোনয়ন বোর্ড বিশেষ করে দলিয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

Categories
রাজনীতি

নিজ উদ্যোগে সারাদেশে দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে বিএনপি

কভিড-১৯ সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এরই মধ্যে সরকার অবশ্য শর্তসাপেক্ষে লকডাউন খুলে দিয়েছিল। সীমিতভাবে চলতে শুরু করেছিল সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম। তবে গতকাল থেকে রাজধানীতে এবং বৃহস্পতিবার থেকে দেশের রেড এলার্ট ঘোষিত অঞ্চল গুলোতে আবার লক ডাউন করা হচ্ছে। তবে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে প্রায় তিন মাস ধরে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “চলমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য লকডাউন খোলা হবে না।

তবে আমরা কিন্তু বসে নেই। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকেই নিজ নিজ সাধ্যমতো প্রায় দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছি আমরা। ভার্চুয়ালের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি মানুষের কাছে। দিবসভিত্তিক কর্মকান্ডও চলছে আমাদের। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীও আমরা পালন করেছি।

তবে সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে চরম ভুল করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। এতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। “

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব এখন নিরুপায়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কে কখন আক্রান্ত হয় বলা যায় না। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। দলীয় ফোরামে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের দেশেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। তাই সময় আরও বাড়ানো হতে পারে।”

জানা যায়, জনসমাগম এড়িয়ে দলীয় সভা-সমাবেশ স্থগিতের পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় কোনো শোডাউন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ২২ মার্চ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- “দেশব্যাপী বিএনপির সব পর্যায়ের চলমান কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ” এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করেন জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাফর আলী মিয়া। এক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহান্দার আলী জাহানের অনুমোদনও নেননি তিনি। পরে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রে অভিযোগ করলে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিএনপির হাইকমান্ড।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে সবকিছু করছেন
করোনার শুরুতেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। নেতা-কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে রয়েছে। হয়তো আমরা সাংগঠনিক কাজের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ, কমিটি গঠন করছি না। কিন্তু জনগণের পাশে থাকাও সাংগঠনিক কাজের অংশ।”

Categories
রাজনীতি

বোনের বাড়িতে রেখে বাচ্চা নষ্ট করেন এমপি এনামুল : লিজা

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী আয়েশা আক্তার লিজা। এমপির বোনের বাড়িতে রেখে সেই বাচ্চা নষ্ট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।

লিজা বলেন, ‘উনি (এমপি এনামুল) আমাকে ২০১৮ সালে বিয়ে করেছেন। আর বাচ্চাটা তার না? বাচ্চা যে তার, সেটার সকল ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে। সেগুলো আপনারা দেখতে পারেন। বাচ্চা যে তারই ছিল, সে যে নষ্ট করতে বলছে। সে নিজে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করাইছে। তার বোন আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিল।তিনি বলেন, ‘বাগমারার ডক্টর, যাত্রাগাছীতে নিয়ে গিয়ে আমার পেটের বাচ্চাটা নষ্ট করে তার বোন। রাজশাহী নগর ভবনের সামনে এমপি সাহেবেরই এনা প্রোপার্টির যে অফিসটা আছে, সেখানে তার বাসা। সেখানে তার ছোট বোন থাকতো, বেবি নাম। সেই বাসাতে থেকে, সেখানে আমার বেবিটাকে নষ্ট করা হয়েছে।’লিজা আরো বলেন, ‘প্রথমে এমপি সাহেব আমাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ক্লিনিকে বাচ্চা নষ্ট করতে চাইছিল। সেখানে রাজি হইনি বলে পরে এখানে থেকে করায়। আমি অ্যাবরশন করতে চাইনি বলে ওষুধ দিয়ে নষ্ট করছে। এমপি সাহেবের নিজের মুখের কথা, মেসেজের স্ত্রিনশর্ট সব আছে। আমি আপনাদের দিতে পারব।’স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়ার পর তাকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন লিজা। তিনি বলেন, ‘আমাকে এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দেওয়া হবে। কখনো বলছে, অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান দেবে। কখনো বলছে, ইয়াবা মামলা দেওয়া হবে। মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আসছে। আমি নাকি জেলে গিয়েছিলাম। দুই-তিনবার জেল খাটছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে একটা থানাতেও কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। নানা ধরনের বাজে কমেন্ট উনি ছড়াচ্ছে।নিজের মানসিক অবস্থার কথা বর্ণনা করে আয়েশা আক্তার লিজা বলেন, ‘আমি আজ সাতটা দিন ঘুমাতে পারি না আতঙ্কে। এই মনে হয়, পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মামলা দিয়ে চালান দেবে। কেউ গুলি করে আমাকে মেরে ফেলল। এতটা হুমকির মধ্যে… আমি নিরাপত্তা পাচ্ছি না।’এতদিন পর বিয়ের বিষয়টি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে আমাকে বলে, নির্বাচনের পর বিয়েটা প্রকাশ করবে। আমাকে বলেছিল, নির্বাচনের পর আমি তোমাকে সম্মান দেব, স্বীকৃতি দেব, বাচ্চা দেব। আমি তার জন্যই এতগুলো ত্যাগ স্বীকার করছি। এখন কেন আমি ব্ল্যাকমেইল করব? আমি যখন দেখলাম সে আমাকে আর স্বীকৃতি দিলো না। ৮টা বছর হয়ে গেল। তখন আমি গণমাধ্যমের কাছে গেছি।’টাকার ব্ল্যাকমেইল করছে বলে এমপি এনামুলের অভিযোগের বিষয়ে লিজা বলেন, ‘সে আমাকে একটা ম্যাসেজ দেখাতে পারবে না যে আমি তার কাছে চার-আনা চাইছি। বলতে পারবে না যে আমার জন্য সে কিছু করে দিছে। আমার তো কিছুই নাই। আমার জন্য সে কিছু করেনি। আমি কোনো কিছুর আশায় তাকে বিয়ে করিনি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।’পুলিশ তার অভিযোগ নিচ্ছে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সে একজন সংসদ সদস্য। কেউ আমার পাশে নেই। পুলিশ অভিযোগ নিচ্ছে না। আমি যতবার থানায় গেছি, ওসি আমাকে অ্যাভয়েড করেছে। বলছেন, আমি বাইরে আছি। বাধ্য হয়ে গতকাল আমি পুলিশ কমিশনার স্যারকে ফোন করেছিলাম। তিনি আমাকে বলছেন, এটা আপনাদের ব্যক্তিগত বিষয়। মামলা করতে চাইলে আদালতে যান। জিডি করতে চাইলে করেন থানায়। পুলিশ জিডি নেবে।’প্রসঙ্গত, আয়েশা আক্তার লিজার বাড়ি রাজশাহী নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায়। তিনি একজন নারী উদ্যোক্তা। তার অভিযোগ, কয়েক বছর আগে এমপি এনামুল হক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ও সম্পর্কে জড়ায়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর তারা ১১ মে ২০১৮ তারিখে রেজিস্ট্রি করেন। এর আগে তারা পারিবারিকভাবে বিয়েও করেছিলেন।

তবে এখন আর তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না এমপি এনামুল। বাধ্য হয়ে তিনি গেল কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরছেন। এরপর থেকে এমপি এনামুলের লোকজন তাকে হত্যা ও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।তবে এতদিন লিজা এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও চুপ ছিলেন এমপি। সোমবার তিনিও মুখ খুলেছিলেন। গণমাধ্যমে এমপি এনামুল বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মহিলাকে আমি ২০১৮ সালে বিয়ে করেছিলাম। ডিভোর্স করেছি গত মাসে। এখন কী বক্তব্য থাকতে পারে। এখন যেগুলো করছে, সেটা চাঁদাবাজির জন্য করছে।’

Categories
রাজনীতি

করোনার মধ্যে ৩ এমপির নৌবিহার

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী মোকাবিলায় দেশে কার্যত লকডাউন অবস্থা জারি রয়েছে। অফিস-আদালত বন্ধ। গণপরিবহন চলছে না। জনসমাবেশ নিষিদ্ধ। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে দীর্ঘ ছুটি।এর পরও এ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

এরই মধ্যে কয়েকজন সংসদ সদস্যও (এমপি) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মাঝেই কয়েকজন সংসদ সদস্য ও তাদের লোকজন একসঙ্গে নৌবিহার করলেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এই নৌবিহারে খুলনা যান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সেলিম আলতাফ জর্জ। তাদের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতা।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ বাংলা’কে বলেন, ‘আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) এই নৌ-ভ্রমণে যাই। এটা কোনো দলীয় বা ত্রাণ বিতরণের সফর ছিলো না। এটা একান্তই ব্যক্তিগত সফর।’

করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরণের সফর ঝুঁকি তৈরি করে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সরওয়ার জাহান বলেন, ‘না কোনো ঝুঁকির বিষয় নেই। আমার সবাই নিরাপদ দূরত্ব রজায় রেখে ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই ভ্রমণ করেছি। আমরা নৌকার মধ্যেও দূরত্ব বজায় রেখে বসেছি।’

যদিও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সংসদ সদস্যরা প্রায় গা ঘেঁষে বসে আছেন।

আরেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা’কে বলেন, ‘এটা জানানোর মতো কোনো বিষয় নয়। জানানোর মতো বিষয় হলে অবশ্যই জানাতাম।’ এই বলে ফোন কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৯২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৫৪৪ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ৯২৫ জন করোনা রোগী।